ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, ভিপি পদে ছাত্রশিবির-সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থী মো. রিয়াজুল ইসলাম পাঁচ হাজার ৫৬৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদল ও ছাত্রঅধিকার পরিষদ-সমর্থিত প্যানেলের এ কে এম রাকিব পেয়েছেন চার হাজার ৬৮৮ ভোট।
ফলাফলে দেখা যায়, ভিপি পদে ছাত্রশিবির-সমর্থিত প্যানেলের রিয়াজুল ইসলাম চার হাজার ৪৩২ ভোট পেয়ে এগিয়ে রয়েছেন। ছাত্রদল ও ছাত্রঅধিকার পরিষদ-সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থী এ কে এম রাকিব পেয়েছেন তিন হাজার ৭৭৭ ভোট। সে হিসাবে রাকিবের চেয়ে ৬৫৫ ভোটে এগিয়ে আছেন রিয়াজুল।
আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, সরকার বলেছে, একজন ওয়ার্ড কমিশনার নাকি ওসমান হাদিকে গুলি করার নির্দেশ দিয়েছে। তার নির্দেশে ফয়সাল করিম মাসুদ খুন করেছে। এটা তো পাগলেও বিশ্বাস করবে না। ওসমান হাদিকে খুনের সঙ্গে একটি পুরো চক্র জড়িত রয়েছে। এই খুনের পেছনে রাষ্ট্রযন্ত্র জড়িত রয়েছে। তাদের বিচারের মুখোমুখি না
এ কে এম রাকিব বলেন, ‘নির্বাচনের সময় আমরা দেখতে পাই, একটি নির্দিষ্ট প্যানেলের কয়েকজন ব্যালট নম্বরের টোকেন নিয়ে ভোটকেন্দ্রের ভেতরে প্রবেশ করেছে। বিষয়টি আমাদের কাছে সন্দেহজনক মনে হলে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করি। কিন্তু শুরুতে কমিশনের পক্ষ থেকে বিষয়টি অস্বীকার করা হয় এবং বলা হয়
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় শুরু হয়েছে জকসু নির্বাচনের ভোট গ্রহণ। বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচ ভবনের ৩৯টি কেন্দ্রে ১৭৮টি বুথে ভোট গ্রহণ চলবে একটানা বিকেল ৩টা পর্যন্ত। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র আবাসিক হল নওয়াব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানী হল সংসদ নির্বাচনও অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
জকসু নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার ১৬ হাজার ৬৪৫ জন। তাদের প্রত্যক্ষ ভোটে কেন্দ্রীয় সংসদের ২১টি পদে প্রতিনিধি নির্বাচিত হবেন। এসব পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোট ১৫৭ জন প্রার্থী। এর মধ্যে পুরুষ প্রার্থী ১৩৮ জন, নারী প্রার্থী ১৯ জন। নির্বাচনে প্যানেলে রয়েছে মোট চারটি।
ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচারে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের দাবি জানিয়ে ইনকিলাব মঞ্চ আরও বলছে, এ ট্রাইব্যুনালের কাজে সহায়তার জন্য প্রয়োজনে এফবিআই বা স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের মতো পেশাদার সংস্থাকে কাজে লাগাতে হবে। রাষ্ট্রকে সবার সামনে এসে জানাতে হবে, তারা কী পদক্ষেপ নিয়েছে।
ছাত্রদল বিবৃতিতে বলেছে, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে রাকসুর জিএস সালাউদ্দিন আম্মারের হুমকিমূলক বক্তব্যে অছাত্রসুলভ আচরণের বহির্প্রকাশ ঘটেছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুষ্ঠু পরিবেশের পরিপন্থি। একজন ছাত্র বা ছাত্রনেতা হিসেবে বারবার শিক্ষকদের সঙ্গে অশোভন ও মারমুখী
বিবৃতিতে আরও বলেন, ‘এটা ছাত্রশিবিরের কোনো অফিশিয়াল বক্তব্য বা অবস্থান নয়। আমরা স্পষ্ট ঘোষণা করছি, গণমাধ্যমে কিংবা কোনো সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে হামলার সঙ্গে ছাত্রশিবির দূরতম কোনো সম্পর্ক নেই। পাশাপাশি এ ধরনের হামলার ঘটনা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। আশা করি অপপ্রচারের কারণে সৃষ্ট ভুল বোঝাবুঝি অবসান হবে।’
দুপুর ১টার দিকে বিক্ষোভকারীরা ডাকসুর সামনে স্লোগান দিতে থাকেন এবং ধীরে ধীরে জমায়েত বাড়তে থাকে। এ সময় জমায়েতে উপস্থিত ছিলেন ডাকসুর সহ-সভাপতি, সহ-সাধারণ সম্পাদক, সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক, সমাজসেবা বিষয়ক সম্পাদকসহ বিভিন্ন হল সংসদের নেতারা।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আগামী রোববার (১৬ নভেম্বর) তথা ১ অগ্রহায়ণ এতদিনের রীতির বিপরীতে গিয়ে ডাকসু বঙ্গাব্দ বরণের আয়োজন করতে চায়। একে তারা বলছে ‘আদি নববর্ষ’।
কাউন্সিল অধিবেশন শুরু হবে সকাল ৯টা থেকে। এই গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলনে সারাদেশের বিভিন্ন জেলা, বিভাগ এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করবেন। যেখানে সংগঠনের আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করা হতে পারে।
ঘোষণা করা দুই কমিটির একটিতেও জায়গা হয়নি আবদুল কাদেরের, যিনি বাগছাসের ঢাবি শাখার আহ্বায়ক ছিলেন। কাদের ডাকসু নির্বাচনে বাগছাসের সহসভাপতি (ভিপি) প্রার্থীও ছিলেন।
আবু বাকের মজুমদার বলেন, আমরা মনে করি, এনসিপি যে ধারার রাজনীতি করে তাদের সেই আদর্শিক ধারা আর আমাদের আদর্শিক ধারা এক। সে কারণেই আমরা স্পষ্টভাবে বলছি, আমরা এনসিপির সহযোগী আদর্শিক ছাত্র সংগঠন হিসেবে কাজ করব। কিন্তু একে লেজুরবৃত্তিক সংগঠন বলা যাবে না।
ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগও তুলেছে ছাত্রদল। এদিকে ক্যাম্পাস ঘিরে বিভিন্ন পয়েন্টে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীদের উপস্থিতি দিনভর দেখা গেছে। তবে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
এ নির্বাচনে ভিপি ভিপি নির্বাচিত হয়েছেন শিবির সমর্থিত ‘সম্প্রীতির শিক্ষার্থী জোট’ প্যানেলের ইব্রাহিম হোসেন রনি, জিএস হয়েছেন একই প্যানেলের সাঈদ বিন হাবিব৷ শীর্ষ তিন পদের তৃতীয়টি গেছে ছাত্রদলের ঘরে, জয় পেয়েছেন আইয়ুবুর রহমান তৌফিক।