দলের পক্ষে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, ‘তফসিল ঘোষণায় সব সন্দেহ দূর হয়েছে। এই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছে জামায়াত। এর মাধ্যমে সব অনিশ্চয়তা কেটে যাবে।’
গত কয়েক দিনের মধ্যেই নির্বাচন ঘিরে অন্তত পাঁচটি বড় জোট মাঠে সক্রিয় হয়েছে। যেসব দল এখনো জোটে যুক্ত হয়নি, তারাও যেকোনোভাবে জোটে যুক্ত হয়ে নির্বাচনের লড়াইয়ে নামার পথেই রয়েছে।
তিনি বলেন, গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে জামায়াত দেশের সব ধর্ম-বর্ণের মানুষের কাছে আস্থার প্রতীকে পরিণত হয়েছে। কিছু গোষ্ঠী হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হুমকি-ধমকি দিয়ে আবার কর্তৃত্ববাদী শাসন ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে। জনগণ আগামী নির্বাচনে ব্যালট বিপ্লবের মাধ্যমে এসব অপচেষ্টা প্রতিহত করবে।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপি গণঅভ্যুত্থানের নেতাদের আসনের লোভ দেখিয়ে কিনতে চেয়েছিল। আমরা বলেছিলাম, নব্বইয়ের ছাত্রনেতারা বিক্রি হয়েছে, চব্বিশের কোনো ছাত্রনেতা ইনশাল্লাহ বিক্রি হবে না। কেউ বিক্রি হয়ওনি।
জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট ভিন্ন ভিন্ন দিনে আয়োজনের দাবি থেকে জামায়াতে ইসলামীসহ আটটি ইসলামি দল সরে এসেছে। দলগুলো এখন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত করতে কাজ করবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
জামায়াত ধর্মের ব্যবহার করে না, ধর্মকে নিয়ে ব্যবসা করে না। যারা নির্বাচনের সময় এলে তসবিহ নিয়ে ঘুরে তারাই ধর্ম নিয়ে ব্যবসা করে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
বিদ্যমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে নির্বাচনের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই বলে দাবি করেছেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে।
জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান বলেন, আসন্ন নির্বাচনে জামায়াত যদি নির্বাচিত হয়, তাহলে জাতীয় সরকার গঠন করবে। নির্বাচনে ২০০ আসনে বিজয় হলেও আমাদের একই সিদ্ধান্ত থাকবে।
বাংলাদেশ স্বাধীনের ৫৪ বছর হলেও মানুষের ভাগ্যে পরিবর্তন হয়নি উল্লেখ্য করে তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন চায়। আমরা ইসলামী শাসন ব্যবস্থা বাংলাদেশে কায়েম করতে চাই। শুধু আন্দোলন ও সংগ্রাম করে ইসলাম কায়েম হয় না। আমরা যদি জনগণের সমর্থন পেয়ে সরকার গঠন করতে পারি তাহলে ইনশাআল্লাহ কোরআন ও
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, একদল চাঁদাবাজি করে জনগণের ব্যানার পুড়িয়েছে, আরেকদল আবার তার চাইতে পেশিশক্তিতে চাঁদাবাজিতে নেমে পড়েছে। একদল দখলদার বনতে গিয়ে জনগণ তাদের প্রত্যাখান করেছে, আরেকদল বেপরোয়া দখলদার হয়ে পড়েছে। কেউ বাঁকাপথে ক্ষমতায় যাওয়ার চেষ্টা করলে তাদের বলব- সেই সূর্য আর উঠবে না।
তিনি বলেন, ‘আমরা কোনো বিশেষ দলের বিজয় চাচ্ছি না, আট দলের বিজয়ও চাচ্ছি না। আমরা বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের আকাঙ্ক্ষার বিজয় চাই। সেই আকাঙ্ক্ষার বিজয় হবে কোরআনের আইনের মাধ্যমে ইনশাআল্লাহ। গ্রাম থেকে বিজয়ের বাঁশি বাজানো হবে। আগামীর বাংলাদেশ হবে কোরআনের বাংলাদেশ।
ফলে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, একজন হিন্দু ধর্মাবলম্বী ব্যক্তিকে মনোনয়ন দিয়ে ঠিক কী বার্তা দিতে চাচ্ছে জামায়াতে ইসলামী? দলটির রাজনৈতিক স্ট্রাটেজিতে কোনো ধরনের পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে কি না বা আর কোনো আসনে ভিন্নধর্মের কাউকে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হবে কি না এসব প্রশ্নও সামনে আসছে।
ইসলামী ব্যাংকের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই— জামায়াত নেতাদের এমন দাবির কয়েক দিন না যেতেই ফাঁস হয়েছে এক ভিডিও, যেখানে উঠে এসেছে জামায়াত নেতাদের বক্তব্যের বিপরীত চিত্র
সমাবেশে এ টি এম আজহার রাজনৈতিক বাস্তবতা উল্লেখ করে বলেন, যারা নিজেদের স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তি দাবি করে এসেছিল, তারা আজ দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছে। যারা প্রকৃত দেশপ্রেমিক, তারা দেশ থেকে পালায় না।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দুর্নীতিমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে পারলে ধনী-গরিব সবাই উপকৃত হবে। অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে জামায়াতের কঠোর অবস্থান ভবিষ্যতেও বজায় থাকবে বলেও জানান তিনি।
শফিকুর রহমান বলেন, দিশাহারা হয়ে, হতাশ হয়ে, ক্ষব্ধ হয়ে চোরা গলিতে কেউ যদি হাটার চিন্তা করেন, তাহলে প্রয়োজনে আরেকটা ৫ আগস্ট অনুষ্ঠিত হবে ইনশাআল্লাহ। যেই ৫ আগস্ট সন্ত্রাসকে, ফ্যাসিস্টবাদকে তাড়িয়ে দিয়েছিল, সেই ৫ আগস্ট প্রয়োজনে আবার রুখে দেবে- ইনশাআল্লাহ।
জামায়াত আমির বলেন, অতীতের সরকারগুলো শুধু আশ্বাস দিয়েছে; কিন্তু আমরা কাজে প্রমাণ করতে চাই। তিনি বলেন, আমরা একই ভাষায় কথা বলি, আমরা এক জাতি-সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দেশ এগিয়ে যাবে।