মুক্তিযুদ্ধ কেবল একটি ঘোষণা বা একটি ঘটনার ফল নয়; এটি ছিল দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংগ্রাম, সাংস্কৃতিক আন্দোলন, অর্থনৈতিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং একটি জাতির আত্মপরিচয় প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ের চূড়ান্ত রূপ। এই লড়াইয়ে নেতৃত্ব, প্রেরণা, ত্যাগ ও সাহস— সবকিছু মিলেই তৈরি হয়েছে স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাস।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম শুরু হয় পাকিস্তান জন্মের পরপরই। প্রথমে এমন কথা উচ্চারণ বিপজ্জনক ছিল বলেই এ দেশের মানুষকে প্রথমে ভাষা আন্দোলন ও তারপর স্বায়ত্তশাসন আন্দোলন নিয়ে এগিয়ে যেতে হয়। একপর্যায়ে স্বায়ত্তশাসনের ধারণাটি স্বাধীনতার ধারণায় পর্যবসিত হয়।
গণপরিবহন, শ্রমবাজার, কৃষি— প্রতিটি ক্ষেত্রেই মধ্যস্বত্বভোগী ও অনিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থার কারণে প্রকৃত উৎপাদক বা ভোক্তা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। কৃষক ন্যায্যমূল্য পান না, শ্রমিক তার পরিশ্রমের সঠিক মূল্য পান না, কিন্তু মধ্যবর্তী একটি শ্রেণি অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে লাভবান হয়। এটি একটি অসম অর্থনৈতিক কাঠামোর প্রতিফলন।
ঈদুল ফিতর কেবল একটি উৎসব নয়; এটি একটি আধ্যাত্মিক উপলব্ধি, একটি নৈতিক শিক্ষা, একটি সামাজিক দায়িত্ববোধের প্রতিফলন। কোরআন ও হাদিসের আলোকে যদি আমরা ঈদের দিনকে যথাযথভাবে পালন করতে পারি, তাহলে এটি আমাদের জীবনে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
ঈদযাত্রার ভোগান্তি কোনো অনিবার্য বাস্তবতা নয়, এটি একটি ব্যবস্থাগত দুর্বলতার ফল। সঠিক পরিকল্পনা, প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার এবং জনসম্পৃক্ততার মাধ্যমে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব। অভিযান নয়, প্রয়োজন একটি শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো— যেখানে নিয়মই হবে প্রধান নিয়ন্ত্রক, ব্যক্তি নয়।
মধ্যপ্রাচ্য ও ইউক্রেনে চলমান সংঘাত এখন আর কেবল আঞ্চলিক সমস্যা নয়; বরং এটি বিশ্ব অর্থনীতির ‘সাপ্লাই চেইনে’র জন্য বড় একটি ধাক্কা। যুদ্ধ কেবল অবকাঠামো ধ্বংস করছে না, বরং জ্বালানি ও বাণিজ্যের বৈশ্বিক স্নায়ুতন্ত্রকে অচল করে দিচ্ছে।
এই ৪৬ বছর বয়সের মধ্যে তিনি পাকিস্তান আন্দোলন করেছেন, কলকাতায় হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা সামলাতে আসন্ন সন্তানসম্ভবা স্ত্রীকে ফরিদপুরে রেখে নেতার নির্দেশ মাথা পেতে নিয়েছিলেন। তিনি আবার সিলেট পাকিস্তানে থাকবে না ভারতে যাবে— সে বিষয়টি নির্ধারণের গণভোটে পাকিস্তানের পক্ষে অংশ নিয়েছিলেন। আমাদের প্রয়াত রাষ্ট্রপতি
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংসদ সদস্যদের ভূমিকা এবং রাষ্ট্রের প্রতি তাদের দায়বদ্ধতা ও আন্তরিকতা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই মনে করেন, সংসদ সদস্যরা কেবল একটি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি নন, তারা পুরো দেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। ফলে সংসদের মতো গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চে তাদের আচরণ সাধারণ জনগণের কাছে একটি প্রতীকী বার্ত
রাজনীতির ময়দানে ঘৃণা খুব সহজে ছড়িয়ে পড়ে, কিন্তু ভালোবাসা ও সহমর্মিতা প্রতিষ্ঠা করা কঠিন। তবুও একটি পরিপক্ব গণতন্ত্রের জন্য সেই কঠিন পথটিই বেছে নেওয়া প্রয়োজন। জাতীয় সংসদ যদি ঘৃণার বদলে ভালোবাসা, বিদ্বেষের বদলে যুক্তি ও সম্মানের ভাষা প্রতিষ্ঠা করতে পারে, তবে সেটিই হবে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের জন্য সবচেয়ে
ঈদের আনন্দ যেন কোনোভাবেই দুর্ঘটনা বা দুর্ভোগের কারণে ম্লান না হয়, তা নিশ্চিত করতে ঈদযাত্রার সময় সবাইকে সচেতন ও দায়িত্বশীল হতে হবে। সরকার, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, পরিবহন মালিক-শ্রমিক, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সাধারণ জনগণের প্রচেষ্টায় একটি নিরাপদ, স্বস্তিদায়ক ও দুর্ঘটনামুক্ত ঈদযাত্রা নিশ্চিত করা সম্ভব।
এই সাধারণ কাজটি বাংলাদেশের শাসন-কাঠামোর একটি গভীর সত্যকে সামনে নিয়ে আসে— আমাদের জাতীয় শাসন-আলোচনা ক্রমেই ‘প্রক্রিয়া’কেন্দ্রিক হয়ে উঠেছে, যেখানে আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়— ‘পদ্ধতি’ —থেকে গেছে উপেক্ষিত।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণভাবে শুরু হয়েছে। সংসদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন প্রক্রিয়া ছিল অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও সর্বসম্মত। সংসদের সদস্যরা ঐকমত্যের ভিত্তিতে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করায় সংসদীয় কার্যক্রমের শুরুতেই একটি ইতিবাচক বার্তা পাওয়া গেছে।
এবারের একুশে বইমেলা যে সুপার ফ্লপ করল, আর এ ঘটনার মধ্য দিয়ে আমরা এই ঐতিহাসিক তাৎপর্যমণ্ডিত বাঙালির প্রাণের উৎসবটির যে কত বড় ক্ষতি করে ফেললাম, তার কারণ, দায় ও উত্তরণ নিয়ে গভীর গবেষণা অত্যন্ত প্রয়োজন।
দেশের দরিদ্র ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর জন্য সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে নতুন উদ্যোগ হিসেবে আসছে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি। অর্থনৈতিক চাপ ও মূল্যস্ফীতির এই সময়ে সাধারণ মানুষের আর্থিক সক্ষমতা বাড়াতে এই বিশেষ কার্ডের পরিকল্পনা করেছে নতুন সরকার।
বাংলাদেশে সাংবাদিকতা শিক্ষা যেভাবে একটি শক্তিশালী একাডেমিক শাখা হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে, তার পেছনে যাঁদের অবদান অগ্রগণ্য, তাদের মধ্যে অধ্যাপক সাখাওয়াত আলী খান অন্যতম। তার জীবনকে একটি বাক্যে সংক্ষেপ করা যায় এভাবে— তিনি ছিলেন সাংবাদিকতা শিক্ষা, নৈতিকতা ও মানবিকতার এক উজ্জ্বল সেতুবন্ধন।
ফ্যামিলি কার্ড মূলত সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির অংশ, যার মাধ্যমে নির্দিষ্ট পরিবারের জন্য স্বল্পমূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ করা হবে। সাধারণত পরিবারে নারীর নামেই এই কার্ড ইস্যু করা হয়। ফলে পরিবারের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব ও নিয়ন্ত্রণ নারীর হাতে আসে। এটি কেবল একটি কার্ড নয়, বরং নারীর অ
নারীরা রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম থেকেও ছিটকে গিয়ে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও নীতিনির্ধারণীর প্ল্যাটফর্ম থেকেও ছিটকে যাবেন। আর এর বিরূপ প্রভাব হবে সুদূরপ্রসারী। নারী নেতৃত্বহীনতার ভারসাম্যহীন অবস্থা পুরুষতান্ত্রিক পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র কাঠামোকেও সুষম ও ভারসাম্যহীন করে তুলবে বলে মনে করছেন বোদ্ধা ও বিশ্লেষকরা।