পোস্টে নাহিদ লিখেছেন, ঐকমত্য কমিশনের সংস্কারপ্রক্রিয়া এবং জাতীয় সংলাপকে গণ–অভ্যুত্থানের আলোকে সংবিধান ও রাষ্ট্র পুনর্গঠনের প্রকৃত প্রশ্ন থেকে ভিন্ন দিকে সরিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে পরিকল্পিতভাবে এটা (পিআর আন্দোলন) তোলা হয়েছে।
জুলাই সনদের প্রস্তাবে ৮৪টি বিষয়ে ঐকমত্য এসেছে বলা হলেও এর মধ্যে কেবল ১৭টি প্রস্তাবে পূর্ণ ঐকমত্য এসেছে। বাকি ৬৭টি প্রস্তাবেই কোনো না কোনো দলের দ্বিমত বা ‘নোট অব ডিসেন্ট’ রয়ে গেছে। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে— জাতীয় ঐক্যের এই দলিল কতটা ঐক্য আনতে সক্ষম হলো দেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে?
জামায়াতে ইসলামী কখনোই সংস্কার আলোচনায় অংশ নেয়নি—না জুলাই অভ্যুত্থানের আগে, না পরে। তারা কোনো গঠনমূলক প্রস্তাব দেয়নি, কোনো সাংবিধানিক দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করেনি, এমনকি একটি গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রের প্রতিও কোনো অঙ্গীকার দেখায়নি বলে জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির ( এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
এনসিপির এই নেতা অভিযোগ করে বলেন, ‘বর্তমান ইসি নুরুল হুদা কমিশনের মতো পথেই হাঁটছে। আমরা চাই না এই কমিশনেরও সেই পরিণতি হোক। তাদের আচরণে কোনো স্বচ্ছতা নেই, আর সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করারও কোনো সক্ষমতা দেখা যাচ্ছে না।’
তিনি অভিযোগ করেন, ‘নির্বাচন কমিশনাররা যেখান থেকে আসছে, তারা তাদের নিয়োগদাতাদের স্বার্থই রক্ষা করছে। অদৃশ্য শক্তির নিয়ন্ত্রণ থেকে নির্বাচন কমিশনকে মুক্ত করতে হবে।’
তিনি লেখেন, বিভিন্ন জায়গায় আগুন লাগাকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখি না। এগুলো স্বৈরাচারের দোসরদের দেশকে অস্থিতিশীল করার চক্রান্তের অংশ। তথাকথিত তদন্ত কমিটির নাটক বাদ দিয়ে এর পেছনের প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করা হোক।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, ‘রক্ত দেওয়ার সময় আমরা এগিয়ে থাকব, কিন্তু ক্ষমতায় গেলে আমাদের কোথাও খুঁজে পাওয়া যাবে না।’ শনিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে এ কথা বলেন তিনি।
জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি না থাকা এবং বাস্তবায়নের সঠিক পন্থা না দেখানোয় তারা জুলাই সনদে সই করেনি।
তিনি জানান, ঐক্যমত্য কমিশনের যে সময় বাড়ানো হয়েছে, এর মধ্যে সনদ বাস্তবায়নের পথ খোলাসা করা, বিরোধ থাকা বিষয়গুলোর সমাধান, আদেশের বিষয়ে পরিষ্কার খসড়া এবং ভবিষ্যতে রাজনৈতিক দলগুলো সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে রেফারেন্স পয়েন্ট হিসেবে ২০২৬ এর কথা উল্লেখ করবে—এ বিষয়গুলোয় সমাধান চায় এনসিপি।
নাহিদ ইসলাম বলেন, জাতীয় ঐক্য হলো যেখানে শ্রমিকসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ একত্রিত হয়ে দেশের কল্যাণে কাজ করবে। কিন্তু শ্রম কমিশন ও স্বাস্থ্য খাত নিয়ে কোনো আলোচনা নেই। সংস্কার কমিশনে শুধু নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সেখানে গণতন্ত্র নিয়ে ভালো কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি।
নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে তিনি লেখেন, "জুলাই সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবে না জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। যেহেতু এ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আইনি ভিত্তি অর্জন হবে না, এটা কেবল আনুষ্ঠানিকতা।"
সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিএনপি। এমনকি 'ষড়যন্ত্র তত্ত্ব' হাজির করেছে জামায়াতে ইসলামী এবং তারা সরকারের কিছু উপদেষ্টার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ করেছে।
বার্তায় বলা হয়েছে, এই স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে (জুলাই সনদের) আইনি ভিত্তি অর্জন হবে না, এটা কেবল আনুষ্ঠানিকতা। আমরা বহুবার আইনি ভিত্তির কথা বলেছি। তাই এখানে অংশ নিচ্ছি না।
জুলাই সনদের জন্য দলগুলো বিভিন্ন ইস্যুতে ছাড় দিয়ে ঐকমত্যে পৌঁছালেও এখনো ভিন্নমতও রয়ে গেছে। সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে যে গণভোটের সিদ্ধান্ত হয়েছিল, তার সময়রেখা নিয়েও রয়েছে তীব্র মতপার্থক্য। এর মধ্যে অন্তত ছয়টি দল সুস্পষ্টভাবেই বলে দিয়েছে, তারা জুলাই সনদে সই করবে না। আরও কয়েকটি দলও নানা শর্ত আরোপ করেছে রেখেছে
জুলাই জাতীয় সনদকে আইনি ভিত্তি ও এ সনদ বাস্তবায়নে আদেশ জারি— জুলাই জাতীয় সনদে সইয়ের জন্য এ দুই শর্ত দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম জানিয়েছেন, এ দুই শর্ত না মানলে তারা জুলাই সনদে সই করবেন না।
আগামী শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) জুলাই সনদ সইয়ের কথা থাকলেও এতদিন ধরে ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করে আসা সব রাজনৈতিক দল এতে আসলেই সই করবে কি না, বুধবার (১৫ অক্টোবর) রাত পর্যন্ত তা নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি।
সনদ বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন আখতার হোসেন। জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য যে গণভোট আয়োজনের কথা বলা হয়েছে, সেটি পরিষ্কার হয়নি বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। বলেন, ‘নোট অব ডিসেন্টের একটি সংজ্ঞা প্রয়োজন এবং যেভাবে সেগুলো বাস্তবায়ন করা হবে, সেই পথনকশা এবং গণভোট প্রসঙ্গ স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।