ইরাক-ইরানে মার্কিন হস্তক্ষেপকে ‘বোকামি’ বলে স্বীকার করলেন ট্রাম্প

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ৩১ মে ২০২৬, ১০: ৩৭
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফাইল ছবি

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিগত বছরগুলোর সামরিক নীতি ও হস্তক্ষেপকে ‘একেবারেই বোকামিপূর্ণ কাজ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি অকপটে স্বীকার করেন, ইরাক ও ইরানের মতো দেশগুলোতে মার্কিন বাহিনীর সামরিকভাবে জড়ানো মোটেও উচিত হয়নি। তবে একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, ৯ মাস আগে যুক্তরাষ্ট্রের বোমারু বিমান দিয়ে চালানো হামলা না হলে ইরান এতদিনে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করে ফেলত, যা মধ্যপ্রাচ্য ও ইসরায়েলের অস্তিত্বকে হুমকির মুখে ফেলত।

ট্রাম্প বলেন, “ইরাকের পরিস্থিতি দেখুন। আমরা খুব খারাপ করেছি। এটি ছিল একেবারেই বোকামিপূর্ণ কাজ। আমাদের শুরুতেই সেখানে যাওয়া উচিত ছিল না।”

তিনি আরও যোগ করে বলেন, “আমাদের ইরানে যাওয়াও উচিত হয়নি।”

তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামরিক পদক্ষেপ না থাকলে ইরান ইতোমধ্যে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করে ফেলতো। তার ভাষায়, “আমরা যদি নয় মাস আগে বি-২ বোমারু বিমান দিয়ে তাদের ওপর হামলা না করতাম, তাহলে তারা এখনই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতো এবং পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন হতো।”

ট্রাম্প আরও বলেন, এমন পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত হতে পারতো।

তিনি মন্তব্য করে বলেন, “আপনি হয়তো ইসরায়েলকেও দেখতে পেতেন না, এমনকি পুরো মধ্যপ্রাচ্যকেও না- এরপর তারা কোথায় যেতো?”

যুক্তরাষ্ট্র ইচ্ছাকৃতভাবে ইরানের সামরিক বাহিনীকে বড় ধরনের লক্ষ্যবস্তু না করার বিষয়টিও তিনি তুলে ধরেন। ট্রাম্প বলেন, “আমরা তাদের সামরিক বাহিনীকে কিছুটা এড়িয়ে চলেছি, কারণ আমরা মনে করি তারা তুলনামূলকভাবে মধ্যপন্থী। তবে তাদের অন্য অংশগুলো মধ্যপন্থী নয়- সেগুলোই আমরা লক্ষ্যব্স্তু করেছি।”

তিনি আরও দাবি করেন, অতীতে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সব পক্ষকে ধ্বংস করার ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, যার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়ে। তার কথায়, “যুদ্ধের সময় সবকিছু ধ্বংস করে দেওয়ার মতো ভুল সিদ্ধান্ত হয়েছে, যার ফলে এমন একটি দেশ তৈরি হয়, যা ৪০ বছরেও পুনর্গঠন করতে পারে না।”

ট্রাম্পের এসব মন্তব্য মধ্যপ্রাচ্য নীতি ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপ নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই বক্তব্য এমন সময় এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রের ইরান নীতি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক চলছে।

রাজনীতি/এসআর

ad
ad

বিশ্ব রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

মার্কিন কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা, গ্রিন কার্ড পেতে ফিরতে হবে না দেশে

গ্রিন কার্ড বা স্থায়ী আবাসন আবেদনকারীদের আবেদন পর্যালোচনার সময় যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে যেতে হবে বলে জারি করা নির্দেশনা স্থগিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) জানিয়েছে, স্থায়ী আবাসনের আবেদন পর্যালোনাধীন থাকা অবস্থায় অধিকাংশ আবেদনকারীকেই যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে যেতে হবে ন

১৬ ঘণ্টা আগে

ভারত সফরে গেলেন সেনাপ্রধান থেকে মিয়ানমারের ‘বেসামরিক’ প্রেসিডেন্ট হ্লাইং

জয়সওয়াল বলেন, এই সফর আমাদের দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান শক্তিশালী আধ্যাত্মিক, ঐতিহাসিক ও জনগণের পারস্পরিক সম্পর্ক এবং চলমান সহযোগিতার গভীরতাকেই প্রতিফলিত করে।

১৬ ঘণ্টা আগে

এশিয়া থেকে ‘হাত গোটাচ্ছে না’ যুক্তরাষ্ট্র, মিত্রদের প্রতিরক্ষা বাজেট বাড়ানোর তাগিদ

শনিবার (৩০ মে) বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, বেইজিংয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বৈঠকের পর এশিয়ার এ নিরাপত্তা মঞ্চে ওয়াশিংটনের নীতিগত অবস্থান কেমন হবে, তা নিয়ে নানামুখী জল্পনা-কল্পনার মধ্যেই মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এ বক্তব্য সামনে এলো।

২০ ঘণ্টা আগে

ইরান চুক্তি নিয়ে ট্রাম্প বৈঠক করলেও সিদ্ধান্ত আসেনি

ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানকে অবশ্যই প্রতিশ্রুতি দিতে হবে যে তারা কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না। পাশাপাশি উভয় দিকের জন্য ‘অবাধ নৌ চলাচলের’ উপযোগী করে হরমুজ প্রণালিকে পুনরায় খুলে দিতে হবে এবং ওই জলপথে পাতা সব মাইন ধ্বংস করতে হবে।

১ দিন আগে