বিপিসির শূন্য ভাণ্ডার, রাজস্বের ফাঁদ এবং বিপন্ন অর্থনীতি ও জীবনযাত্রা
একটি দেশের অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হলো জ্বালানি। ফলে এই বিপুল মাত্রায় দাম বৃদ্ধির অভিঘাত অর্থনীতি, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ও রাজনৈতিক অঙ্গনে যে কতটা মারাত্মক হবে, তা সহজেই বোধগম্য। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ও বিশ্ববাজারের দোহাই দিয়ে এই মূল্যবৃদ্ধির কথা বলা হলেও এর পেছনের কাঠামোগত
‘বিপথগামী’ সন্তান নয়, প্রশ্নটা তুলি নিজেদের দিকেই
এই যে সেন্স অব বিলঙ্গিংয়ের শূন্যতা, সেই শূন্যতা তখন সে পূরণের জায়গা খুঁজতে শুরু করে। তখন তারা মনোযোগটা অন্য জায়গা থেকে পাওয়ার চেষ্টা করে। এটা না সেটা টাইপ বায়না ধরে। কিন্তু আসলে তাদের মূল চাওয়া থাকে একটাই— কেউ অন্তত একটু সময় দিক, তাদের কথাগুলো মন দিয়ে শুনুক।
বদলে যাওয়া বিশ্বব্যবস্থায় ব্রিকস সম্মেলন, বাংলাদেশের পথ কোন দিকে?
বিশ্বের কোনো প্রান্তে সংঘটিত যুদ্ধ বা ভূরাজনৈতিক সংঘাতও শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের মানুষের জীবনযাত্রা ও পারিবারিক ব্যয়ের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই পরিবর্তিত বিশ্বব্যবস্থার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন বাংলাদেশের জন্য হলো, আমরা কোন শক্তির পাশে দাঁড়াব। এর বাস্তব উত্তর হচ্ছে, বাংলাদেশকে কোনো শক্তির ছায়ায় নয়
ইলিশ কি সত্যিই বেড়েছিল, নাকি শুধু হিসাব?
মৎস্য অধিদপ্তরের হিসাবে দুই দশকের চিত্রে তিনটি পৃথক অধ্যায় স্পষ্ট। প্রথমত ২০০২-০৩ থেকে ২০১৫-১৬— ধীর কিন্তু ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি। দ্বিতীয়ত ২০১৬-১৭ সাল থেকে, যখন এক বছরেই আহরণ প্রায় এক লাখ টন বেড়ে যায়। তৃতীয়ত ২০২০-২১-এর পর— প্রথমে স্থবিরতা, এরপর দ্রুত পতন।
র্যাব থেকে এসআরবি: নাম পরিবর্তনই কি সমাধান?
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মতে, বাহিনীটির বিরুদ্ধে অতীতে ওঠা মানবাধিকার লঙ্ঘন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মতো গুরুতর অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত এবং স্বাধীন তদারকি ব্যবস্থা না থাকলে নতুন বাহিনীটিও ‘নতুন বোতলে পুরোনো মদে’র মতোই কাজ করতে পারে।
আন্তর্জাতিক আইন, ক্ষমতার রাজনীতি ও জবাবদিহির সংকট
আন্তর্জাতিক আইন নিখুঁত নয়। কিন্তু তার অনুপস্থিতির বিকল্প ন্যায়বিচার নয়, বরং ক্ষমতার অবাধ শাসন। শক্তি রাষ্ট্রকে প্রভাবশালী করতে পারে, কিন্তু তাকে নৈতিকভাবে নির্দোষ বা আইনগতভাবে দায়মুক্ত করতে পারে না। কারণ যে বিশ্বে শক্তিশালীর জন্য আইন থাকে না, সেই বিশ্বে দুর্বলের জন্য ন্যায়বিচারও শেষ পর্যন্ত অবশিষ্ট
১০.৫০ টাকার প্রণোদনায় কি হোঁচট খাবে নবায়নযোগ্য জ্বালানি?
শুনতে বেশ আকর্ষণীয় মনে হলেও, এই ‘প্রণোদনা’ কি আসলেই ছাদ-মালিকদের আকৃষ্ট করতে পারবে? এর ফলে, ছাদ-মালিকেরা কি রুফটপ সোলার স্থাপনে বাড়তি উৎসাহ বোধ করবেন, নাকি বিদ্যমান নেট মিটারিং ব্যবস্থাকেই বেশি লাভজনক মনে করবেন?
ব্রিকস সম্মেলনে ২০২৬: বাংলাদেশ কীভাবে উপকৃত হবে?
বাংলাদেশের জন্য এই সম্মেলনটির গুরুত্ব অনেক বেশি। কারণ ঢাকা একইসঙ্গে ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, রাশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক বজায় রাখে। ফলে ব্রিকসকে বাংলাদেশের কাছে কোনো একটি ভূরাজনৈতিক বলয় হিসেবে দেখার চেয়ে বরং বিকল্প অর্থায়ন, বাণিজ্যিক বৈচিত্র্য, জ্
সরকারের সামনে চ্যালেঞ্জ, উত্তরণে প্রয়োজন অর্থনীতি-রাজনীতির সমন্বিত কৌশল
একটি নবনির্বাচিত বা নতুন গঠিত সরকারের সামনে রাষ্ট্র পরিচালনার নানাবিধ সংকট ও চ্যালেঞ্জ এসে দাঁড়ায়। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে নতুন সরকারের পথচলা নিছক রুটিন রাষ্ট্র পরিচালনার বিষয় নয়; বরং এটি একই সঙ্গে রাজনৈতিক সমীকরণ সামলানো, গণআকাঙ্ক্ষা রক্ষা ও অর্থনৈতিক কাঠামোর ধ্বংসস্তূপ থেকে পুনরুত্থানের এক কঠিন পর
সাংঘর্ষিক রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসার লক্ষণ এখনো দৃশ্যমান নয়
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সূক্ষ্মতা স্পষ্ট করা দরকার— আমি রাজনৈতিক প্রতিবাদ বা আন্দোলনকে অন্যায় বলছি না। আমার মূল যুক্তিটি প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্ক নিয়ে— রাজপথকে যদি প্রধান রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে রাখা হয়, তাহলে সংসদীয় গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
খাদ্য নিরাপত্তা— নতুন নেতৃত্বে নতুন প্রত্যাশা
মানুষের জীবনে কিছু প্রয়োজন আছে, যেগুলো নিয়ে কোনো আপস চলে না। খাদ্য তার প্রথম সারিতে। সকালে শ্রমজীবী মানুষের নাশতার রুটি, দুপুরে পরিবারের ভাতের হাঁড়ি, কৃষকের গোলায় ধান কিংবা দুর্যোগে অসহায় মানুষের হাতে পৌঁছে যাওয়া খাদ্যসহায়তা—সবকিছুর পেছনেই রয়েছে একটি বিশাল রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনা। সেই ব্যবস্থাপনার কেন
পিংক বাস: একটি রঙ, একটি পরিবর্তন ও অনেক প্রশ্ন
বাংলাদেশের গণপরিবহনে নারীদের জন্য ‘পিংক বাস’ চালু হওয়া নিঃসন্দেহে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। ঢাকার রাস্তায় যখন নারী চালক, নারী সহকারী আর নারী যাত্রীদের নিয়ে বাস চলছে, তখন সেটা দেখতে ভালো লাগে। কিন্তু এই ভালো লাগার ভেতরেই কিছু অস্বস্তিকর প্রশ্ন লুকিয়ে আছে, যে প্রশ্নগুলো শুধু বাসের রং নিয়ে নয়, বরং আ
আমরা যা দেখাই, আমরা কি সত্যিই তাই?
মানুষের একটা অদ্ভুত স্বভাব আছে— সে নিজেকে যেমন, তার চেয়ে একটু ভালো করে দেখাতে চায়। আগে এই প্রবণতার সীমা ছিল পাড়া-প্রতিবেশী, আত্মীয়স্বজন, অফিস কিংবা বন্ধুমহল পর্যন্ত। এখন সেই ছোট পরিসরটি বিস্ফোরিত হয়ে গেছে। হাতে একটি স্মার্টফোন, সামনে একটি ক্যামেরা, আর পেছনে কোটি কোটি দর্শকের সম্ভাবনা। ফলে মানুষ এখন
উৎপাদন খাতে চীনের বিরুদ্ধে অভিযোগ: সত্য নাকি অতিরঞ্জন?
পশ্চিমা অর্থনীতিবিদদের তৈরি করা এই ‘স্টেয়ারকেস মডেল’ থেকে যে ধারণার জন্ম, চীনের বিরুদ্ধে মূলত সেই ধারণাটিই প্রয়োগ করা হয়। কিন্তু এই ধারাবাহিকতাকেই কেন অর্থনীতির চূড়ান্ত নিয়ম হিসেবে মেনে নিতে হবে? প্রতিটি দেশেরই অধিকার আছে, তার সম্পদভিত্তি, শ্রমশক্তি, পুঁজিবাজার ও রাজনৈতিক ব্যবস্থা যে উন্নয়নপথকে ধরে
সরকারের ৬ মাস: বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সংকট, ব্যর্থতা এবং উত্তরণের পথ
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতকে বাণিজ্যিক ব্যবসা হিসেবে না দেখে পুনরায় 'সেবা খাত' হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। বিগত দিনে এ খাতে অপরাধের মাধ্যমে যে লুণ্ঠনের সাম্রাজ্য গড়ে উঠেছে, তার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে পারলেই কেবল সরকার সংকট মোকাবিলায় কাঙ্ক্ষিত সফলতা অর্জন করতে পারবে।
সর্বশেষ




















