প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, প্রধান উপদেষ্টার সফরে আমাদের বড় অর্জন হলো— এতে আমিরাতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে যে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল, তা কাটিয়ে উঠতে এ সফর সহায়তা করবে।
অধ্যাপক ইউনূস বলেন, আমরা তাকে (হাসিনা) বিচারের আওতায় আনব। এটি অবশ্যই করা হবে। তা না হলে জনগণ আমাদের ক্ষমা করবে না। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের খুঁজে বের করে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে এবং আইনের মুখোমুখি করা হবে।
রাষ্ট্র সংস্কার নিয়ে আগামীকাল শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) থেকে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা শুরু হবে, জানিয়েছেন শিল্প ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান।
শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে ভারতকে এই প্রতিবেদন বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দেওয়া হবে কি না— এমন প্রশ্ন রাখা হয় রফিকুল আলমের কাছে। জবাবে তিনি বলেন, জাতিসংঘের এ প্রতিবেদন বাংলাদেশের জন্য দেওয়া হয়েছে। তবে এটি সবার জন্য উন্মুক্ত এবং প্রকাশ্যেই আছে।
র্যাব বিলুপ্তসহ জাতিসংঘের অন্য সব প্রস্তাবের বিষয়ে সবাই বসে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে জানিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, জাতিসংঘ প্রস্তাব দিয়েছে। এ প্রস্তাব আলোচনা-পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আমরা সবাই বসব। বসার পর আমাদের যা ডিসিশন (সিদ্ধান্ত) তা জানাব।
কমিশনের কার্যপরিধি বিষয়ে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, কমিশন আগামী নির্বাচন (ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন) সামনে রেখে নির্বাচনব্যবস্থা, পুলিশ, বিচার বিভাগ, জনপ্রশাসন, সংবিধান ও দুর্নীতি দমন বিষয়ে সংস্কারের জন্য গঠিত কমিশনগুলোর সুপারিশ বিবেচনা ও গ্রহণের লক্ষ্যে জাতীয় ঐক্যমত্য গঠনের জন্য রাজনৈতিক দল ও শক্তিগুল
এতদিন অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে নির্বাচনের সময় নিয়ে নানা রকম বক্তব্য দেওয়া হচ্ছিল। এখন ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়ার কথা বলা হলো। চাপের কারণেই কি সরকারকে আশ্বাস দিতে হলো, এ নিয়ে আলোচনা রয়েছে রাজনৈতিক অঙ্গনে।
আওয়ামী লীগের আমলে গড়ে তোলা ‘আয়নাঘর’ নামে পরিচিত গোপন বন্দিশালা ও টর্চার সেল পরিদর্শনের পর তিনি বলেন, গত সরকার আইয়্যামে জাহেলিয়াত প্রতিষ্ঠিত করে গেছে সব ক্ষেত্রে। আয়নাঘর তার একটি নমুনা। কীভাবে একটি দেশকে সব দিক থেকে ধ্বংস করা যায়, সব করেছে। একেবারে সামান্যতম যে মানবিক অধিকার, সেটুকু থেকেও বঞ্চিত করে
জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয়ের প্রতিবেদনকে স্বাগত জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস আইনের শাসন সমুন্নত রাখতে সরকারের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি পুলিশ, প্রসিকিউটর এবং বিচারকসহ বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত সবাইকে আইনের শাসন সমুন্নত রাখার জন্য কাজ করা
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছে, গুমসংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের সদস্য ও সাংবাদিকরাও পরিদর্শনে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে ছিলেন। গোপন বন্দিশালাগুলো আগারগাঁও, কচুক্ষেত ও উত্তরা এলাকায় গড়ে তোলা হয়েছিল।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস আয়নাঘর পরিদর্শনে গিয়েছেন। তার সঙ্গে রয়েছে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যম প্রতিনিধি এবং ভুক্তভোগীদের পরিবার।
স্ট্যাটাসে মাহফুজ লিখেছেন, ‘তৌহিদী জনতা নামে আপনারা যারা নিজেদের পরিচয় দেন, তাদের আমি হুমকি দিইনি, সতর্ক করেছি। কেন করেছি? গত ১৫ বছর নিপীড়ন সহ্য করে এবং অভ্যুত্থানে ভূমিকা রেখে সব নাগরিকের মতোই আপনারা একটি জাতীয় সম্ভাবনা হাজির করেছেন। কিন্তু মব সংস্কৃতির কারণে তা ভুলণ্ঠিত হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে আপনাদেরই
স্ট্যাটাসে উপদেষ্টা লিখেছেন, ‘অভ্যুত্থানের পক্ষে হলে মব করা বন্ধ করেন। আর যদি মব করেন, তাইলে আপনাদেরও ডেভিল হিসাবে ট্রিট করা হবে। আজকের ঘটনার পর আর কোনো অনুরোধ করা হবে না। আপনাদের কাজ না আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া।’
‘বড় শয়তান’ ধরা পড়ছে না এমন প্রশ্নে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘ডেভিল হান্ট ডিক্লিয়ার করার পর আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদেরও আমরা ছাড় দিইনি। প্রথমদিনই পাঁচজনকে আইনের আওতায় নেওয়া হয়েছে। সুতরাং, ছোট-বড় ব্যাপার না। যে আসবে এই জালে, সে ধরা পড়বে।’