
ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম

লেবাননের অভ্যন্তরে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে লড়াই আরও জোরদার করতে ইসরায়েলি সেনাদের দেশটির আরও গভীরে প্রবেশের নির্দেশের পর, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান পরোক্ষ আলোচনা স্থগিত করেছে ইরান। তেহরানের এই আকস্মিক সিদ্ধান্তের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের তিন মাস ধরে চলা যুদ্ধ অবসানের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা নতুন করে বড় ধরনের জটিলতার মুখে পড়ল।
সোমবার (১ জুন) ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিমের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়, লেবাননে হামলার বিষয়ে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের সঙ্গে বার্তা আদান-প্রদান বন্ধ করে দিয়েছে ইরানের প্রতিনিধিদল। মূলত ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ যুদ্ধই লেবাননে হিজবুল্লাহর সঙ্গে ইসরায়েলের পুরনো সংঘাতকে নতুন করে উস্কে দিয়েছে।
বিশ্ববাজারে বাড়ল তেলের দাম
গত সপ্তাহের শেষদিকে ইরানের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে মার্কিন হামলার পর, আজ সোমবার ইরান একটি মার্কিন বিমান ঘাঁটিতে পালটা আঘাত হানার দাবি করে। এই পালটাপালটি হামলার জেরে দুই দেশের মধ্যকার ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি যখন চরম সংকটে, ঠিক তখনই তাসনিম নিউজের এই প্রতিবেদন প্রকাশ পেল। পরোক্ষ আলোচনা স্থগিতের খবরটি সামনে আসার পরপরই বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলে ৫ ডলারেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আশা প্রকাশ করে বলেছিলেন যে, তেহরান একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে চায়। তবে মার্কিন প্রশাসনের 'অনবরত পরিবর্তনশীল' অবস্থান নিয়ে ইরানি কর্মকর্তাদের কড়া সমালোচনার পর সেই সম্ভাবনা অনেকটাই ম্লান হয়ে পড়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিও লেবানন ইস্যুকে আলোচনার একটি বড় অন্তরায় হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, 'যেকোনো একটি ফ্রন্টে শর্ত লঙ্ঘন মানে সব ফ্রন্টেই যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করা। আর যেকোনো ধরনের লঙ্ঘনের পরিণতির জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলই সম্পূর্ণ দায়ী থাকবে।'
ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ও হরমুজ প্রণালি সংকট
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথভাবে শুরু করা এই যুদ্ধে এ পর্যন্ত হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে, যার বড় অংশই ইরান ও লেবাননে। তা ছাড়া, ইরান কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি কার্যকরভাবে বন্ধ করে দেওয়ার পর থেকে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে।
তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, ইরান এবং ইয়েমেন, লেবানন ও ইরাকের শিয়া মিত্রদের নিয়ে গঠিত তাদের 'প্রতিরোধ ফ্রন্ট' (রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট) ইসরায়েল ও তার সমর্থকদের 'শাস্তি' দিতে হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ করার এবং বাব আল-মান্দেব প্রণালিসহ অন্যান্য ফ্রন্টগুলো সক্রিয় করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। ইয়েমেনে ইরানের মিত্র হুতি বিদ্রোহীরা যদি এই সংঘাতের নতুন ফ্রন্ট খোলে, তবে তাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্যবস্তু হবে ইয়েমেন উপকূলের বাব আল-মান্দেব প্রণালি। এটি লোহিত সাগর হয়ে সুয়েজ খালের দিকে সামুদ্রিক জাহাজ চলাচলের একমাত্র সরু পথ।
লেবানন প্রসঙ্গে ইরানের দাবির কথা উল্লেখ করে তাসনিম জানিয়েছে, 'এই বিষয়ে ইরান এবং প্রতিরোধ ফ্রন্টের দৃষ্টিভঙ্গি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কোনো আলোচনা হবে না।'
গত এপ্রিলের শুরু থেকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি চলছে এবং পাকিস্তান একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তি কার্যকর করতে মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তা সত্ত্বেও দুই পক্ষ মাঝে মাঝেই পালটাপালটি হামলায় জড়িয়ে পড়ছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক আকাশসীমায় মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করাসহ ইরানের 'আক্রমণাত্মক পদক্ষেপের' জবাবে সপ্তাহের শেষদিকে তারা ইরানি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, একটি গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশন এবং দুটি ড্রোন ধ্বংস করেছে।
এর জবাবে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) আজ সোমবার জানায়, তারা দক্ষিণ ইরানে মার্কিন হামলায় ব্যবহৃত একটি বিমান ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। ইরান সুনির্দিষ্ট ঘাঁটির নাম না জানালেও, এ দিন কুয়েত তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করে এবং ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার তীব্র নিন্দা জানায়। কুয়েতের দাবি, এই হামলা আঞ্চলিক উত্তেজনা হ্রাসের প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী আরও জানিয়েছে, গতকাল রোববার কুয়েতে থাকা মার্কিন সেনাদের লক্ষ্য করে ছোড়া ইরানের দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মাঝআকাশেই ধ্বংস করা হয়েছে এবং এতে কোনো মার্কিন সদস্য হতাহত হননি।
নেতিবাচক সমালোচনা বন্ধের আহ্বান ট্রাম্পের
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফের বলেছেন, ইরান 'সত্যিই একটি চুক্তি করতে চায়'। যুদ্ধ অবসানের এই আলোচনা নিয়ে যারা নেতিবাচক সমালোচনা করছেন, বিশেষ করে নিজ দলের ভেতরকার 'দেশপ্রেমহীন রিপাবলিকানদের' তীব্র সমালোচনা করেন ট্রাম্প। তিনি লেখেন, 'আপনারা শুধু আরাম করে বসে থাকুন, শেষ পর্যন্ত সব ঠিক হয়ে যাবে— সব সময়ই তা-ই হয়!'
তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সোমবার ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে পরস্পরবিরোধী বার্তা পাঠানোর অভিযোগ তুলেছেন এবং বলেছেন, এটি আলোচনার কোনো সঠিক কৌশল হতে পারে না। তিনি বলেন, 'অপর পক্ষ অনবরত তাদের অবস্থান পরিবর্তন করছে এবং নতুন ও পরস্পরবিরোধী দাবি সামনে আনছে... স্বাভাবিকভাবেই এই পরিস্থিতি আলোচনাকে আরও দীর্ঘায়িত করবে।' বাঘাই আরও উল্লেখ করেন যে, লেবাননসহ পুরো অঞ্চলে ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকাণ্ড থেকে আলাদা করে দেখার কোনো সুযোগ নেই।
একাধিক বিষয়ে গভীর মতবিরোধ
আগামী নভেম্বরের কংগ্রেস নির্বাচনের আগে মার্কিন বাজারে জ্বালানির দাম কমাতে এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করতে ট্রাম্পের ওপর অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে। একই সময়ে তেহরানকে কোনো ধরনের ছাড় দিলে নিজের দলের কট্টরপন্থি নেতাদের ক্ষোভের মুখে পড়ার আশঙ্কাও রয়েছে তার। ট্রাম্প বারবার বলেছেন, এই যুদ্ধে তার মূল লক্ষ্য হলো ইরানকে উচ্চ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দিয়ে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করা থেকে বিরত রাখা। যদিও তেহরান সবসময়ই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পরিকল্পনার কথা অস্বীকার করে আসছে।
এ ছাড়া অন্যান্য বিষয়েও দুই পক্ষের মতপার্থক্য বেশ গভীর। তেহরানের প্রধান দাবি হলো— সব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে এবং বিদেশি ব্যাংকে আটকে থাকা হাজার কোটি ডলারের তেলের রাজস্ব অবমুক্ত করতে হবে। এর পাশাপাশি, হরমুজ প্রণালি বন্ধের পর ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্র যে অবরোধ আরোপ করেছে, সেটিও প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে ইরান।
অন্যদিকে, লেবাননে ইরান সমর্থিত হিজবুল্লাহর সঙ্গে ইসরায়েলের যুদ্ধও এই শান্তি চুক্তির অন্যতম প্রধান বাধা। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গতকাল রোববার সেনাদের লেবাননের আরও গভীরে যাওয়ার নির্দেশ দেন। এরপর সোমবার তিনি লেবাননের রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহরতলি— যা হিজবুল্লাহর প্রধান ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত, সেখানে লক্ষ্যবস্তুগুলোতে হামলা চালানোর জন্য সামরিক বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন। নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে এপ্রিলের শেষের দিকে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি বারবার লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
এই কূটনৈতিক অচলাবস্থার মাঝেই মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন এবং ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে আলোচনা করেছেন। একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সংঘাত ধাপে ধাপে কমিয়ে আনার লক্ষ্যে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে একটি 'ধাপভিত্তিক উত্তেজনা হ্রাস' পরিকল্পনা প্রস্তাব করা হয়েছে।

লেবাননের অভ্যন্তরে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে লড়াই আরও জোরদার করতে ইসরায়েলি সেনাদের দেশটির আরও গভীরে প্রবেশের নির্দেশের পর, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান পরোক্ষ আলোচনা স্থগিত করেছে ইরান। তেহরানের এই আকস্মিক সিদ্ধান্তের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের তিন মাস ধরে চলা যুদ্ধ অবসানের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা নতুন করে বড় ধরনের জটিলতার মুখে পড়ল।
সোমবার (১ জুন) ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিমের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়, লেবাননে হামলার বিষয়ে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের সঙ্গে বার্তা আদান-প্রদান বন্ধ করে দিয়েছে ইরানের প্রতিনিধিদল। মূলত ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ যুদ্ধই লেবাননে হিজবুল্লাহর সঙ্গে ইসরায়েলের পুরনো সংঘাতকে নতুন করে উস্কে দিয়েছে।
বিশ্ববাজারে বাড়ল তেলের দাম
গত সপ্তাহের শেষদিকে ইরানের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে মার্কিন হামলার পর, আজ সোমবার ইরান একটি মার্কিন বিমান ঘাঁটিতে পালটা আঘাত হানার দাবি করে। এই পালটাপালটি হামলার জেরে দুই দেশের মধ্যকার ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি যখন চরম সংকটে, ঠিক তখনই তাসনিম নিউজের এই প্রতিবেদন প্রকাশ পেল। পরোক্ষ আলোচনা স্থগিতের খবরটি সামনে আসার পরপরই বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলে ৫ ডলারেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আশা প্রকাশ করে বলেছিলেন যে, তেহরান একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে চায়। তবে মার্কিন প্রশাসনের 'অনবরত পরিবর্তনশীল' অবস্থান নিয়ে ইরানি কর্মকর্তাদের কড়া সমালোচনার পর সেই সম্ভাবনা অনেকটাই ম্লান হয়ে পড়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিও লেবানন ইস্যুকে আলোচনার একটি বড় অন্তরায় হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, 'যেকোনো একটি ফ্রন্টে শর্ত লঙ্ঘন মানে সব ফ্রন্টেই যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করা। আর যেকোনো ধরনের লঙ্ঘনের পরিণতির জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলই সম্পূর্ণ দায়ী থাকবে।'
ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ও হরমুজ প্রণালি সংকট
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথভাবে শুরু করা এই যুদ্ধে এ পর্যন্ত হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে, যার বড় অংশই ইরান ও লেবাননে। তা ছাড়া, ইরান কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি কার্যকরভাবে বন্ধ করে দেওয়ার পর থেকে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে।
তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, ইরান এবং ইয়েমেন, লেবানন ও ইরাকের শিয়া মিত্রদের নিয়ে গঠিত তাদের 'প্রতিরোধ ফ্রন্ট' (রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট) ইসরায়েল ও তার সমর্থকদের 'শাস্তি' দিতে হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ করার এবং বাব আল-মান্দেব প্রণালিসহ অন্যান্য ফ্রন্টগুলো সক্রিয় করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। ইয়েমেনে ইরানের মিত্র হুতি বিদ্রোহীরা যদি এই সংঘাতের নতুন ফ্রন্ট খোলে, তবে তাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্যবস্তু হবে ইয়েমেন উপকূলের বাব আল-মান্দেব প্রণালি। এটি লোহিত সাগর হয়ে সুয়েজ খালের দিকে সামুদ্রিক জাহাজ চলাচলের একমাত্র সরু পথ।
লেবানন প্রসঙ্গে ইরানের দাবির কথা উল্লেখ করে তাসনিম জানিয়েছে, 'এই বিষয়ে ইরান এবং প্রতিরোধ ফ্রন্টের দৃষ্টিভঙ্গি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কোনো আলোচনা হবে না।'
গত এপ্রিলের শুরু থেকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি চলছে এবং পাকিস্তান একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তি কার্যকর করতে মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তা সত্ত্বেও দুই পক্ষ মাঝে মাঝেই পালটাপালটি হামলায় জড়িয়ে পড়ছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক আকাশসীমায় মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করাসহ ইরানের 'আক্রমণাত্মক পদক্ষেপের' জবাবে সপ্তাহের শেষদিকে তারা ইরানি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, একটি গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশন এবং দুটি ড্রোন ধ্বংস করেছে।
এর জবাবে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) আজ সোমবার জানায়, তারা দক্ষিণ ইরানে মার্কিন হামলায় ব্যবহৃত একটি বিমান ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। ইরান সুনির্দিষ্ট ঘাঁটির নাম না জানালেও, এ দিন কুয়েত তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করে এবং ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার তীব্র নিন্দা জানায়। কুয়েতের দাবি, এই হামলা আঞ্চলিক উত্তেজনা হ্রাসের প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী আরও জানিয়েছে, গতকাল রোববার কুয়েতে থাকা মার্কিন সেনাদের লক্ষ্য করে ছোড়া ইরানের দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মাঝআকাশেই ধ্বংস করা হয়েছে এবং এতে কোনো মার্কিন সদস্য হতাহত হননি।
নেতিবাচক সমালোচনা বন্ধের আহ্বান ট্রাম্পের
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফের বলেছেন, ইরান 'সত্যিই একটি চুক্তি করতে চায়'। যুদ্ধ অবসানের এই আলোচনা নিয়ে যারা নেতিবাচক সমালোচনা করছেন, বিশেষ করে নিজ দলের ভেতরকার 'দেশপ্রেমহীন রিপাবলিকানদের' তীব্র সমালোচনা করেন ট্রাম্প। তিনি লেখেন, 'আপনারা শুধু আরাম করে বসে থাকুন, শেষ পর্যন্ত সব ঠিক হয়ে যাবে— সব সময়ই তা-ই হয়!'
তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সোমবার ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে পরস্পরবিরোধী বার্তা পাঠানোর অভিযোগ তুলেছেন এবং বলেছেন, এটি আলোচনার কোনো সঠিক কৌশল হতে পারে না। তিনি বলেন, 'অপর পক্ষ অনবরত তাদের অবস্থান পরিবর্তন করছে এবং নতুন ও পরস্পরবিরোধী দাবি সামনে আনছে... স্বাভাবিকভাবেই এই পরিস্থিতি আলোচনাকে আরও দীর্ঘায়িত করবে।' বাঘাই আরও উল্লেখ করেন যে, লেবাননসহ পুরো অঞ্চলে ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকাণ্ড থেকে আলাদা করে দেখার কোনো সুযোগ নেই।
একাধিক বিষয়ে গভীর মতবিরোধ
আগামী নভেম্বরের কংগ্রেস নির্বাচনের আগে মার্কিন বাজারে জ্বালানির দাম কমাতে এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করতে ট্রাম্পের ওপর অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে। একই সময়ে তেহরানকে কোনো ধরনের ছাড় দিলে নিজের দলের কট্টরপন্থি নেতাদের ক্ষোভের মুখে পড়ার আশঙ্কাও রয়েছে তার। ট্রাম্প বারবার বলেছেন, এই যুদ্ধে তার মূল লক্ষ্য হলো ইরানকে উচ্চ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দিয়ে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করা থেকে বিরত রাখা। যদিও তেহরান সবসময়ই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পরিকল্পনার কথা অস্বীকার করে আসছে।
এ ছাড়া অন্যান্য বিষয়েও দুই পক্ষের মতপার্থক্য বেশ গভীর। তেহরানের প্রধান দাবি হলো— সব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে এবং বিদেশি ব্যাংকে আটকে থাকা হাজার কোটি ডলারের তেলের রাজস্ব অবমুক্ত করতে হবে। এর পাশাপাশি, হরমুজ প্রণালি বন্ধের পর ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্র যে অবরোধ আরোপ করেছে, সেটিও প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে ইরান।
অন্যদিকে, লেবাননে ইরান সমর্থিত হিজবুল্লাহর সঙ্গে ইসরায়েলের যুদ্ধও এই শান্তি চুক্তির অন্যতম প্রধান বাধা। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গতকাল রোববার সেনাদের লেবাননের আরও গভীরে যাওয়ার নির্দেশ দেন। এরপর সোমবার তিনি লেবাননের রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহরতলি— যা হিজবুল্লাহর প্রধান ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত, সেখানে লক্ষ্যবস্তুগুলোতে হামলা চালানোর জন্য সামরিক বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন। নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে এপ্রিলের শেষের দিকে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি বারবার লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
এই কূটনৈতিক অচলাবস্থার মাঝেই মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন এবং ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে আলোচনা করেছেন। একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সংঘাত ধাপে ধাপে কমিয়ে আনার লক্ষ্যে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে একটি 'ধাপভিত্তিক উত্তেজনা হ্রাস' পরিকল্পনা প্রস্তাব করা হয়েছে।

ইউক্রেনের আভদিভকা ও বাখমুতের মতো সবচেয়ে নৃশংস ও রক্তক্ষয়ী যুদ্ধগুলোতে অংশ নেওয়া এই অভিজ্ঞ যোদ্ধারা এখন সম্পূর্ণ নতুন এক ধরনের যুদ্ধ পরিচালনা করছেন, যার ভয়াবহতা তারা কাছাকাছি থেকে স্পর্শ করতে পারেন না, ঘ্রাণ পান না, এমনকি সরাসরি চোখেও দেখেন না।
১ দিন আগে
চীনের সমালোচনার জবাবে সামরিক সক্ষমতা আরও জোরদারের অঙ্গীকার করেছেন জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিঞ্জিরো কোইযুমি। রোববার সিঙ্গাপুরে এক নিরাপত্তা সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি পরোক্ষভাবে চীনকে কটাক্ষ করেন।
১ দিন আগে
আজ রোববার (৩১ মে) ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর (আইডিএফ) পক্ষ থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। ইরান সমর্থিত লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে চলমান এই লড়াইকে ইসরায়েলের একটি বড় ধরনের অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
১ দিন আগে
এখন প্রশ্ন একটাই— পারস্পরিক অবিশ্বাস ও শর্তের দেয়াল ভেঙে দুই দেশ কি সত্যিই একটি স্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছাতে পারবে, নাকি সাময়িক যুদ্ধবিরতির পর ফের নতুন করে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়বে মধ্যপ্রাচ্যে?
২ দিন আগে