সাইফুল হক বলেন, যারা কালো টাকা ও পেশী শক্তি দিয়ে ভোটের বাক্স ভরতে চান, তারা সেসব দিনের কথা ভুলে যান। যারা মাস্তানি ও চাঁদাবাজি করে, তাদের ঢাকা-১২ আসনের জনগণ প্রত্যাখ্যান করবেন। ইনশাল্লাহ তারেক রহমানের ভালোবাসা ও কোদাল মার্কা নিয়ে বিপুল ভোটে জয়যুক্ত হব।
সিপিবির প্রার্থী তালিকায় দলটির বাইরের চারজন প্রার্থীও রয়েছেন। এর মধ্যে ময়মনসিংহ-১ আসনে গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির আজহারুল ইসলাম আজাদ ও মাদারীপুর-১ আসনে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক পার্টির আব্দুল আলী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এ ছাড়া সিপিবি-সমর্থিত প্রার্থী নিরব রবি দাস ও শিপন রবি দাস যথাক্রমে গাইবান্ধা-৫
এর আগে অস্থায়ী বেদীতে সিপিবিসহ বিভিন্ন সংগঠন পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে শ্রদ্ধা জানায়। সিপিবি সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তৃতা করেন সিপিবির সাবেক সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম ও মোহাম্মদ শাহ আলম, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আসলাম খান প্রমুখ।
সাইফুল হক বলেন, কোরআনের হাফেজ যারা, তারা আমাদের সমাজের নৈতিক দিশা প্রদর্শক। তারা কোরআনের আলো সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে দিয়ে মানবসেবায় নিজেদের নিয়োজিত করবেন— এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
কবর জিয়ারত শেষে তিনি বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন ও মোনাজাতে অংশ নেন। একইসাথে তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরও জিয়ারত করেন ও তার আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন।
ওয়ার্কার্স পার্টির পক্ষ থেকে জানানো হয়, তোপখানা রোডে তাদের দলীয় কার্যালয়টি অবৈধ দখলে থাকায় তারা নির্বাচনি কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছেন না, যা একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের অন্তরায়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য আকবর খান ও মীর মোফাজ্জল হোসেন মোশতাক, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সাইফুল ইসলাম ও সিকদার হারুন মাহমুদ, সংগঠক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন, যুবরান আলী জুয়েল, স্বাধীন মিয়া ও আরিফুল ইসলাম আরিফ।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ থেকে আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার মন্ত্রিসভার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে দেওয়া দণ্ডকে প্রশ্নবিদ্ধ উল্লেখ করে বিবৃতিতে জাসদ বলছে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, চরিতার্থ করার জন্য অসাংবিধানিক সরকারের ট্রাইব্যুনালের সাজানো মামলার
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ বারবার স্বৈরাচারী শাসনের কবলে পড়েছে। দেশের মানুষ বুকের রক্ত দিয়ে স্বৈরাচারদের উৎখাত করেছে। নতুন কোনো ফ্যাসিবাদী, কর্তৃত্ববাদী, স্বৈরাচারী শাসন আমরা দেখতে চাই না। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকার বারবার নানা আশঙ্কার জন্ম দিচ্ছে।
অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে প্রধান শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হওয়া তিনটি রাজনৈতিক দলের দাবির মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করতে গিয়েই প্রতিটি দলের কোনো না কোনো দাবি মেনে নিয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের রূপরেখা চূড়ান্ত করেছে সরকার। কিন্তু তাতে কি শেষ রক্ষা হলো?
দলটি জাতীয় নির্বাচনের ঘোষণাকে স্বাগত জানালেও জুলাই সনদের জন্য যে গণভোটের প্রস্তাব করা হয়েছে তাকে ‘গোঁজামিলে পূর্ণ’ বলে অভিহিত করেছে। জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে যেসব বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলো একমত হয়েছে তার বাইরে যেকোনো প্রস্তাবই অনৈক্যের কারণ হতে পারে আশঙ্কা দলটির।
রাজনৈতিক দলগুলো বলছে, জুলাই সনদে কিছুটা ঐক্য এলেও সনদ বাস্তবায়নের সুপারিশে তার প্রতিফলন নেই। বিএনপির পক্ষ থেকে সরাসরি একে ‘অনৈক্য’ তৈরির প্রয়াস বলেই অভিহিত করা হয়েছে। বিশ্লেষকরাও বলছেন, সনদ বাস্তবায়নের সুপারিশ খুব বাস্তবসম্মত হয়নি।
‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ বাস্তবায়নে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন যেসব সুপারিশ দিয়েছে তা নতুন সংকট করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স। জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোট আয়োজনের ধারণাকেও অপ্রয়োজনীয় বলে অভিহিত করেছেন তিনি।
সভায় বলা হয়, একটি নবগঠিত রাজনৈতিক দলসহ ক্ষমতাসীন সরকারে থাকা যেকোনো রাজনৈতিক দলের পরামর্শক, পৃষ্ঠপোষক ও দলীয় পরিচয়ে পরিচিত ব্যক্তিদের পদত্যাগ করার মাধ্যমে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে।
এসময় তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা ও জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে হলে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা জরুরি। তাহলেই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা ও একটি সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করা সম্ভব হবে।
জুলাই সনদের প্রস্তাবে ৮৪টি বিষয়ে ঐকমত্য এসেছে বলা হলেও এর মধ্যে কেবল ১৭টি প্রস্তাবে পূর্ণ ঐকমত্য এসেছে। বাকি ৬৭টি প্রস্তাবেই কোনো না কোনো দলের দ্বিমত বা ‘নোট অব ডিসেন্ট’ রয়ে গেছে। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে— জাতীয় ঐক্যের এই দলিল কতটা ঐক্য আনতে সক্ষম হলো দেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে?
জুলাই সনদের জন্য দলগুলো বিভিন্ন ইস্যুতে ছাড় দিয়ে ঐকমত্যে পৌঁছালেও এখনো ভিন্নমতও রয়ে গেছে। সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে যে গণভোটের সিদ্ধান্ত হয়েছিল, তার সময়রেখা নিয়েও রয়েছে তীব্র মতপার্থক্য। এর মধ্যে অন্তত ছয়টি দল সুস্পষ্টভাবেই বলে দিয়েছে, তারা জুলাই সনদে সই করবে না। আরও কয়েকটি দলও নানা শর্ত আরোপ করেছে রেখেছে