আমাদের দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে দেখা যায়, এ ধরনের ঐক্য খুবই ক্ষণস্থায়ী। নির্বাচনের পরপরই আদর্শগত ভিন্নতা আবার প্রকট হয়ে ওঠে, ঐক্যের বন্ধন ঢিলে হয়ে যায়।
কারিকুলাম পরিবর্তন, দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা কিংবা মূল্যায়ন পদ্ধতির সংস্কারের কথা শোনা গেলেও অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এখনো মুখস্থনির্ভর পড়াশোনা, নোটকেন্দ্রিক শিক্ষা এবং পরীক্ষাভীতি প্রধান হয়ে আছে। বিশ্লেষণধর্মী চিন্তাভাবনা, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা কিংবা বাস্তবজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষার পরিবেশ এখনো গড়ে ওঠেনি ব
আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রায়শই একাডেমিক মেরিটোক্রেসিকে (বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ, পদোন্নতি, মূল্যায়ন ও নেতৃত্ব নির্ধারিত হবে শুধু যোগ্যতা ও কাজের মানের ভিত্তিতে, ব্যক্তিগত পরিচয়, রাজনৈতিক প্রভাব বা তদবিরের ভিত্তিতে নয়) যথাযথভাবে প্রাধান্য দেওয়া হয় না।
বিশ্বের দীর্ঘতম প্রাকৃতিক সমুদ্রসৈকত থাকা সত্ত্বেও কক্সবাজার আন্তর্জাতিক পর্যটন মানচিত্রে এখনো পিছিয়ে। বছরে ৩০-৪০ লাখ দেশীয় পর্যটক এলেও বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা নগণ্য। তুলনায় থাইল্যান্ড বছরে প্রায় চার কোটি বিদেশি পর্যটক থেকে ৫০ বিলিয়ন ডলারের বেশি আয় করে। আর মালদ্বীপ মাত্র ২০ লাখ পর্যটক থেকেই তার জিডিপ
এই লেখা তেমনই এক নাগরিক কণ্ঠকে নিয়ে— বিপ্লবী শহিদ শরিফ ওসমান বিন হাদি। তিনি রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির তালিকায় নাও থাকতে পারেন, কিন্তু তার চিন্তা ও উচ্চারণ রাষ্ট্রকে একটি অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছিল।
রাজধানী শেরেবাংলা নগর পেরিয়ে মোহাম্মদপুরের প্রবেশদ্বারে রয়েছে একটি বিশাল তোরণ, যা ‘আসাদ গেট’ নামেই পরিচিত। ‘আসাদ গেট’ নামটি শোনেনি— এমন মানুষ বর্তমান প্রজন্মেও দুর্লভ। কিন্তু তারা কি জানেন— কে সেই আসাদ, যার নামে নামকরণ করা হয়েছে এই তোরণের? কেনই বা তার নামে দেওয়া হয়েছে তোরণটির নাম?
ভেনিজুয়েলার জনমানুষ যখন নিজ দেশের প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে তুলে নিয়ে যাওয়ার প্রতিবাদে রাজপথে মুখর, সেই সময়ই সে দেশের নোবেলজয়ী মারিয়া কোরিনা মাচাদো ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাকে নিজের নোবেল উৎসর্গ করে ষড়যন্ত্রের মুখোশ খুলে দিলেন। পুরস্কার ও তিরস্কারের পারস্পরিক ভাব-মিলনের
ইতিহাস প্রমাণ করে, পশ্চিম ইউরোপে পঞ্চাশ ও ষাটের দশকে শক্তিশালী মধ্যবিত্ত শ্রেণির উপস্থিতির কারণে রাজনৈতিক সংহতি, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং সামাজিক সুসংগঠন বজায় ছিল (Tocqueville, ১৯৫১)। বিপরীতে, মধ্যবিত্ত দুর্বল হলে রাষ্ট্রের ভিত্তি দ্রুতই ঝুঁকির মুখে পড়ে। মধ্যবিত্তের শক্ত অবস্থান রাষ্ট্রকে দীর্ঘমে
বাংলাদেশ নামক পুণ্যভূমিতে জন্মগ্রহণ করিলেই মানুষ অতি অল্প বয়সে দুইটি মৌলিক শিক্ষা লাভ করে। প্রথমত, লাইনে দাঁড়াইয়া কাজ আদায় একটি কাব্যিক কল্পনামাত্র; বাস্তব জীবনে ইহার কার্যকর অস্তিত্ব নাই। দ্বিতীয়ত, যন্ত্র হউক বা মানুষ— উভয়ের ক্ষেত্রেই সামান্য তৈল না ঢালিলে চাক্র ঘূর্ণায়মান হয় না। এই তৈলই হইল চাটুকা
২০২৫ সালের ৭ ডিসেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনে আরও জানানো হয়, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা এখন থেকে অন্য কোনো বেতনের চাকরি বা অর্থপ্রাপ্তির কাজে নিয়োজিত থাকতে পারবেন না। নীতিমালার ১১ নম্বর ধারা এবং ১৭ উপধারা (ক) ও (খ)-এ বিষয়ে সুস্পষ্টভাবে নিষেধাজ্ঞা আর
খালেদা জিয়ার সঙ্গে এ দেশের মানুষের এই বন্ধন যেন ছিল রাজনীতির ঊর্ধ্বে। তার জানাজায় আসা সবাই দলীয় নেতাকর্মী ছিলেন না। অধিকাংশই ছিলেন সাধারণ মানুষ। কীভাবে তিনি এত এত সাধারণ মানুষের হৃদয় স্পর্শ করেছিলেন, তা ছিল সত্যিই বিস্ময়কর। ইতিহাসের এক কালজয়ী অধ্যায়।
প্রশ্ন জাগে— তাদের দাবি কী? সব দাবিই কি কেবল এই ব্যবসায়ীদের? ভোক্তা বা দেশের নাগরিকদের কি কোনো দাবি থাকতে পারে না? জনগণকে জিম্মি করে এভাবে দাবি আদায়ের নামে যারা আন্দোলন করে, তারা কি আসলেই ব্যবসায়ী, নাকি লুটেরা?
ইউরোপীয় রাষ্ট্রগুলো চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগে যুক্ত থেকেও নিজেদের রাজনৈতিক ও কৌশলগত স্বাধীনতা রক্ষায় সচেতন অবস্থান নিয়েছে (European Council on Foreign Relations, ২০২৩)। এ অভিজ্ঞতা দেখায়, অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও রাজনৈতিক স্বাধীনতার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা কতটা জরুরি।
এই ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট থেকেই আসে ‘নতুন বাংলাদেশে’র ধারণা। এটি কোনো সাময়িক রাজনৈতিক স্লোগান নয়; এটি একটি নৈতিক অঙ্গীকার, একটি সামাজিক চুক্তি— যেখানে রাষ্ট্র হবে মানুষের সেবক, প্রভু নয়।
আন্তর্জাতিক আইনের কোনো তোয়াক্কা না করে, আইনকে পদদলিত করে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে ভেনেজুয়েলায় হামলা চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে তুলে নিয়ে গেছে, সেই দৃশ্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসী নীতিরই নগ্ন বহির্প্রকাশ ছাড়া অন্য কিছুই হতে পারে না।