লেবাননভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ এবং ইসরায়েল নিজেদের মধ্যে ‘সব ধরনের হামলা বন্ধে’ সম্মত হয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর মাধ্যমে বৈরুতে ইসরায়েলের সম্ভাব্য ভয়াবহ হামলা এবং ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি আলোচনা ভেঙে পড়ার ঝুঁকি আপাতত এড়ানো গেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যেই আজ বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কিছুটা কমেছে। আগের কার্যদিবসে তেলের দাম ব্যাপক বাড়লেও নতুন করে সমঝোতার আশায় বিনিয়োগকারীরা এখন সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনের কার্যালয়ের অফিশিয়াল এক্স হ্যান্ডেল থেকে প্রচারিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, 'হিজবুল্লাহ লেবানন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছে যে, পারস্পরিক হামলা বন্ধে তারা যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া প্রস্তাবে সম্মত হয়েছে।'
লেবাননের অভ্যন্তরে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে লড়াই আরও জোরদার করতে ইসরায়েলি সেনাদের দেশটির আরও গভীরে প্রবেশের নির্দেশের পর, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান পরোক্ষ আলোচনা স্থগিত করেছে ইরান। তেহরানের এই আকস্মিক সিদ্ধান্তের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের তিন মাস ধরে চলা যুদ্ধ অবসানের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা নতুন করে বড় ধরনের জটিলত
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু লেবাননের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছেন। দেশটির রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহরতলিতে হিজবুল্লাহর প্রধান ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে হামলার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
সপ্তাহের শেষভাগে ইরানের বেশ কয়েকটি সামরিক ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার পর, এর পালটা জবাব হিসেবে একটি মার্কিন বিমান ঘাঁটি লক্ষ্য করে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ব্যাপক বিমান হামলার ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ইরানের ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিগুলো সচল হয়ে উঠছে। মাটির নিচে সংরক্ষিত ক্ষেপণাস্ত্রের বিশাল মজুতে পুনরায় প্রবেশাধিকার অর্জন ও ঘাঁটিগুলোর প্রবেশপথ পুনরুদ্ধারের পর তেহরান ফের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সক্ষমতা ফিরে পাচ্ছে বলে মনে করছ
আজ রোববার (৩১ মে) ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর (আইডিএফ) পক্ষ থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। ইরান সমর্থিত লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে চলমান এই লড়াইকে ইসরায়েলের একটি বড় ধরনের অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এখন প্রশ্ন একটাই— পারস্পরিক অবিশ্বাস ও শর্তের দেয়াল ভেঙে দুই দেশ কি সত্যিই একটি স্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছাতে পারবে, নাকি সাময়িক যুদ্ধবিরতির পর ফের নতুন করে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়বে মধ্যপ্রাচ্যে?
তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামরিক পদক্ষেপ না থাকলে ইরান ইতোমধ্যে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করে ফেলতো। তার ভাষায়, “আমরা যদি নয় মাস আগে বি-২ বোমারু বিমান দিয়ে তাদের ওপর হামলা না করতাম, তাহলে তারা এখনই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতো এবং পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন হতো।”
হরমুজ প্রণালি এলাকায় অবস্থানরত বিদেশি সামরিক বাহিনীগুলোকেও সতর্ক করেছে তেহরান। ইরান স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, সামুদ্রিক চলাচল বা প্রণালির ব্যবস্থাপনায় কোনো ধরনের হস্তক্ষেপের চেষ্টা করা হলে তার উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা গত বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে আলোচনার পর একটি খসড়া চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে, যা এখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। তবে আলোচনার টেবিলে অগ্রগতির খবর মিললেও সামরিক উত্তেজনা কমার কোনো লক্ষণ নেই। গত কয়েক দিনে ইরানে দ্বিতীয় দফায়
ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানকে অবশ্যই প্রতিশ্রুতি দিতে হবে যে তারা কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না। পাশাপাশি উভয় দিকের জন্য ‘অবাধ নৌ চলাচলের’ উপযোগী করে হরমুজ প্রণালিকে পুনরায় খুলে দিতে হবে এবং ওই জলপথে পাতা সব মাইন ধ্বংস করতে হবে।
শুক্রবার ট্রাম্প বলেন, তিনি হোয়াইট হাউজের সিচুয়েশন রুমে জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে প্রস্তাবিত সমঝোতা নিয়ে ‘চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত’ নেবেন। এই চুক্তি কার্যকর হলে এপ্রিলের শুরুতে হওয়া যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিন বাড়বে এবং স্থায়ী শান্তিচুক্তি নিয়ে আলোচনার জন্য অতিরিক্ত সময় পাওয়া যাবে।
শুক্রবার (২৯ মে) রুশ সংবাদমাধ্যম আরআইএ নভোস্তিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আজিজি বলেন, ‘ইরান তার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম কোনো তৃতীয় দেশের কাছে হস্তান্তর করতে চায় না।’
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় গত অক্টোবরে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় ইসরায়েলি বাহিনী গাজার ৫৩ শতাংশ এলাকা নিয়ন্ত্রণে রেখে একটি নির্ধারিত সীমারেখায় অবস্থান নেয়। তবে এরপর থেকেই ধীরে ধীরে তারা পশ্চিমমুখী অগ্রসর হয়ে হামাস-নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোর দিকে নিয়ন্ত্রণ বিস্তার করে আসছে। একই সঙ্গে সীমান্তবর্তী বিস্ত
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর তথ্য বলছে, ইরানের সঙ্গে শান্তিচুক্তির যে খসড়া, তাতে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া ও এ প্রণালি থেকে অবরোধ প্রত্যাহার এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় ইরানের আটকে থাকা ১২ বিলিয়ন ডলার ছাড়ের প্রস্তাব রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে বিবদমান এসব ইস্যুতে সমঝোতা হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। তবে এখনো চূড়ান