ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন তাদের টেলিগ্রাম বার্তায় জানিয়েছে, তেহরান, তাবরিজ ও ইসফাহানে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এ ছাড়া মধ্যাঞ্চলীয় শহর কারাজের কাছেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, গত ১০০ দিনে এই যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক অর্থনীতি, জ্বালানি বাজার ও আন্তর্জাতিক কূটনীতিতেও। সেই প্রভাব সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বেড়েই চলেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এ যুদ্ধে সবচেয়ে বড় বিজয়ীদের মধ্যে রয়েছে ইরানের শাসকগোষ্ঠী, চীন ও ইউক্রেন। অন্যদিকে সবচেয়ে বড় ক্ষতির মুখে পড়েছে জ্বালানি বাজার এবং লেবানন। আর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের অবস্থান এখনো স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা কঠিন।
আইআরজিসি বলছে, এই অভিযান কোনো সাময়িক বা সাধারণ ঘটনা নয়, বরং এটি টানা এক সপ্তাহের অবিরাম হামলার শুরু মাত্র। ‘শত্রুপক্ষ’ তাদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ না করা পর্যন্ত আগামী সাত দিন ধরে চব্বিশ ঘণ্টাই ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের একের পর এক বহর উৎক্ষেপণ অব্যাহত থাকবে।
ইরান বলছে, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ‘হুমকি’ পুরোপুরি দূর না হওয়া পর্যন্ত এবং কোনো ধরনের অবরোধের মুখে প্রণালির ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হবে না। অন্যদিকে ওয়াশিংটন জোর দিয়ে বলছে, যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে হরমুজ অবশ্যই কোনো শর্ত বা টোল ছাড়াই আন্তর্জাতিক নৌ পরিবহনের জন্য পুরোপুরি উন্মুক্ত থাকতে হবে।
যুদ্ধকালীন জাতীয় ঐক্য পার হয়ে এক ঝুঁকিপূর্ণ ও চরম বাস্তবতার পথে পা বাড়াতে যাচ্ছে ইরান। এই বাস্তবতা হলো— দেশটির আকাশচুম্বী মূল্যস্ফীতি, অর্থনীতির ১০ শতাংশ সংকোচন, তীব্র বিদ্যুৎ বিপর্যয় এবং সরকারের নজিরবিহীন ভিন্নমত দমনের বিরুদ্ধে ওঠা তীব্র জনরোষের এক অগ্নিপরীক্ষা।
বৈরুত-তেল আবিব যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেস্তে যাওয়ার পর, নিজেদের লেবানিজ মিত্র হিজবুল্লাহর প্রতি আবারও প্রকাশ্য ও জোরালো সমর্থন ব্যক্ত করেছে ইরান। একই সঙ্গে দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি বাহিনীকে সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে তেহরান।
এই ঘটনায় কোনো মার্কিন সেনা হতাহত বা বাহরাইনের পঞ্চম নৌবহরের সদর দফতর ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি উল্লেখ করে সেন্টকম জানায়, পর্দার আড়ালে স্থায়ী যুদ্ধবিরতির আলোচনা চললেও সাম্প্রতিক এই মুখোমুখি সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিকে আবারও চরম উত্তেজনার মুখে ঠেলে দিয়েছে।
মার্কিন সূত্র জানায়, ওই ড্রোনগুলো আন্তর্জাতিক নৌপথে চলাচলকারী জাহাজগুলোর ওপর নজরদারির উদ্দেশ্যে মোতায়েন করা হয়েছিল। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট হরমুজ প্রণালি দিয়ে যুদ্ধ শুরুর আগে বৈশ্বিক তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবাহিত হতো। বর্তমানে অঞ্চলটিতে উত্তেজনার কারণে প্রণালির স্বাভাব
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে দ্বন্দ্বে যুদ্ধবিধ্বস্ত লেবাননকে ইরান নিজের স্বার্থে ‘দাবার গুটি’ হিসেবে ব্যবহার করছে বলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন। একই সঙ্গে বৈরুতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে তেহরানের সব ধরনের হস্তক্ষেপ অবিলম্বে বন্ধ করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, ওয়াশিংটনের সঙ্গে যেকোনো শান্তিচুক্তিতে পৌঁছানোর প্রধান শর্ত হিসেবে লেবাননে যুদ্ধবিরতির দাবি তুলেছিল ইরান। এমনকি সাম্প্রতিক দিনগুলোতে তেহরান এমন ইঙ্গিতও দিয়েছে— ইসরায়েল যদি লেবাননে হামলা অব্যাহত রাখে বা আরও জোরদার করে, তবে তারা তাদের মিত্র হিজবুল্লাহর পক্ষে
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে সমঝোতা আলোচনার চেষ্টা চলছে, সেখানেও প্রথম শর্ত হিসেবে বলা হয়েছে— লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধের অবসান ঘটাতে হবে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, হয় এই যুদ্ধ ইরান এবং লেবানন দুই ফ্রন্টেই শেষ হবে, অথবা দুই জায়গাতেই চলতে থাকবে।
তবে চলমান সংঘাতের মধ্যেই এই আলোচনাকে টেকসই শান্তির দিকে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে আগামী ২২ জুনের পর দুই পক্ষ আবারও পরবর্তী দফার আনুষ্ঠানিক আলোচনায় বসবে।
এর আগে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম দাবি করে, দেশটির ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌ বহরের সদর দপ্তর, একটি মার্কিন বিমান ঘাঁটি ও ‘পানায়া’ নামে একটি জাহাজে সফল হামলা চালিয়েছে। তবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) তাদের ঘাঁটিতে আঘাত হানার বিষয়টি জোরালোভাবে অস্
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্বার্থ ও মিত্র দেশগুলোর বিরুদ্ধে ইরানের কথিত হামলার চেষ্টার জবাবে কেশম দ্বীপে এ অভিযান চালানো হয়। সেন্টকমের দাবি, অভিযানে একটি ইরানি সামরিক নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। পাশাপাশি উপসাগরীয় অঞ্চলে বেসামরিক জাহাজের দিক
তাওয়াকোলিজাদেহ আরও জানান, রাজধানী তেহরানসহ কোম ও মাশহাদ শহরে জানাজার পর মাশহাদ শহরে দাফন করা হবে আলি খামেনিকে। ইরানের অন্যতম ধর্মীয় তীর্থস্থান এই শহরেই শিয়া মতাবলম্বীদের অন্যতম ইমাম আলি ইবনে মুসা ওরফে ইমাম রেজা (আ.)-এর সমাধি অবস্থিত।