পহেলা অগ্রহায়ণ নববর্ষ পালনের ঘোষণা ডাকসুর

ঢাবি প্রতিনিধি
শুক্রবার সংবাদ সম্মেলন করে ১ অগ্রহায়ণকে বাংলা নববর্ষ হিসেবে পালনের ঘোষণা দেয় ডাকসু। ছবি: সংগৃহীত

পহেলা অগ্রহায়ণকে ‘নববর্ষ’ হিসেবে পালনের ঘোষণা দিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। বাংলা বছর বরণে বৈশাখের প্রথম দিনে নববর্ষ উদযাপনের ঐতিহ্যবাহী আয়োজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ করলেও সংগঠনটি এ ঘোষণা দিয়েছে।

শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলায় ‘বিপ্লবী সাংস্কৃতিক ঐক্যে’র সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে দিনব্যাপী ‘নববর্ষে’র অনুষ্ঠানমালা আয়োজনের ঘোষণা ও কর্মসূচি তুলে ধরেন ডাকসুর নেতারা।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আগামী রোববার (১৬ নভেম্বর) তথা ১ অগ্রহায়ণ এতদিনের রীতির বিপরীতে গিয়ে ডাকসু বঙ্গাব্দ বরণের আয়োজন করতে চায়। একে তারা বলছে ‘আদি নববর্ষ’।

ডাকসুর সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক মুসাদ্দিক ইবনে আলী মোহাম্মদ বৈশাখের বদলে অগ্রহায়ণে নববর্ষের এ আয়োজন করার যুক্তি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বাংলা বছরের পঞ্জিকার ১২টি মাসের মধ্যে ১১টিই নক্ষত্রের নামে। একমাত্র ব্যতিক্রম অগ্রহায়ণ। এ নামের সঙ্গে মিশে আছে বাংলার ইতিহাস, স্মৃতি আর বিস্মৃত হয়ে যাওয়া কিছু তথ্য।

মুসাদ্দিক বলেন, প্রায় প্রাচীনকাল থেকেই এ অঞ্চলে নববর্ষের উৎসব পালিত হতো। নববর্ষের আদি অনুষ্ঠান হিসেবে 'আমানি' উৎসব বা 'নবান্ন' উৎসবের কথা বলেছেন ঐতিহাসিকরা, যা পহেলা অগ্রহায়ণে অনুষ্ঠিত হতো। এটি ছিল মূলত কৃষকের উৎসব। পরে সম্রাট আকবর খাজনা আদায়ের সুবিধার্থে 'বৈশাখ' মাসকে বাংলা বছরের প্রথম মাস হিসেবে প্রচলন করেন। কিন্তু বৈশাখকে বছর শুরুর মাস আর পহেলা বৈশাখকে বছরের প্রথম দিন হিসেবে বাংলার মানুষ উদযাপন করেনি।

ডাকসুর সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদকের ভাষ্য, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শান্তিনিকেতনে অত্যন্ত জাঁকজমকের সঙ্গে পহেলা বৈশাখে বাংলা নববর্ষ উদযাপনের আয়োজন করেন। এভাবে কলকাতার শিক্ষিত মধ্যবিত্ত বাঙালি পরিবারে ধীরে ধীরে পহেলা বৈশাখ সম্পর্কে উৎসাহ-উদ্দীপনা তৈরি হয়।

বাংলাদেশের এই ভূখণ্ডে পহেলা বৈশাখ উদযাপনের কথা তুলে ধরে মুসাদ্দিক বলেন, ১৯৬৭ সালে প্রথম পহেলা বৈশাখ উদযাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। পাকিস্তানি শাসকরা এই অনুষ্ঠানের বিরোধিতা করায় পাকিস্তানবিরোধী মানসিকতার বাঙালির কাছে পহেলা বৈশাখ ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। এর ধারাবাহিকতায় বর্তমান প্রজন্ম ভুলতে বসেছে, এককালে পহেলা অগ্রহায়ণই ছিল এ অঞ্চলের মানুষের নববর্ষ। প্রজন্মকে সেই ইতিহাস মনে করিয়ে দেওয়ার জন্য আমরা নবান্ন উৎসবকে আদি নববর্ষ উৎসব নামে উদযাপন করার উদ্যোগ নিয়েছি।

চার পর্বে যত আয়োজন

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, চার পর্বে আয়োজন করা হবে ডাকসুর এই নববর্ষ অনুষ্ঠানমালা। রোববার সকালে প্রথম পর্বের আয়োজন শুরু হবে রঙতুলিতে নবান্নের ছবি আঁকার মাধ্যমে। ১৫ জন শিল্পী এই পর্বে ছবি আঁকবেন।

দ্বিতীয় পর্বে থাকবে ‘আদি নববর্ষ আনন্দযাত্রা’। এর জন্য চারুকলার সহযোগিতায় তিনটি মোটিফ তৈরি করা হচ্ছে— একটি জুলাই নিয়ে, একটি জেলে জীবন নিয়ে এবং তৃতীয়টি কৃষি জীবন নিয়ে। আনন্দযাত্রায় গ্রামীণ জীবনের বিভিন্ন বিষয়ের উপস্থাপনা থাকবে।

তৃতীয় ও চতুর্থ পর্বে থাকবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও আমন্ত্রিত অতিথিদের শুভেচ্ছা বিনিময়। ‘বিপ্লবী সাংস্কৃতিক ঐক্য’সহ বিভিন্ন সংগঠনের অংশগ্রহণে এ পর্বে থাকবে আবৃত্তি, নাচ, গান ও জাদু পরিবেশনা। আমন্ত্রিত অতিথিদের শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে থাকবে গুণি শিল্পীদের পরিবেশনায় সংগীত ও পালাগান।

ad
ad

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

স্বাধীনতার প্রকৃত অর্থ এখনও অর্জিত হয়নি: গোলাম পরওয়ার

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘একটি আধিপত্যবাদী শক্তি দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের রাজনীতি, অর্থনীতি ও রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে। সেই কারণেই আজও দেশের মানুষ প্রকৃত স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত।’

১ দিন আগে

স্বাধীনতার ৫৪ বছরেও শোষণ-বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে পারিনি: মাসুদ সাঈদী

মাসুদ সাঈদী বলেন, প্রতিটি আন্দোলন ও অভ্যুত্থানে যারা নিজেদের বুকের রক্ত ঢেলে দিয়েছেন, প্রাণ বিসর্জন দিয়েছেন, তাদের একটিই চাওয়া ছিল আর তা হলো পৃথিবীর বুকে বাংলাদেশি জাতি মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে, একটি মর্যাদাশীল, ন্যায়ভিত্তিক ও শোষণমুক্ত রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হবে।

১ দিন আগে

এনসিপির আগ্রাসন বিরোধী যাত্রা শুরু

বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে রাজধানীতে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘আগ্রাসন বিরোধী’ যাত্রা শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় রাজধানীর বাংলা মোটর এলাকা থেকে মিছিলটি শুরু হয়। শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হবে বলে জানা গেছে।

১ দিন আগে

সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধান উপদেষ্টা

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।

১ দিন আগে