
জান্নাতুল বাকেয়া কেকা

চলে যাচ্ছেন ইতিহাসের সাক্ষীরা! বাতিঘর আজ নিবু নিবু! কান্ডারী হবেন কে? ইতিহাসের ধারক-ভারবাহী প্রজন্ম তৈরি হয়েছে কি? কিংবা আদৌ কেউ আছেন কি? ইতিহাস বিমুখ বাঙালির জাতিসত্তার পরিচয় ভোলাতে দেশি-বিদেশি প্রলোভন, অবাধ হস্তক্ষেপ ও সুযোগ-সুবিধার ছড়াছড়িতে কয়েক প্রজন্ম ব্যস্ত। যারা নিজের দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের প্রশ্নের চেয়েও আত্মস্বার্থের ঘোর মোহে আচ্ছন্ন—সেই তারাই কি হতে পারেন ইতিহাসের ধারক-বাহক?
হালের বাস্তবতায় বাঙালি জাতিসত্তার পরিচয়ের জন্মগর্ভ ঐতিহাসিক ও মহান একাত্তরের সম্মুখ সমর আর স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব নিয়ে যেভাবে পথভ্রষ্টতা ও বিকৃতির ছড়াছড়ি দেখেছি, তাতে ভরসার কোনো কাঁধ দেখিনি। কার ওপর নির্ভার থাকবে এদেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্য?
রাষ্ট্র বাংলাদেশের জন্মের গৌরবময় মাহাত্ম্যও যেভাবে বিভ্রান্তির শিকার হয়েছে, সেখানে প্রাণমন লয়ে লড়াকু সৈনিকের দেখা কমই মিলেছে! জন্মের সূচনায় একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধা ইস্যুতে ইতিহাস বিকৃতির যে নগ্নতা দেখেছি, তাতে ভরসা করা যায় এমন তরুণ মেধাবী মুখ দেখা যায়নি। যে দুই-একজন সামনে এসেছেন তারাও নাকি ভাড়াটে খেলোয়াড়! বিস্মিত হই—পরিস্থিতি কি তবে বরফখণ্ডের জলে ভাসমান সূত্রের মতো, তিনভাগ অদৃশ্য অথচ বৃহৎ, বাকি দৃশ্যমান মাত্র একভাগ—যারা দেশ, ইতিহাস ও ঐতিহ্যের গৌরবময় মাহাত্ম্য ধারণ করেন? তবে তো পরিস্থিতি ভয়ঙ্কর!
মনে-প্রাণে চাই বিশ্বাস করতে—অদৃশ্যমান সেই তিনভাগই হোক ইতিহাসমনস্ক, ইতিহাসের ধারক-বাহক। তবে সময়ের সাহসী সন্তান না হলে লাভ কী? কারণ, চোরকাটার মতো লুকিয়ে থাকার সুযোগে বর্ণচোরা মুনাফেকরা তলে তলে ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার করছে তারুণ্যের মনস্তত্ত্বে। এদেশের জন্মবেদনার অতীত আর ঐতিহাসিক দলিল দখলে নিয়ে তারা মিথ্যা ও বানোয়াট ইতিহাস পাঠে নিমগ্ন করে তুলেছে বিশাল এক ইতিহাস বিমুখ প্রজন্মকে।
আজকের বাস্তবতায় এক কঠিন উপলব্ধি—দেশের জন্মের গৌরবময় মাহাত্ম্য, বাঙালিত্বের নানা সৌরভ ও নির্দেশনায় অভিভূত হবে কোন প্রজন্ম? সবাই তো ভিন্নদেশি এজেন্টদের কবলে পড়ে শুধু আত্মোন্নয়নের তসবিহ জপছে। ইউরোপ-আমেরিকা পাড়ি দিতে তারা নিজ দেশের ইতিহাস ও ঐতিহাসিক দলিল ত্যাগ করছে।
চেতনা বিক্রির ব্যবসায়ীরা রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের সুযোগে এত সুবিধা ভোগ করেছে যে একাংশের মানুষ একাত্তর, মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার মতো স্পর্শকাতর বিষয়েও শ্রদ্ধা হারিয়েছে। বিস্ময়ের বিষয়, এই চেতনা বিক্রেতাদের অনেকে একাত্তর ও মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী হয়েও চেতনা ব্যবসার মূল কারিগর ছিলেন! এজন্য তৃণমূলের বিপুলসংখ্যক মানুষ চেতনা বিক্রির প্রতি বিতৃষ্ণ হয়ে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের প্রতিও অনাস্থাশীল হয়েছে। যদিও এটি সাময়িক মান-অভিমানের ফল, তবে ভয় এখানেই—অতীতের দীর্ঘ সময়ে একদল বিপুল অর্থ ও শক্তি সঞ্চয় করে এতটাই শক্তিশালী হয়েছে যে তাদের ফাঁদে আটকা পড়েছে তরুণ প্রজন্মের বিরাট অংশ। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের দেশি-বিদেশি শক্তিশালী এজেন্টরা। এরা নানান প্রলোভনের জালে জড়িয়ে দেশের স্বাধীনতা, ইতিহাস, ঐতিহ্য ও আভিজাত্যকে তুচ্ছ করে আত্মপ্রেমে মগ্ন এক প্রজন্ম তৈরি করেছে। এই সাফল্যের হাত ধরে ষড়যন্ত্রকারীরা আজ প্রকাশ্যেই মেতে উঠেছে স্বাধীনতা ও একাত্তরের চেতনা নিধনে।
এই বিরূপ বাস্তবতায় আমাদের চেতনার বাতিঘর ড. আহমদ রফিকের মতো বহুমুখী গুণীজনের প্রস্থান আমাদের শঙ্কিত করে। ইতিহাসের বাঁকে প্রত্যক্ষ সাক্ষীরা যখন কালের গহ্বরে হারিয়ে যাচ্ছেন, তখন যে কোনো জাতির মতোই বাঙালি জাতিসত্তার মানুষের টিকে থাকার মূলমন্ত্র—অমর একুশ, স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ ও একাত্তরের চেতনা—লালন করবে কে? বিস্মৃত এই জাতির ললাটে কি তবে জুড়ে যাবে সেই কলঙ্কচিহ্ন—‘বাঙালি এক ইতিহাস বিমুখ জাতি’?
তবে এ জাতির মুক্তির মন্দিরের সোপানতলে কে হবেন কান্ডারী? আমরা কি সেই ইতিহাসের ভারবাহী নতুন প্রজন্ম তৈরি করতে পেরেছি? না পারার দায় কার?
লেখক: সিনিয়র সাংবাদিক ও লেখক

চলে যাচ্ছেন ইতিহাসের সাক্ষীরা! বাতিঘর আজ নিবু নিবু! কান্ডারী হবেন কে? ইতিহাসের ধারক-ভারবাহী প্রজন্ম তৈরি হয়েছে কি? কিংবা আদৌ কেউ আছেন কি? ইতিহাস বিমুখ বাঙালির জাতিসত্তার পরিচয় ভোলাতে দেশি-বিদেশি প্রলোভন, অবাধ হস্তক্ষেপ ও সুযোগ-সুবিধার ছড়াছড়িতে কয়েক প্রজন্ম ব্যস্ত। যারা নিজের দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের প্রশ্নের চেয়েও আত্মস্বার্থের ঘোর মোহে আচ্ছন্ন—সেই তারাই কি হতে পারেন ইতিহাসের ধারক-বাহক?
হালের বাস্তবতায় বাঙালি জাতিসত্তার পরিচয়ের জন্মগর্ভ ঐতিহাসিক ও মহান একাত্তরের সম্মুখ সমর আর স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব নিয়ে যেভাবে পথভ্রষ্টতা ও বিকৃতির ছড়াছড়ি দেখেছি, তাতে ভরসার কোনো কাঁধ দেখিনি। কার ওপর নির্ভার থাকবে এদেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্য?
রাষ্ট্র বাংলাদেশের জন্মের গৌরবময় মাহাত্ম্যও যেভাবে বিভ্রান্তির শিকার হয়েছে, সেখানে প্রাণমন লয়ে লড়াকু সৈনিকের দেখা কমই মিলেছে! জন্মের সূচনায় একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধা ইস্যুতে ইতিহাস বিকৃতির যে নগ্নতা দেখেছি, তাতে ভরসা করা যায় এমন তরুণ মেধাবী মুখ দেখা যায়নি। যে দুই-একজন সামনে এসেছেন তারাও নাকি ভাড়াটে খেলোয়াড়! বিস্মিত হই—পরিস্থিতি কি তবে বরফখণ্ডের জলে ভাসমান সূত্রের মতো, তিনভাগ অদৃশ্য অথচ বৃহৎ, বাকি দৃশ্যমান মাত্র একভাগ—যারা দেশ, ইতিহাস ও ঐতিহ্যের গৌরবময় মাহাত্ম্য ধারণ করেন? তবে তো পরিস্থিতি ভয়ঙ্কর!
মনে-প্রাণে চাই বিশ্বাস করতে—অদৃশ্যমান সেই তিনভাগই হোক ইতিহাসমনস্ক, ইতিহাসের ধারক-বাহক। তবে সময়ের সাহসী সন্তান না হলে লাভ কী? কারণ, চোরকাটার মতো লুকিয়ে থাকার সুযোগে বর্ণচোরা মুনাফেকরা তলে তলে ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার করছে তারুণ্যের মনস্তত্ত্বে। এদেশের জন্মবেদনার অতীত আর ঐতিহাসিক দলিল দখলে নিয়ে তারা মিথ্যা ও বানোয়াট ইতিহাস পাঠে নিমগ্ন করে তুলেছে বিশাল এক ইতিহাস বিমুখ প্রজন্মকে।
আজকের বাস্তবতায় এক কঠিন উপলব্ধি—দেশের জন্মের গৌরবময় মাহাত্ম্য, বাঙালিত্বের নানা সৌরভ ও নির্দেশনায় অভিভূত হবে কোন প্রজন্ম? সবাই তো ভিন্নদেশি এজেন্টদের কবলে পড়ে শুধু আত্মোন্নয়নের তসবিহ জপছে। ইউরোপ-আমেরিকা পাড়ি দিতে তারা নিজ দেশের ইতিহাস ও ঐতিহাসিক দলিল ত্যাগ করছে।
চেতনা বিক্রির ব্যবসায়ীরা রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের সুযোগে এত সুবিধা ভোগ করেছে যে একাংশের মানুষ একাত্তর, মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার মতো স্পর্শকাতর বিষয়েও শ্রদ্ধা হারিয়েছে। বিস্ময়ের বিষয়, এই চেতনা বিক্রেতাদের অনেকে একাত্তর ও মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী হয়েও চেতনা ব্যবসার মূল কারিগর ছিলেন! এজন্য তৃণমূলের বিপুলসংখ্যক মানুষ চেতনা বিক্রির প্রতি বিতৃষ্ণ হয়ে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের প্রতিও অনাস্থাশীল হয়েছে। যদিও এটি সাময়িক মান-অভিমানের ফল, তবে ভয় এখানেই—অতীতের দীর্ঘ সময়ে একদল বিপুল অর্থ ও শক্তি সঞ্চয় করে এতটাই শক্তিশালী হয়েছে যে তাদের ফাঁদে আটকা পড়েছে তরুণ প্রজন্মের বিরাট অংশ। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের দেশি-বিদেশি শক্তিশালী এজেন্টরা। এরা নানান প্রলোভনের জালে জড়িয়ে দেশের স্বাধীনতা, ইতিহাস, ঐতিহ্য ও আভিজাত্যকে তুচ্ছ করে আত্মপ্রেমে মগ্ন এক প্রজন্ম তৈরি করেছে। এই সাফল্যের হাত ধরে ষড়যন্ত্রকারীরা আজ প্রকাশ্যেই মেতে উঠেছে স্বাধীনতা ও একাত্তরের চেতনা নিধনে।
এই বিরূপ বাস্তবতায় আমাদের চেতনার বাতিঘর ড. আহমদ রফিকের মতো বহুমুখী গুণীজনের প্রস্থান আমাদের শঙ্কিত করে। ইতিহাসের বাঁকে প্রত্যক্ষ সাক্ষীরা যখন কালের গহ্বরে হারিয়ে যাচ্ছেন, তখন যে কোনো জাতির মতোই বাঙালি জাতিসত্তার মানুষের টিকে থাকার মূলমন্ত্র—অমর একুশ, স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ ও একাত্তরের চেতনা—লালন করবে কে? বিস্মৃত এই জাতির ললাটে কি তবে জুড়ে যাবে সেই কলঙ্কচিহ্ন—‘বাঙালি এক ইতিহাস বিমুখ জাতি’?
তবে এ জাতির মুক্তির মন্দিরের সোপানতলে কে হবেন কান্ডারী? আমরা কি সেই ইতিহাসের ভারবাহী নতুন প্রজন্ম তৈরি করতে পেরেছি? না পারার দায় কার?
লেখক: সিনিয়র সাংবাদিক ও লেখক

এবারের একুশে বইমেলা যে সুপার ফ্লপ করল, আর এ ঘটনার মধ্য দিয়ে আমরা এই ঐতিহাসিক তাৎপর্যমণ্ডিত বাঙালির প্রাণের উৎসবটির যে কত বড় ক্ষতি করে ফেললাম, তার কারণ, দায় ও উত্তরণ নিয়ে গভীর গবেষণা অত্যন্ত প্রয়োজন।
২ দিন আগে
দেশের দরিদ্র ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর জন্য সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে নতুন উদ্যোগ হিসেবে আসছে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি। অর্থনৈতিক চাপ ও মূল্যস্ফীতির এই সময়ে সাধারণ মানুষের আর্থিক সক্ষমতা বাড়াতে এই বিশেষ কার্ডের পরিকল্পনা করেছে নতুন সরকার।
৪ দিন আগে
বাংলাদেশে সাংবাদিকতা শিক্ষা যেভাবে একটি শক্তিশালী একাডেমিক শাখা হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে, তার পেছনে যাঁদের অবদান অগ্রগণ্য, তাদের মধ্যে অধ্যাপক সাখাওয়াত আলী খান অন্যতম। তার জীবনকে একটি বাক্যে সংক্ষেপ করা যায় এভাবে— তিনি ছিলেন সাংবাদিকতা শিক্ষা, নৈতিকতা ও মানবিকতার এক উজ্জ্বল সেতুবন্ধন।
৪ দিন আগে
ফ্যামিলি কার্ড মূলত সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির অংশ, যার মাধ্যমে নির্দিষ্ট পরিবারের জন্য স্বল্পমূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ করা হবে। সাধারণত পরিবারে নারীর নামেই এই কার্ড ইস্যু করা হয়। ফলে পরিবারের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব ও নিয়ন্ত্রণ নারীর হাতে আসে। এটি কেবল একটি কার্ড নয়, বরং নারীর অ
৫ দিন আগে