প্রধানমন্ত্রীর হাসপাতাল পরিদর্শন যেন স্বাস্থ‍্যসেবায় পরিবর্তনের সূচনা করে

প্রধানমন্ত্রীর হাসপাতাল পরিদর্শন যেন স্বাস্থ‍্যসেবায় পরিবর্তনের সূচনা করে

শনিবার (১৭ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিভিন্ন হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্যোগ শুধু ঢাকায় সীমাবদ্ধ না থেকে সারা দেশে কার্যকর হোক— এটাই প্রত্যাশা।

দেশের মানুষ দীর্ঘ দিন ধরে এ ধরনের উদ্যোগের অপেক্ষায় ছিলেন। কিন্তু প্রত্যাশিত ফল পাননি। এবার প্রধানমন্ত্রী নিজে সরেজমিনে হাসপাতাল পরিদর্শন করে স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা সবার সামনে তুলে ধরেছেন।

এ উদ্যোগের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ। জনস্বার্থে অন্যান্য খাতেও এ ধরনের কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রমাণের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিতে হবে। গুরুতর অনিয়ম প্রমাণিত হলে যথাযথ আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ায় চিকিৎসকের নিবন্ধন বাতিলসহ প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।

জনগণ এমন উদ্যোগকে সমর্থন করবে। এর ফলে তোষামোদকারী, দায়িত্বে অবহেলাকারী, অর্থলোভী ও ব্যক্তিস্বার্থসন্ধানীরা জবাবদিহির আওতায় আসবেন। অন্যদিকে প্রকৃত দেশপ্রেমিক, পেশাদার, নৈতিক ও মানবিক চিকিৎসকেরা যথাযথ মূল্যায়ন পাবেন। এতে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার উন্নতি হবে এবং জনগণের আস্থা বাড়বে।

হাসপাতালে মানুষ আসেন জীবনের সবচেয়ে অসহায় সময়ে, সুস্থ হওয়ার প্রত্যাশা নিয়ে। অথচ চিকিৎসা নিতে গিয়ে যদি তাদের অবহেলা, অপরিচ্ছন্নতা, দালালের দৌরাত্ম্য ও অসহনীয় ব্যয়ের মুখোমুখি হতে হয়, তাহলে স্বাস্থ্যসেবার মূল উদ্দেশ্যই বারবার প্রশ্নবিদ্ধ হয়।

প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি তদারকির উদ্যোগকে মানুষ ইতিবাচকভাবে দেখছে। তিনি স্বাস্থ্য খাতের দুরবস্থা সরেজমিনে উপলব্ধি করে কুয়েত বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা ও সামগ্রিক ব্যবস্থাপনায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং উন্নতির জন্য সাত দিন সময় দেন। বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে একজন চিকিৎসককে অপরিচ্ছন্ন কক্ষে ধূমপান করতে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। পরে ওই চিকিৎসককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী রোগীদের সঙ্গে কথা বলে তাদের চিকিৎসার পরিস্থিতিও জানার চেষ্টা করেন। এসব ঘটনার মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবার কিছু বাস্তব সমস্যা সামনে এসেছে, যা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দায়িত্ববোধ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

তবে হাসপাতাল পরিদর্শন ও তাৎক্ষণিক নির্দেশই যথেষ্ট নয়। এ ধরনের নজরদারিকে সারা দেশের স্বাস্থ্য প্রশাসনের নিয়মিত দায়িত্বে পরিণত করতে হবে। গ্রাম পর্যায়ের স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে শুরু করে জেলা ও বিভাগীয় হাসপাতাল— সব জায়গায় নিয়মিত পরিদর্শন, জবাবদিহি ও সেবার মান যাচাই নিশ্চিত করতে হবে। তাহলেই এ উদ্যোগের সুফল দীর্ঘস্থায়ী হবে।

বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের সংকট বুঝতে জনবলের পরিসংখ্যান গুরুত্বপূর্ণ। দেশে পর্যাপ্ত চিকিৎসক নেই— এ কথা যেমন সত্য, তেমনি বিদ্যমান জনবলের সুষম বণ্টনও নিশ্চিত করা জরুরি। ২০২৬ সালের জুনে প্রকাশিত সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত একটি গবেষণায় ২০২৩ সালের তথ্যের ভিত্তিতে দেশে নিবন্ধিত এমবিবিএস চিকিৎসকের সংখ্যা এক লাখ ২৩ হাজার ৮৫৩ এবং নিবন্ধিত নার্সের সংখ্যা ৮৫ হাজার ৯৭১ বলে উল্লেখ করা হয়।

তবে নিবন্ধিত জনবলের সবাই বর্তমানে কর্মরত কিংবা সরাসরি রোগীসেবায় নিয়োজিত, এমন নয়। একই গবেষণায় বলা হয়েছে, চিকিৎসক ও নার্সের প্রায় ৭৫ শতাংশ শহরাঞ্চলে কাজ করেন, যদিও দেশের জনসংখ্যার বড় অংশ গ্রামে বসবাস করে।

সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থায় জনবলসংকট আরও স্পষ্ট। গত ৭ সেপ্টেম্বর সংসদে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকের অনুমোদিত ৪১ হাজার ৮০৬টি পদের বিপরীতে কর্মরত ছিলেন ৩০ হাজার ৩১১ জন। অর্থাৎ শূন্য ছিল ১১ হাজার ৪৯৫টি পদ।

অন্যদিকে ১০ জুন সংসদে দেওয়া তথ্যে নার্সের অনুমোদিত ৪৯ হাজার ৫০১টি পদের মধ্যে পাঁচ হাজার ৩২টি এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীর ২৬ হাজার ৫৪৪টি পদের মধ্যে আট হাজার ৭৮৪টি পদ শূন্য থাকার কথা জানানো হয়।

এ পরিসংখ্যান থেকে স্পষ্ট, শুধু তদারকি বাড়ালেই হবে না, প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগও জরুরি। সরকার সম্প্রতি প্রায় পাঁচ হাজার চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন শূন্য পদে জনবল নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়নের পাশাপাশি প্রত্যন্ত অঞ্চলে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের পদায়ন এবং তাদের কর্মস্থলে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে।

দেশের বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা খাতের ব্যাপ্তিও বিশাল। ২০২১ সালে প্রকাশিত বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০১৯ সালের জরিপে চার হাজার ৪৫২টি বেসরকারি হাসপাতাল, এক হাজার ৩৯৭টি ক্লিনিক ও ১০ হাজার ২৯১টি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের তথ্য পাওয়া যায়। তবে এগুলোকে ২০২৬ সালের বর্তমান সংখ্যা হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।

নিবন্ধিত, লাইসেন্স নবায়নকৃত ও বাস্তবে চালু প্রতিষ্ঠানগুলোর পৃথক ও হালনাগাদ তালিকা প্রকাশ করা প্রয়োজন। একইভাবে সরকারি হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের তথ্যও আলাদাভাবে সংরক্ষণ করা উচিত।

জনস্বাস্থ্যসেবা মানুষের মৌলিক অধিকারের সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই দেশের বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ওষুধ কোম্পানির কার্যক্রম সম্পর্কে সঠিক তথ্য হালনাগাদ রাখতে হবে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ও তদারকির আওতায় এনে নিয়মিত পরিদর্শন নিশ্চিত করতে হবে। অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করে প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী শাস্তি দিতে হবে। গুরুতর ও পুনরাবৃত্ত অনিয়মের ক্ষেত্রে যথাযথ প্রক্রিয়ায় লাইসেন্স বাতিলের ব্যবস্থাও থাকতে হবে।

বিভিন্ন পরীক্ষার মূল্যের তুলনা রোগীদের আর্থিক চাপের বিষয়টি আরও স্পষ্ট করে। গত ৩ অক্টোবর দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারি হাসপাতালে ইসিজি করতে খরচ হয় ৮০ টাকা, যেখানে বেসরকারি কেন্দ্রে লাগে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা। সরকারি প্রতিষ্ঠানে আলট্রাসনোগ্রামের খরচ ১৫০ থেকে ৩০০ টাকা, অথচ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে তা ১,০০০ টাকা থেকে ৩,৫০০ টাকা। একইভাবে সরকারি হাসপাতালে এইচবিএ১সি পরীক্ষার খরচ ৩০০ টাকা, যেখানে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে লাগে ১,১০০ থেকে ১,৪০০ টাকা।

এগুলো প্রতিবেদনে উল্লেখ করা কয়েকটি উদাহরণ, সব প্রতিষ্ঠানের জন্য অভিন্ন মূল্যতালিকা নয়। সরকারি ভর্তুকি ও সেবার ধরনে পার্থক্য থাকলেও রোগীর বাড়তি ব্যয়ের বিষয়টি উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।

চিকিৎসাব্যয়ের চাপের বাস্তবতা উদ্বেগজনক। মোট স্বাস্থ্যব্যয়ের প্রায় ৭৩ শতাংশ মানুষকে নিজ পকেট থেকে বহন করতে হয়। এর ফলে অনেক পরিবার আর্থিক সংকটে পড়ে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসার কিছু অংশ অসমাপ্ত রাখতেও বাধ্য হয়। অধিকাংশ সরকারি হাসপাতালে বহির্বিভাগের নিয়মিত পরীক্ষাসেবা দুপুর ২টার মধ্যে শেষ হয়ে যায়। ফলে পরে পরীক্ষা করানোর প্রয়োজন হলে রোগীদের বেশি খরচে বেসরকারি কেন্দ্রে যেতে হয়।

এ বছরের জুলাইয়ে প্রকাশিত পিপিআরসির গবেষণার উদ্ধৃতি দিয়ে এক প্রতিবেদনে মেডিকেল টেকনোলজিস্টের ছয় হাজার ৪০৬টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে তিন হাজার ৮৯২ জন কর্মরত থাকার তথ্য দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি কিনলেই সেবা নিশ্চিত হয় না; সেগুলো পরিচালনার জন্য দক্ষ জনবল, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং পর্যাপ্ত সেবাসময় নিশ্চিত করাও জরুরি।

সরকারি সেবার এসব ঘাটতি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ওপর রোগীদের নির্ভরতা বাড়ায়। কিন্তু ব্যক্তিগত আর্থিক স্বার্থে কোনো চিকিৎসক বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি যদি সরকারি হাসপাতালের রোগীকে বাইরে পাঠান, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করাতে বিলম্ব করেন কিংবা দায়িত্ব পালনের সময়ে ব্যক্তিগত চেম্বারকে অগ্রাধিকার দেন, তাহলে তা গুরুতর জবাবদিহির বিষয়। এ ধরনের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রমাণের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিতে হবে।

চিকিৎসাগত কারণে রোগীকে অন্য প্রতিষ্ঠানে পাঠানো এবং কমিশন পাওয়ার উদ্দেশ্যে পাঠানোর মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য করতে হবে। রাষ্ট্রের বেতন ও অবকাঠামোগত সুবিধা গ্রহণ করে দরিদ্র রোগীকে অবহেলা করার সুযোগ কোনোভাবেই রাখা যায় না। সরকারি চিকিৎসকদের দায়িত্ব পালনের পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাঁদের পেশাগত নৈতিকতা ও জবাবদিহিও প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ ও উন্নত সেবার প্রয়োজন রয়েছে। তবে কিছু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের অতিরিক্ত বাণিজ্যিক মানসিকতা নিয়ন্ত্রণে মূল্যস্বচ্ছতা অপরিহার্য। দীর্ঘ পরীক্ষার তালিকা, অস্পষ্ট প্যাকেজ, অঘোষিত সেবামূল্য কিংবা চিকিৎসার মাঝপথে অপ্রত্যাশিত বিল রোগীদের অসহায় করে তোলে।

প্রতিটি পরীক্ষার প্রয়োজনীয়তা রোগীকে ব্যাখ্যা করতে হবে। চিকিৎসা শুরুর আগে সম্ভাব্য ব্যয়ের লিখিত হিসাব দিতে হবে এবং প্রতিটি খাতের জন্য রসিদ নিশ্চিত করতে হবে। শুধু বেশি মূল্য নির্ধারণ করলেই অতিরিক্ত মুনাফা প্রমাণিত হয় না, সে জন্য প্রতিষ্ঠানের ব্যয় ও আর্থিক হিসাব নিরীক্ষা করা প্রয়োজন। তবে মূল্যতালিকা ও হিসাবের অস্বচ্ছতার সুযোগে অযৌক্তিক অর্থ আদায় বন্ধ করতেই হবে।

ওষুধ কোম্পানির বিপণন কার্যক্রমেও স্বার্থের সংঘাত প্রতিরোধ করা জরুরি। স্বাস্থ্য খাত সংস্কার কমিশন ২০২৫ সালে চিকিৎসকদের উপহার বা বিনামূল্যের নমুনার মাধ্যমে প্রভাবিত করার চর্চা নিষিদ্ধ করার সুপারিশ করেছিল। অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ জেনেরিক নামে লেখার ব্যবহার বাড়ানোর প্রস্তাবও দিয়েছিল কমিশন। এগুলো ছিল কমিশনের সুপারিশ, সব বাস্তবায়িত হয়েছে বলে ধরে নেওয়া যাবে না।

দেশীয় ওষুধশিল্পের অবদান অক্ষুণ্ণ রেখে বিপণন ব্যয়, চিকিৎসকদের দেওয়া সুবিধা এবং ওষুধের মূল্য নির্ধারণে স্বচ্ছতা বাড়াতে হবে। ব্যবস্থাপত্রের ভিত্তি হতে হবে রোগীর প্রয়োজন, ওষুধের কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা— কোনো বাণিজ্যিক প্রণোদনা নয়।

হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার উদ্যোগও স্থায়ী করতে হবে। সরকারি হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজে শৌচাগার, বিছানা, খাবার, নিরাপদ পানি এবং চিকিৎসাবর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য দৈনিক মানদণ্ড নির্ধারণ করা প্রয়োজন। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও ঠিকাদারদের কাজ নিয়মিত যাচাই করতে হবে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানেও একই ধরনের কঠোর মানদণ্ড কার্যকর করতে হবে।

বাসসের গত ১৮ আগস্টের প্রতিবেদনে সারা দেশে ২৫০টির বেশি অবৈধ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান বন্ধ এবং আরও ২০০টিকে সতর্ক করার তথ্য এসেছে। এ ধরনের অভিযান গুরুত্বপূর্ণ। তবে অভিযান শেষ হওয়ার পর প্রতিষ্ঠানগুলো আবার অনিয়ম শুরু করছে কি না, তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে। শুধু সাময়িক অভিযান নয়, নিয়মিত পরিদর্শন ও কার্যকর নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

এখন প্রয়োজন সময়বদ্ধ ও বাস্তবসম্মত কর্মপরিকল্পনা। এর মধ্যে থাকবে শূন্য পদ পূরণ, পরীক্ষাসেবা সম্প্রসারণ, যন্ত্রপাতি সচল রাখা, সেবার মূল্যতালিকা প্রকাশ, হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা এবং অভিযোগ নিষ্পত্তির সহজ ব্যবস্থা চালু করা। এসব উদ্যোগের অগ্রগতি পরিমাপের জন্য নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা ও সময়সীমা নির্ধারণ করতে হবে। অগ্রগতি সম্পর্কে নিয়মিত জনসমক্ষে প্রতিবেদন প্রকাশ করাও জরুরি।

উচ্চপদস্থ রাষ্ট্রীয় ব্যক্তিদের সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণের সংস্কৃতি গড়ে তোলার বিষয়টিও বিবেচনা করা যেতে পারে। এতে সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থার বাস্তব অবস্থা সম্পর্কে নীতিনির্ধারকদের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা বাড়বে এবং সেবার মান উন্নয়নে তাদের দায়বদ্ধতা জোরদার হবে।

গুরুতর অনিয়ম প্রমাণিত হলে যথাযথ প্রক্রিয়ায় চাকরিগত ব্যবস্থা, চিকিৎসকের নিবন্ধন স্থগিত কিংবা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল করতে হবে। একই সঙ্গে দায়িত্বশীল চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সম্মান, নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কারণ, স্বাস্থ্যব্যবস্থার উন্নয়নে শাস্তির পাশাপাশি পেশাগত দক্ষতা, নৈতিকতা ও মানবিকতার মূল্যায়নও অপরিহার্য।

প্রধানমন্ত্রীর হাসপাতাল পরিদর্শন ও তাৎক্ষণিক নির্দেশের প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর। এই উদ্যোগ যেন সাময়িক আলোচনায় সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং সারা দেশের স্বাস্থ্যসেবায় স্থায়ী পরিবর্তন আনে। কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যব্যবস্থা হবে এমন, যেখানে দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত মানুষ চিকিৎসা নিতে গিয়ে অবহেলিত হবেন না, অযৌক্তিক ব্যয়ের চাপে নিঃস্ব হবেন না এবং সময়মতো মানসম্মত চিকিৎসা পাবেন। জনগণের প্রত্যাশা, প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্যোগ সেই পরিবর্তনের সূচনা করবে।

লেখক: সাবেক সহসভাপতি, ঢাকা ইউনিভার্সিটি জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন (ডুজা), ডেপুটি ডিরেক্টর (ফ্যাকাল্টি এইচআর), নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement