রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে প্রথমবারের মতো সংযুক্ত আরব আমিরাতে ত্রিপাক্ষিক বৈঠকে বসছে রাশিয়া, ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্র। ২৩ ও ২৪ জানুয়ারির এই বৈঠকে ভূখণ্ড ছাড়ের অমীমাংসিত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা বিশেষ গুরুত্ব পাবে বলে জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন এ উদ্যোগে অংশ নিতে পুতিনকে আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রস্তাবের সব দিক নিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা করতে চায় মস্কো।
ফক্স নিউজের খবরে বলা হয়েছে, এই স্থগিতাদেশ ২১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে এবং ভিসা প্রক্রিয়ার পুনর্মূল্যায়ন সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকাল বহাল থাকবে।
মাদুরো স্টাইলে রুশ প্রেসিডেন্টকে তুলে নেওয়ার হুঙ্কার দিয়ে ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলি বলেছেন, সুযোগ পেলে তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে রাশিয়া থেকে ধরে নিয়ে গিয়ে যুদ্ধাপরাধের জন্য জবাবদিহির আওতায় আনতেন।
নানা ইস্যুতেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান দুই রাজনৈতিক দল রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে দ্বন্দ্ব রয়েছে। এমনকি ভেনেজুয়েলায় আগ্রাসন ইস্যুতেও ট্রাম্প প্রশাসনের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ডেমোক্র্যাটরা। রাশিয়া ইস্যুতে এসে সেই দুই দল এক হয়ে গেছে। আলোচিত এ বিলটিও এনেছেন দুই দলের দুই সিনেটর।
দীর্ঘ দিন ধরেই জেলেনস্কিকে ‘অবৈধ’ দাবি করে আসছে রাশিয়া। দেশটি বলছে, বর্তমানে ইউক্রেনের আইনি ক্ষমতা দেশটির পার্লামেন্টের হাতে রয়েছে। ফলে ‘অবৈধভাবে’ ক্ষমতায় থাকা জেলেনস্কিই শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানোর পথে ‘বড় বাধা’ বলে মনে করছে মস্কো।
রাজধানী মস্কোকে গাড়ি বোমা হামলায় রাশিয়ার সেনাবাহিনীর এক জেনারেল নিহত হয়েছেন। সোমবার (২২ ডিসেম্বর) দেশটির কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন।
ভারতের রাশিয়ার তেল ক্রয় চালিয়ে যাওয়াকে দায়ী করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগস্টে ভারতের অধিকাংশ পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেন। ওয়াশিংটন মনে করে, রাশিয়ার এই তেল রাজস্ব ইউক্রেন যুদ্ধকে অর্থায়ন করছে।
বর্তমানে ডনবাসের প্রায় ৮৫ শতাংশ এলাকা মস্কোর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কিন্তু ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এ অঞ্চলটি রাশিয়ার ছেড়ে দেওয়ার বিষয় সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন।
মস্কোতে রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্র বৈঠক প্রায় ‘ব্যর্থ’ হওয়ার পর এবার ইউক্রেনের সঙ্গে ফ্লোরিডার মায়ামিতে আলোচনায় বসতে যাচ্ছেন মার্কিন বিশেষ প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আহ্বানে ২৩তম ভারত-রাশিয়া বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে বৃহস্পতিবার দিল্লি আসছেন ভ্লাদিমির পুতিন।
এই ব্যস্ত সফরসূচি ঘিরে অতিসতর্ক অবস্থানে রয়েছে দিল্লি। সূত্র জানায়, তার আগমনের আগে রাশিয়ার চার ডজনেরও বেশি শীর্ষ নিরাপত্তাকর্মী দিল্লিতে এসে পৌঁছেছেন। দিল্লি পুলিশ ও এনএসজি সদস্যদের সঙ্গে তারা পুতিনের সম্ভাব্য যাতায়াতপথগুলো পর্যায়ক্রমে পরীক্ষা ও নিরাপদ করছেন।
পুতিন বলেন, ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ করতে যুক্তরাষ্ট্র যে প্রস্তাব করেছে, তা ভবিষ্যৎ চুক্তির ভিত্তি হতে পারে। তবে ইউক্রেনের সৈন্যরা অনেক অঞ্চলে রয়ে গেছে। কিয়েভ এসব সেনাসদস্যদের সরিয়ে না নিলে রুশ সেনারা জোর করে আরও ভূখণ্ড দখল করে নেবে।
ইউক্রেন ও তাদের ইউরোপীয় মিত্ররা ফাঁস হওয়া প্রস্তাবগুলো নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেও রাশিয়ার পক্ষ থেকে স্বাগত জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ভ্লাদিমির পুতিনের মাধ্যমে সমাধানের একটি ‘ভিত্তি’ হিসেবেও এ প্রস্তাবগুলোকে স্বাগত জানানো হয়েছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, হামলার পর এখনো বহু মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, রাশিয়া এই হামলায় ৪৭০টিরও বেশি ড্রোন এবং কমপক্ষে ৪৭টি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে।