
ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি সম্ভাব্য চুক্তির লক্ষ্যে চলমান আলোচনা যখন ‘চূড়ান্ত পর্যায়ে’র দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, ঠিক তখনই তেহরান ক্রমাগত ইঙ্গিত দিচ্ছে— যদি ফের যুদ্ধ শুরু হয় তবে তারা পালটা এমন ‘বিধ্বংসী আঘাত’ হানবে, যা হবে গতবারের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা।
যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা গত বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে আলোচনার পর একটি খসড়া চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে, যা এখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। তবে আলোচনার টেবিলে অগ্রগতির খবর মিললেও সামরিক উত্তেজনা কমার কোনো লক্ষণ নেই। গত কয়েক দিনে ইরানে দ্বিতীয় দফায় বেশ কিছু হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যাতেও হরমুজ প্রণালিতে দুপক্ষের মধ্যে ছোটখাটো সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে।
মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কূটনীতি যদি শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়, তবে ইরানের হাতে যে এখনো বড় ধরনের সামরিক বিকল্প রয়েছে— আলোচনার টেবিলে সেই আত্মবিশ্বাসই ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করছেন দেশটির কর্মকর্তারা।
ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, নতুন করে কোনো সংঘাত শুরু হলে তা ‘এই অঞ্চলের বাইরেও অনেক দূর’ ছড়িয়ে পড়বে। একই সঙ্গে বিরোধীদের এমন সব জায়গায় ‘বিধ্বংসী আঘাত’ ও ‘চরম ধ্বংসযজ্ঞ’ চালানো হবে, যা তারা ‘কল্পনাও করতে পারবে না’।
এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যু্দ্ধের শুরু থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়া পর্যন্ত ইরান যেভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি, ইসরায়েলের বিভিন্ন শহর ও পারস্য উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছিল, তার পরিপ্রেক্ষিতেই এই নতুন হুঁশিয়ারি এসেছে। ইরান বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ করে রেখেছিল। এতে বিশ্ব জুড়ে জ্বালানি সংকট তীব্র আকার ধারণ করে।
গত সপ্তাহে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সতর্ক করে বলেন, ভবিষ্যতে যেকোনো পালটা হামলায় ‘আরও অনেক বড় চমক’ থাকবে। পাশাপাশি ইরানের সামরিক বাহিনী ‘নতুন হাতিয়ার’ ব্যবহার করে ‘নতুন ফ্রন্ট’ (যুদ্ধক্ষেত্র) খোলারও হুমকি দিয়েছে। ইরানের শীর্ষ পরমাণু পরিকল্পনাকারী ও দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতির সময়টিকে দেশটির সশস্ত্র বাহিনী নিজেদের সক্ষমতা পুনর্গঠনে ‘সর্বোচ্চ’ ব্যবহার করেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব বক্তব্যের বড় অংশই মূলত প্রতিপক্ষকে পালটা হামলা থেকে বিরত রাখার একটি কৌশল (ডিট্যারেন্স)। তবে তারা একই সঙ্গে সতর্কও করেছেন, কূটনীতি যদি পুরোপুরি ভেঙে পড়ে, তবে তেহরানের হাতে পরিস্থিতি বহুদূর নিয়ে যাওয়ার মতো যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।
নতুন নৌ অবরোধ
ঐতিহ্যগত বা প্রচলিত সামরিক উপায়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে জয়লাভ করা ইরানের পক্ষে সম্ভব নয়। তাই কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ করে বিশ্ব অর্থনীতিকে সংকটে ফেলার মাধ্যমেই ইরান তার প্রতিরোধ ক্ষমতা টিকিয়ে রেখেছে। এই সাফল্যে উৎসাহিত হয়ে তেহরান এখন আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ বন্ধ করার চেষ্টা করতে পারে।
ইয়েমেনে তাদের আঞ্চলিক প্রক্সিগোষ্ঠী হুতিদের সক্রিয় করার মাধ্যমে ইরান ‘বাব আল-মান্দেব প্রণালি’ বন্ধের উদ্যোগ নিতে পারে। প্রণালিটি ইউরোপ, এশিয়া ও আরব বিশ্বের মধ্যকার প্রধান বাণিজ্য পথগুলোকে যুক্তকারী একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রুট। এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হলে তা বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক চাপকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।
ইউএস এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের তথ্য বলছে, ২০২৩ সালে সমুদ্রপথে বিশ্বের মোট তেল বাণিজ্যের ১০ শতাংশেরও বেশি পরিবাহিত হতো এই বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে। তবে ২০২৪ সালে ইয়েমেনের কাছাকাছি অঞ্চলে হুতিরা সামুদ্রিক নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করার পর এ পথে তেলের চালান প্রায় অর্ধেকে এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহন শূন্যের কাছাকাছি নেমে আসে।

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জ মেসন বিশ্ববিদ্যালয়ের এনার্জি স্ট্র্যাটেজিস্ট ও জ্যেষ্ঠ গবেষক উমুদ শোকরি সিএনএনকে বলেন, ‘বাব আল-মান্দেব ও হরমুজ প্রণালিতে যদি একযোগে সংকট তৈরি হয়, তবে তা হবে অত্যন্ত ভয়াবহ। এটি লোহিত সাগরের বাণিজ্য ও পারস্য উপসাগরের জ্বালানি প্রবাহ— উভয়কেই মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। ফলে বিশ্ব জুড়ে তেলের দাম, জাহাজ ভাড়া ও মূল্যস্ফীতির চাপ ব্যাপক হারে বেড়ে যাবে।’
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হুতিরা বাব আল-মান্দেব প্রণালির কাছাকাছি চলাচলকারী জাহাজে হামলা, আটক ও ডুবিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে নৌ যোগাযোগ ব্যাহত করার সক্ষমতা দেখিয়েছে। তবে হরমুজ প্রণালির মতো এখানেও সম্পূর্ণ অবরোধ তৈরি করা ‘অনেক বেশি কঠিন’ হবে বলে মনে করেন উমুদ শোকরি।
তিনি বলেন, ‘বাব আল-মান্দেব সরাসরি ইরানের নিয়ন্ত্রণে নেই। আর এটি দীর্ঘদিন বন্ধ থাকলে আন্তর্জাতিকভাবে তীব্র প্রতিক্রিয়া বা সামরিক জবাব আসতে পারে। তাই বাস্তবসম্মত পরিস্থিতি হলো— একেবারে পুরোপুরি বন্ধ না করে সেখানে একটি দীর্ঘস্থায়ী নিরাপত্তা সংকট তৈরি করা, যা বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বা ব্যয়বহুল করে তুলবে।’
তেলকূপ লক্ষ্য করে হামলা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি ইরানের তেল শোধনাগার, অবকাঠামো ও বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে হামলা চালানোর হুমকি কার্যকর করেন, তবে তেহরান পুরো আরব বিশ্বে যুদ্ধ ছড়িয়ে দিতে পারে। বিশ্ব জুড়ে অর্থনৈতিক আতঙ্ক তৈরি করতে এবং আন্তর্জাতিক ব্যবসার নিরাপদ কেন্দ্র ও বিশ্ব জ্বালানি প্রবাহের নির্ভরযোগ্য গ্যারান্টার হিসেবে প্রতিবেশী দেশগুলোর ভাবমূর্তি নষ্ট করতে ইরান তাদের সংবেদনশীল স্থাপনাগুলোতে আঘাত হানতে পারে।
ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির সদস্য আহমদ বখশায়শ আরদেস্তানি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের তেল স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করে, তবে তেহরান পালটা জবাবে উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর তেলকূপগুলোতে হামলা চালাবে। এটি আগের ৪০ দিনের যুদ্ধের চেয়ে অনেক বড় ধরনের উত্তেজনা তৈরি করবে, কারণ সে সময় ইরান মূলত তেল শোধনাগার বা পাইপলাইনগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছিল।
ইরানি গণমাধ্যমের সূত্র ধরে তিনি বলেন, ‘তারা যদি আমাদের তেল বন্ধ করার উদ্দেশ্যে কিছু করতে চায়, তবে আমরা তাদের পাইপলাইনে হামলা করব না, আমরা সরাসরি তেলকূপগুলোতে আঘাত করব, যেন তাদেরও কোনো তেল না থাকে এবং পুরো বিশ্বের জন্য জ্বালানি আকাশচুম্বী দামি হয়ে যায়।’
গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো
গত ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও ইরাকে সক্রিয় ইরানি প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে আবুধাবির পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে হামলার অভিযোগ এনেছিল সংযুক্ত আরব আমিরাত। পাশাপাশি ইরাক থেকে আসা ড্রোনের মাধ্যমে সৌদি আরবকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল।
যুদ্ধ চলাকালীন ইরান হোটেল ও বিমানবন্দরের মতো বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়লেও এ অঞ্চলের লাখ লাখ মানুষের বিশুদ্ধ পানির জোগান দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পানি শোধন প্ল্যান্টগুলোতে (ডেসালিনেশন প্ল্যান্ট) খুব কমই আঘাত করেছিল।
এ ছাড়া এ অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খালি করার আগাম সতর্কবার্তা দিলেও ইরান স্কুল বা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে এমন কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
তবে ইরানের এই পালটা ‘বিধ্বংসী হামলা’র হুমকির বিষয়টি কিছুটা নাকচ করে দিয়েছেন প্যারিসভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের সহকারী অধ্যাপক নিকোল গ্রাজিউস্কি। ইরানের অস্ত্রভাণ্ডার সম্পর্কে সবারই জানা আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তাদের কাছে অবশ্যই দুই হাজার কিলোমিটারের (প্রায় ১২০০ মাইল) বেশি পাল্লার অস্ত্র রয়েছে, তবে এটি নতুন কোনো অস্ত্র হবে না।’

ইউরোপের লক্ষ্যবস্তু
চলতি মাসের শুরুর দিকে আইআরজিসির সঙ্গে যুক্ত টেলিগ্রাম পেজগুলোতে কিছু স্যাটেলাইট ছবি পোস্ট করা হয়। দাবি করা হয়, এগুলো গ্রিসের ক্রিট দ্বীপের চানিয়া বিমানবন্দরে পার্ক করে রাখা মার্কিন যুদ্ধবিমানের ছবি।
সিএনএন স্বাধীনভাবে এই ছবিগুলোর সত্যতা যাচাই করতে পারেনি। তবে ইরানের ওপর ফের হামলা হলে আইআরজিসি এই অঞ্চলের বাইরেও লক্ষ্যবস্তু সম্প্রসারণের যে হুমকি দিয়েছে, তা দূরবর্তী অঞ্চলেও পালটা হামলার আশঙ্কা বাড়িয়ে দিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ৪০ দিনের যুদ্ধের সময় ইরান দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে তাদের এমন সক্ষমতা প্রদর্শন করেছিল, যা ছিল আগে ধারণার অনেক বাইরে।
ধারণা করা হয়, গত মার্চে ইরান ভারত মহাসাগরে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের যৌথ সামরিক ঘাঁটি দিয়েগো গার্সিয়া লক্ষ্য করে দুটি মধ্যম পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করেছিল, যা ইরান থেকে প্রায় দুই হাজার মাইল দূরে অবস্থিত। ওই ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ইরানের পক্ষ থেকে এটিই ছিল প্রথম হামলা।
ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ গবেষক ফারজিন নাদিমি বলেন, উৎসাহিত হয়ে তেহরান যদি আকস্মিক হামলায় ইউরোপের বিরুদ্ধে তাদের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেয়, তবে যুক্তরাজ্যের অন্যতম প্রধান মার্কিন বিমান ঘাঁটি আরএএফ ফেয়ারফোর্ড ও আরএএফ লেকেনহিথ অথবা জার্মানির রামস্টেইন লজিস্টিক্যাল ও টেলিকমিউনিকেশন হাব তাদের লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।
নাদিমি বলেন, ‘তবে ইরান সম্ভবত এই চরম পদক্ষেপটি একদম শেষ মুহূর্তের উত্তেজনা বা চূড়ান্ত পর্যায়ের জন্য তুলে রাখবে।’ যুদ্ধের সময় ইরান সাইপ্রাসের মতো দূরবর্তী স্থানে অবস্থিত ব্রিটিশ সামরিক স্থাপনাগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করার চেষ্টা করেছিল বলে ধারণা করা হয়।
নিকোল গ্রাজিউস্কি সিএনএনকে বলেন, ‘আমি মনে করি না যে ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলটি তাদের সক্ষমতার বাইরে। তবে এখানে মূল বিষয় বা চ্যালেঞ্জটি হবে নিখুঁতভাবে লক্ষ্যভেদের সক্ষমতা।’
ড্রোন, সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও স্যাটেলাইট জ্যামিং
ফারজিন নাদিমি বলেন, লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁতভাবে আঘাত হানার সম্ভাবনা বাড়াতে ইরান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাচালিত ও ক্যামেরা যুক্ত ড্রোনের ‘সুসমন্বিত’ কৌশল ব্যবহার করতে পারে। এই ড্রোনগুলো নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষা করতে পারে এবং শত্রুপক্ষের জ্যামিং ও বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ফাঁকি দিতে নিজেদের গতি ও উড্ডয়ন পথ পরিবর্তন করতে সক্ষম।
নাদিমি বলেন, তারা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এ সক্ষমতার প্রদর্শন করেনি, তবে অতীতে তারা এই প্রযুক্তি উন্নয়নের বিষয়ে আলোচনা করেছে। তেহরান তাদের বিদ্যমান ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার আধুনিকায়ন করে সেগুলোকে শব্দের চেয়েও দ্রুতগতির করার চেষ্টা করতে পারে, যেন শত্রুপক্ষ তা মাঝপথে ধ্বংস করতে না পারে। একই সঙ্গে তারা প্রতিপক্ষের সামরিক যোগাযোগ ও নজরদারি স্যাটেলাইটগুলোর কার্যক্ষমতা বিকল করে দেওয়ার চেষ্টাও চালাতে পারে।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি সম্ভাব্য চুক্তির লক্ষ্যে চলমান আলোচনা যখন ‘চূড়ান্ত পর্যায়ে’র দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, ঠিক তখনই তেহরান ক্রমাগত ইঙ্গিত দিচ্ছে— যদি ফের যুদ্ধ শুরু হয় তবে তারা পালটা এমন ‘বিধ্বংসী আঘাত’ হানবে, যা হবে গতবারের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা।
যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা গত বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে আলোচনার পর একটি খসড়া চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে, যা এখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। তবে আলোচনার টেবিলে অগ্রগতির খবর মিললেও সামরিক উত্তেজনা কমার কোনো লক্ষণ নেই। গত কয়েক দিনে ইরানে দ্বিতীয় দফায় বেশ কিছু হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যাতেও হরমুজ প্রণালিতে দুপক্ষের মধ্যে ছোটখাটো সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে।
মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কূটনীতি যদি শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়, তবে ইরানের হাতে যে এখনো বড় ধরনের সামরিক বিকল্প রয়েছে— আলোচনার টেবিলে সেই আত্মবিশ্বাসই ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করছেন দেশটির কর্মকর্তারা।
ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, নতুন করে কোনো সংঘাত শুরু হলে তা ‘এই অঞ্চলের বাইরেও অনেক দূর’ ছড়িয়ে পড়বে। একই সঙ্গে বিরোধীদের এমন সব জায়গায় ‘বিধ্বংসী আঘাত’ ও ‘চরম ধ্বংসযজ্ঞ’ চালানো হবে, যা তারা ‘কল্পনাও করতে পারবে না’।
এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যু্দ্ধের শুরু থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়া পর্যন্ত ইরান যেভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি, ইসরায়েলের বিভিন্ন শহর ও পারস্য উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছিল, তার পরিপ্রেক্ষিতেই এই নতুন হুঁশিয়ারি এসেছে। ইরান বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ করে রেখেছিল। এতে বিশ্ব জুড়ে জ্বালানি সংকট তীব্র আকার ধারণ করে।
গত সপ্তাহে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সতর্ক করে বলেন, ভবিষ্যতে যেকোনো পালটা হামলায় ‘আরও অনেক বড় চমক’ থাকবে। পাশাপাশি ইরানের সামরিক বাহিনী ‘নতুন হাতিয়ার’ ব্যবহার করে ‘নতুন ফ্রন্ট’ (যুদ্ধক্ষেত্র) খোলারও হুমকি দিয়েছে। ইরানের শীর্ষ পরমাণু পরিকল্পনাকারী ও দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতির সময়টিকে দেশটির সশস্ত্র বাহিনী নিজেদের সক্ষমতা পুনর্গঠনে ‘সর্বোচ্চ’ ব্যবহার করেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব বক্তব্যের বড় অংশই মূলত প্রতিপক্ষকে পালটা হামলা থেকে বিরত রাখার একটি কৌশল (ডিট্যারেন্স)। তবে তারা একই সঙ্গে সতর্কও করেছেন, কূটনীতি যদি পুরোপুরি ভেঙে পড়ে, তবে তেহরানের হাতে পরিস্থিতি বহুদূর নিয়ে যাওয়ার মতো যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।
নতুন নৌ অবরোধ
ঐতিহ্যগত বা প্রচলিত সামরিক উপায়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে জয়লাভ করা ইরানের পক্ষে সম্ভব নয়। তাই কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ করে বিশ্ব অর্থনীতিকে সংকটে ফেলার মাধ্যমেই ইরান তার প্রতিরোধ ক্ষমতা টিকিয়ে রেখেছে। এই সাফল্যে উৎসাহিত হয়ে তেহরান এখন আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ বন্ধ করার চেষ্টা করতে পারে।
ইয়েমেনে তাদের আঞ্চলিক প্রক্সিগোষ্ঠী হুতিদের সক্রিয় করার মাধ্যমে ইরান ‘বাব আল-মান্দেব প্রণালি’ বন্ধের উদ্যোগ নিতে পারে। প্রণালিটি ইউরোপ, এশিয়া ও আরব বিশ্বের মধ্যকার প্রধান বাণিজ্য পথগুলোকে যুক্তকারী একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রুট। এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হলে তা বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক চাপকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।
ইউএস এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের তথ্য বলছে, ২০২৩ সালে সমুদ্রপথে বিশ্বের মোট তেল বাণিজ্যের ১০ শতাংশেরও বেশি পরিবাহিত হতো এই বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে। তবে ২০২৪ সালে ইয়েমেনের কাছাকাছি অঞ্চলে হুতিরা সামুদ্রিক নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করার পর এ পথে তেলের চালান প্রায় অর্ধেকে এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহন শূন্যের কাছাকাছি নেমে আসে।

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জ মেসন বিশ্ববিদ্যালয়ের এনার্জি স্ট্র্যাটেজিস্ট ও জ্যেষ্ঠ গবেষক উমুদ শোকরি সিএনএনকে বলেন, ‘বাব আল-মান্দেব ও হরমুজ প্রণালিতে যদি একযোগে সংকট তৈরি হয়, তবে তা হবে অত্যন্ত ভয়াবহ। এটি লোহিত সাগরের বাণিজ্য ও পারস্য উপসাগরের জ্বালানি প্রবাহ— উভয়কেই মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। ফলে বিশ্ব জুড়ে তেলের দাম, জাহাজ ভাড়া ও মূল্যস্ফীতির চাপ ব্যাপক হারে বেড়ে যাবে।’
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হুতিরা বাব আল-মান্দেব প্রণালির কাছাকাছি চলাচলকারী জাহাজে হামলা, আটক ও ডুবিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে নৌ যোগাযোগ ব্যাহত করার সক্ষমতা দেখিয়েছে। তবে হরমুজ প্রণালির মতো এখানেও সম্পূর্ণ অবরোধ তৈরি করা ‘অনেক বেশি কঠিন’ হবে বলে মনে করেন উমুদ শোকরি।
তিনি বলেন, ‘বাব আল-মান্দেব সরাসরি ইরানের নিয়ন্ত্রণে নেই। আর এটি দীর্ঘদিন বন্ধ থাকলে আন্তর্জাতিকভাবে তীব্র প্রতিক্রিয়া বা সামরিক জবাব আসতে পারে। তাই বাস্তবসম্মত পরিস্থিতি হলো— একেবারে পুরোপুরি বন্ধ না করে সেখানে একটি দীর্ঘস্থায়ী নিরাপত্তা সংকট তৈরি করা, যা বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বা ব্যয়বহুল করে তুলবে।’
তেলকূপ লক্ষ্য করে হামলা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি ইরানের তেল শোধনাগার, অবকাঠামো ও বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে হামলা চালানোর হুমকি কার্যকর করেন, তবে তেহরান পুরো আরব বিশ্বে যুদ্ধ ছড়িয়ে দিতে পারে। বিশ্ব জুড়ে অর্থনৈতিক আতঙ্ক তৈরি করতে এবং আন্তর্জাতিক ব্যবসার নিরাপদ কেন্দ্র ও বিশ্ব জ্বালানি প্রবাহের নির্ভরযোগ্য গ্যারান্টার হিসেবে প্রতিবেশী দেশগুলোর ভাবমূর্তি নষ্ট করতে ইরান তাদের সংবেদনশীল স্থাপনাগুলোতে আঘাত হানতে পারে।
ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির সদস্য আহমদ বখশায়শ আরদেস্তানি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের তেল স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করে, তবে তেহরান পালটা জবাবে উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর তেলকূপগুলোতে হামলা চালাবে। এটি আগের ৪০ দিনের যুদ্ধের চেয়ে অনেক বড় ধরনের উত্তেজনা তৈরি করবে, কারণ সে সময় ইরান মূলত তেল শোধনাগার বা পাইপলাইনগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছিল।
ইরানি গণমাধ্যমের সূত্র ধরে তিনি বলেন, ‘তারা যদি আমাদের তেল বন্ধ করার উদ্দেশ্যে কিছু করতে চায়, তবে আমরা তাদের পাইপলাইনে হামলা করব না, আমরা সরাসরি তেলকূপগুলোতে আঘাত করব, যেন তাদেরও কোনো তেল না থাকে এবং পুরো বিশ্বের জন্য জ্বালানি আকাশচুম্বী দামি হয়ে যায়।’
গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো
গত ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও ইরাকে সক্রিয় ইরানি প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে আবুধাবির পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে হামলার অভিযোগ এনেছিল সংযুক্ত আরব আমিরাত। পাশাপাশি ইরাক থেকে আসা ড্রোনের মাধ্যমে সৌদি আরবকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল।
যুদ্ধ চলাকালীন ইরান হোটেল ও বিমানবন্দরের মতো বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়লেও এ অঞ্চলের লাখ লাখ মানুষের বিশুদ্ধ পানির জোগান দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পানি শোধন প্ল্যান্টগুলোতে (ডেসালিনেশন প্ল্যান্ট) খুব কমই আঘাত করেছিল।
এ ছাড়া এ অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খালি করার আগাম সতর্কবার্তা দিলেও ইরান স্কুল বা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে এমন কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
তবে ইরানের এই পালটা ‘বিধ্বংসী হামলা’র হুমকির বিষয়টি কিছুটা নাকচ করে দিয়েছেন প্যারিসভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের সহকারী অধ্যাপক নিকোল গ্রাজিউস্কি। ইরানের অস্ত্রভাণ্ডার সম্পর্কে সবারই জানা আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তাদের কাছে অবশ্যই দুই হাজার কিলোমিটারের (প্রায় ১২০০ মাইল) বেশি পাল্লার অস্ত্র রয়েছে, তবে এটি নতুন কোনো অস্ত্র হবে না।’

ইউরোপের লক্ষ্যবস্তু
চলতি মাসের শুরুর দিকে আইআরজিসির সঙ্গে যুক্ত টেলিগ্রাম পেজগুলোতে কিছু স্যাটেলাইট ছবি পোস্ট করা হয়। দাবি করা হয়, এগুলো গ্রিসের ক্রিট দ্বীপের চানিয়া বিমানবন্দরে পার্ক করে রাখা মার্কিন যুদ্ধবিমানের ছবি।
সিএনএন স্বাধীনভাবে এই ছবিগুলোর সত্যতা যাচাই করতে পারেনি। তবে ইরানের ওপর ফের হামলা হলে আইআরজিসি এই অঞ্চলের বাইরেও লক্ষ্যবস্তু সম্প্রসারণের যে হুমকি দিয়েছে, তা দূরবর্তী অঞ্চলেও পালটা হামলার আশঙ্কা বাড়িয়ে দিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ৪০ দিনের যুদ্ধের সময় ইরান দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে তাদের এমন সক্ষমতা প্রদর্শন করেছিল, যা ছিল আগে ধারণার অনেক বাইরে।
ধারণা করা হয়, গত মার্চে ইরান ভারত মহাসাগরে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের যৌথ সামরিক ঘাঁটি দিয়েগো গার্সিয়া লক্ষ্য করে দুটি মধ্যম পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করেছিল, যা ইরান থেকে প্রায় দুই হাজার মাইল দূরে অবস্থিত। ওই ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ইরানের পক্ষ থেকে এটিই ছিল প্রথম হামলা।
ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ গবেষক ফারজিন নাদিমি বলেন, উৎসাহিত হয়ে তেহরান যদি আকস্মিক হামলায় ইউরোপের বিরুদ্ধে তাদের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেয়, তবে যুক্তরাজ্যের অন্যতম প্রধান মার্কিন বিমান ঘাঁটি আরএএফ ফেয়ারফোর্ড ও আরএএফ লেকেনহিথ অথবা জার্মানির রামস্টেইন লজিস্টিক্যাল ও টেলিকমিউনিকেশন হাব তাদের লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।
নাদিমি বলেন, ‘তবে ইরান সম্ভবত এই চরম পদক্ষেপটি একদম শেষ মুহূর্তের উত্তেজনা বা চূড়ান্ত পর্যায়ের জন্য তুলে রাখবে।’ যুদ্ধের সময় ইরান সাইপ্রাসের মতো দূরবর্তী স্থানে অবস্থিত ব্রিটিশ সামরিক স্থাপনাগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করার চেষ্টা করেছিল বলে ধারণা করা হয়।
নিকোল গ্রাজিউস্কি সিএনএনকে বলেন, ‘আমি মনে করি না যে ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলটি তাদের সক্ষমতার বাইরে। তবে এখানে মূল বিষয় বা চ্যালেঞ্জটি হবে নিখুঁতভাবে লক্ষ্যভেদের সক্ষমতা।’
ড্রোন, সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও স্যাটেলাইট জ্যামিং
ফারজিন নাদিমি বলেন, লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁতভাবে আঘাত হানার সম্ভাবনা বাড়াতে ইরান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাচালিত ও ক্যামেরা যুক্ত ড্রোনের ‘সুসমন্বিত’ কৌশল ব্যবহার করতে পারে। এই ড্রোনগুলো নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষা করতে পারে এবং শত্রুপক্ষের জ্যামিং ও বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ফাঁকি দিতে নিজেদের গতি ও উড্ডয়ন পথ পরিবর্তন করতে সক্ষম।
নাদিমি বলেন, তারা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এ সক্ষমতার প্রদর্শন করেনি, তবে অতীতে তারা এই প্রযুক্তি উন্নয়নের বিষয়ে আলোচনা করেছে। তেহরান তাদের বিদ্যমান ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার আধুনিকায়ন করে সেগুলোকে শব্দের চেয়েও দ্রুতগতির করার চেষ্টা করতে পারে, যেন শত্রুপক্ষ তা মাঝপথে ধ্বংস করতে না পারে। একই সঙ্গে তারা প্রতিপক্ষের সামরিক যোগাযোগ ও নজরদারি স্যাটেলাইটগুলোর কার্যক্ষমতা বিকল করে দেওয়ার চেষ্টাও চালাতে পারে।

ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানকে অবশ্যই প্রতিশ্রুতি দিতে হবে যে তারা কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না। পাশাপাশি উভয় দিকের জন্য ‘অবাধ নৌ চলাচলের’ উপযোগী করে হরমুজ প্রণালিকে পুনরায় খুলে দিতে হবে এবং ওই জলপথে পাতা সব মাইন ধ্বংস করতে হবে।
১০ ঘণ্টা আগে
শুক্রবার ট্রাম্প বলেন, তিনি হোয়াইট হাউজের সিচুয়েশন রুমে জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে প্রস্তাবিত সমঝোতা নিয়ে ‘চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত’ নেবেন। এই চুক্তি কার্যকর হলে এপ্রিলের শুরুতে হওয়া যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিন বাড়বে এবং স্থায়ী শান্তিচুক্তি নিয়ে আলোচনার জন্য অতিরিক্ত সময় পাওয়া যাবে।
১১ ঘণ্টা আগে
সংকটের মধ্যেও আশার খবর রয়েছে। ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, ২৭ মে ডিআরসিতে এক ইবোলা রোগী পরপর দুটি পরীক্ষায় নেগেটিভ ফল পাওয়ার পর সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। চলমান প্রাদুর্ভাবে এটিই প্রথম নিশ্চিত সুস্থতার ঘটনা।
১১ ঘণ্টা আগে
আফাই ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে যোগ দেন ইতালির পিডি পার্টিতে। তরুণ এই বাঙালির রাজনৈতিক চিন্তা-চেতনা ও সামাজিক কাজের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২০ সালে ভেনিস সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ‘মেস্ত্রে কার্পেনেদো’ এলাকার কাউন্সিলর পদে দলীয় মনোনয়ন দেয়। সেই নির্বাচনে ইতালির ইতিহাসে প্রথম কোনো বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নাগরিক হ
১২ ঘণ্টা আগে