রাজনীতির ইতিহাস
ষাট গম্বুজ মসজিদের ইতিহাস
বাংলাদেশের স্থাপত্য ইতিহাসে যে কটি নিদর্শন সবচেয়ে বেশি গৌরবের সঙ্গে উচ্চারিত হয়, তার মধ্যে খুলনার বাগেরহাটের ষাট গম্বুজ মসজিদ অন্যতম। এই মসজিদ শুধু একটি ধর্মীয় উপাসনালয় নয়, বরং বাংলার অতীত ইতিহাস, ইসলামি স্থাপত্যশৈলী ও স্থানীয় সংস্কৃতির এক অনন্য মিলনের দৃষ্টান্ত। ষাট গম্বুজ মসজিদকে কেন্দ্র করে যে কি
লালবাগ কেল্লার ইতিহাস
মোগল আমলে ঢাকা ছিল বাংলার রাজধানী। সম্রাট আওরঙ্গজেবের শাসনামলে তাঁর জামাতা সুবাদার মুজাফফর হোসেন শায়েস্তা খানের পুত্র মুহাম্মদ আজম শাহ ১৬৭৮ সালে এখানে কেল্লার নির্মাণকাজ শুরু করেন। আজম শাহ ছিলেন মোগল সিংহাসনের উত্তরাধিকারী এবং পরবর্তীতে তিনি সম্রাট হয়েছিলেন।
সোমপুর বিহারের ইতিহাস
সোমপুর বিহারের মূল স্থাপনাটি আয়তাকার, যার মাঝখানে আছে একটি বিশাল স্তূপ। চারপাশে ঘিরে রয়েছে ১৭৭টি কক্ষ, যেগুলোতে ভিক্ষুরা থাকতেন। অনেকেই এটিকে প্রাচীন বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এখানে শুধু ধর্মগ্রন্থ পাঠ নয়, চিকিৎসা, জ্যোতির্বিদ্যা, দর্শন, গণিত ও শিল্পকলার শিক্ষা হতো। অর্থাৎ এটি ছিল এক ধরনের
ময়নামতির আদি ইতিহাস: প্রাচীন বাংলার অমূল্য দলিল
প্রাচীন বাংলার ইতিহাসে গুপ্ত সাম্রাজ্যের পতনের পর স্থানীয় স্বাধীন রাজ্যগুলো ধীরে ধীরে শক্তি সঞ্চয় করতে শুরু করে। অষ্টম থেকে দ্বাদশ শতাব্দীর মধ্যে বৌদ্ধ ধর্ম এখানে প্রভাবশালী হয়ে ওঠে এবং সেই সময়েই ময়নামতিতে গড়ে ওঠে অসংখ্য বৌদ্ধ মঠ ও মহাবিহার। ইতিহাসবিদদের মতে, এই অঞ্চল একসময় পাল রাজবংশ ও পরবর্তীতে সে
মহাস্থানগড়ের ইতিহাস
মহাস্থানগড়ের নামকরণের পেছনেও রয়েছে ইতিহাসের গন্ধ। "মহাস্থান" শব্দের অর্থ হলো মহৎ স্থান, আর "গড়" মানে দুর্গ। সত্যিই এটি ছিল এক শক্তিশালী দুর্গনগরী, যার চারদিকে উঁচু প্রাচীর ও প্রবেশপথ ছিল। নগরীর ভেতরে ছিল প্রাসাদ, প্রশাসনিক ভবন, ধর্মীয় স্থাপনা এবং সাধারণ মানুষের বসবাসের জায়গা। এই নগরকে ঘিরে বহু কিংবদ
ইদ্রাকপুর দুর্গের ইতিহাস
মুগল সম্রাট আওরঙ্গজেবের শাসনামলেই দুর্গটির নির্মাণ শুরু হয়। তখন বাংলার সুবাদার ছিলেন মীর জুমলা, যিনি শুধু যুদ্ধকৌশলেই পারদর্শী ছিলেন না, বরং নদীপথে প্রতিরক্ষা গড়ার জন্য দূরদৃষ্টি সম্পন্ন প্রশাসক হিসেবেও খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। সপ্তদশ শতাব্দীতে বাংলার নদীপথ ছিল বাণিজ্য ও যুদ্ধের মূল কেন্দ্র। বিশেষ করে
মহমায়ুর যুদ্ধ: আসামের মোমোরিয়া বিদ্রোহের ইতিহাস
অসমের আহোম রাজবংশের শাসনামলে, রাজা লক্ষ্মী সিংহের অধীনে মোমোরিয়া বিদ্রোহের সূচনা হয়। এই বিদ্রোহের মূল কারণ ছিল রাজ্যের শাসনব্যবস্থা, ধর্মীয় বৈষম্য, এবং সাধারণ মানুষের প্রতি শোষণ। মোমোরিয়া, বা মায়ামারা, ছিল এক ধর্মীয় সম্প্রদায় যারা বৈষ্ণব ধর্মের অনুসারী ছিল। এই সম্প্রদায়ের সদস্যরা রাজ্যের শাস
ডেমোক্রেসি প্যারাডক্স: ব্যক্তি স্বাধীনতা বনাম সাম্যবাদ
হারারি চার্লস ডিকেন্সের উদাহরণ টেনেছেন। তুলে ধরেছেন তার উপন্যাসগুলোর মূল ভাষ্য। ডিকেন্সের উপন্যাস্যের মূল থিম উনবিংশ শতাব্দীর বৃটেনের সমাজ ও শাসনব্যবস্থা। তখনকার শাসকেরা জনগণের ব্যক্তিস্বাধিনতাকে মূল্য দিতেন। অন্তত ডিকেন্স সেটাই দেখাতে চেয়েছেন। আর এর জন্য যদি দরিদ্র ও অসহায় শিশুদের অধিকার হরণ করা হ
ব্যাটল অব অ্যাক্টিয়াম: রোমান সাম্রাজ্যের কালজয়ী যুদ্ধ
অ্যাক্টিয়ামের যুদ্ধ বুঝতে হলে রোমান সাম্রাজ্যের তৎকালীন অবস্থা জানা দরকার। খ্রিস্টপূর্ব ৪৪ সালে জুলিয়াস সিজারের হত্যা হওয়ার পর রোমান রিপাবলিকের ক্ষমতা কার্যত তিনজন নেতার হাতে আসে। এরা ছিলেন অক্টাভিয়ান, মার্ক অ্যান্টনি ও লেপিডাস। ইতিহাসে যাদের সেকেন্ড ট্রাইয়ুমভিরেট বলা হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ ছিল?
রশাদবিরোধী গণআন্দোলনের সময় ছাত্র শিবিরের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। অন্য ছাত্রসংগঠনগুলো যখন সর্বাত্মকভাবে আন্দোলনে অংশ নিচ্ছিল, তখন শিবির অনেক ক্ষেত্রে সরকারপন্থী অবস্থান নিয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। এর পাশাপাশি ক্যাম্পাসে সহিংসতার ঘটনা এবং কিছু হত্যাকাণ্ড ছাত্র শিবিরকে আরও বিতর্কিত করে তোলে। বিশেষ করে ১
ব্যাটল অব থার্মোপিলাই : সবলের বিরুদ্ধে দুর্বলের লড়াই
প্রাচীন যুদ্ধের ইতিহাসে ব্যাটল অব থার্মোপিলাই বা থার্মোপিলাইয়ের যুদ্ধ আত্মত্যাগ আর দেশপ্রেমের প্রতীক হয়ে আছে হাজার বছর ধরে। খ্রিস্টপূর্ব ৪৮০ সালে এই যুদ্ধ হয়েছিল গ্রিসের সংকীর্ণ এক পর্বতপথে, থার্মোপিলাই নামের জায়গায়।
মহেন্দ্রবর্তী যুদ্ধের ঐতিহাসিক কারণ ও ফলাফল
মহেন্দ্রবর্তী যুদ্ধের পটভূমি বুঝতে গেলে আমাদের প্রথমে জানতে হবে যে, চণ্ড্রগুপ্ত মৌর্যের সময় ভারত ছিল বহু ছোট ছোট রাজ্য ও অঞ্চল দ্বারা বিভক্ত। প্রতিটি রাজ্য ছিল স্বাধীন এবং নিজেদের স্বার্থ অনুযায়ী চলত। চণ্ড্রগুপ্ত মৌর্যের স্বপ্ন ছিল ভারতের বৃহত্তর অংশে একক শাসন প্রতিষ্ঠা করা। তার সামরিক দক্ষতা ও কূটন
কলিঙ্গের যুদ্ধ: কারণ, ভয়াবহতা ও পরিমাণ
কলিঙ্গ ছিল প্রাচীন ভারতের পূর্ব উপকূলবর্তী একটি সমৃদ্ধ, স্বাধীন রাজ্য—বর্তমান ওড়িশা ও দক্ষিণ-পূর্ব আন্দ্রপ্রদেশে। এর মানুষের সাংস্কৃতিক রুচি, সামুদ্রিক বাণিজ্য, শক্তিশালী নৌদল—সকল কিছুই ছিল আত্মনির্ভর, যা মুর্য সিংহাসনে নতুন দ্বারপ্রান্তে বসা অশোককে উদ্বিগ্ন করেছিল।
শশাঙ্ক ও হর্ষবর্ধনের দ্বন্দ্বের ইতিহাস
শশাঙ্ক ছিলেন প্রাচীন বঙ্গের গৌড় রাজ্যের এক শক্তিশালী রাজা। তিনি প্রথম স্বাধীন গৌড় শাসক হিসেবে পরিচিত যিনি নিজের সাম্রাজ্যকে শুধু বাংলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখেননি, বরং অঙ্গ, মগধ, উত্তর বিহার ও বর্তমান উড়িষ্যার কিছু অংশ পর্যন্ত বিস্তৃত করেছিলেন। তাঁর সময়েই গৌড় প্রথম একটি বৃহৎ রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আত্মপ
সর্বশেষ




















