আইআরজিসির দাবি, সাম্প্রতিক মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার জবাবেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে ইরান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে হরমুজ প্রণালী বন্ধের আদেশ জারি করেছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
ইরানের অন্তত ২৪টি প্রদেশে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানে কর্মরত রেড ক্রিসেন্ট। আন্তর্জাতিক এই মানবিক সহায়তা সংস্থার তথ্য বলছে, এসব হামলায় নিহত হয়েছেন কমপক্ষে ২০১। এ ছাড়া আরও অন্তত ৭৪৭ জন আহত হয়েছেন।
উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রাখার কথা উল্লেখ করে আরাঘচি বলেন, ‘আমি তাদের ব্যাখ্যা করে জানিয়েছি—আমরা তাদের ওপর হামলার কোনো ইচ্ছা পোষণ করি না। শুধু আত্মরক্ষার অংশ হিসেবে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালাচ্ছি।’
রিয়াদের দাবি, তেহরানের পক্ষ থেকে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর ওপর ‘আগ্রাসন’ চালানো হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থি। আজ শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এসব অভিযোগ করেছে।
ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার খবর পাওয়া গেছে। ইসরায়েল এ অভিযানকে নাম দিয়েছে ‘রোরিং লায়ন’ (গর্জনরত সিংহ)। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের অভিযানের নাম দিয়েছে ‘দ্য এপিক ফুরি’ (মহাতাণ্ডব)।
ইরান মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতার, বাহরাইন, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোর ওপর হামলা চালিয়েছে। দেশগুলোতে বিকট বিস্ফোরণের খবর জানিয়েছে রয়টার্স ও আল-জাজিরাসহ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।
বিবিসি ও বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়েছে, আলোচনায় ইরানের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি বলেন, ভালো অগ্রগতি হয়েছে। কিছু বিষয়ে সমঝোতাও হয়েছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোতে মতপার্থক্য রয়ে গেছে। এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে পরবর্তী বৈঠক হবে বলে জানান তিনি।
ইরান সবসময়েই পারমাণবিক বোমা তৈরির চেষ্টার কথা অস্বীকার করে আসছে। কিন্তু অনেক দেশই তাদের সে দাবির সঙ্গে একমত নয়। এমনকি বিশ্বব্যাপী পারমাণবিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থাও (আইএইএ) ইরানের ওপর আস্থাশীল নয়।
এই আলোচনাকে সংঘাত রোধের শেষ প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে, তবে চুক্তির সম্ভাবনা এখনো অস্পষ্ট। ট্রাম্প যদিও বলেছেন, তিনি কূটনীতির মাধ্যমে সংকট সমাধান করতে পছন্দ করেন। তবে ইরানের নেতাদের চুক্তি মেনে নিতে চাপ দেওয়ার জন্য দেশটির উপর সীমিত পরিসরে হামলার কথা বিবেচনা করছেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষিত গাজা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ইন্দোনেশিয়া, মরক্কো, কসোভো ও আলবেনিয়াসহ কয়েকটি দেশ ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে সেনা পাঠাতে সম্মত হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, গত বছর ইরানের তিনটি পরমাণু স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র হামলা না চালালে তেহরানের হুমকি মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা বাধাগ্রস্ত করত। যুক্তরাষ্ট্রকে হয়তো এখন আরও এক ধাপ এগোতে হবে। না-ও হতে পারে। হয়তো একটি চুক্তি হবে। আগামী ১০ দিনের মধ্যেই সম্ভবত তা জানা যাবে।
ফিলিস্তিনের গাজার বিভিন্ন স্থানে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় আরও অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নবগঠিত ‘বোর্ড অব পিস’ বা শান্তি পরিষদ যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা পুনর্গঠনে পাঁচ বিলিয়ন ডলার দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে। এ পরিষদ আগামী বৃহস্পতিবার প্রথম বৈঠকে বসবে।
ইরানের সঙ্গে ‘ফলপ্রসূ’ আলোচনা হয়েছে জানিয়ে ট্রাম্প দাবি করেছেন, দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি করতে মরিয়া হয়ে গেছে। ট্রাম্প বলেন, ‘আমাদের খুব ভালো আলোচনা হয়েছে এবং মনে হচ্ছে ইরান একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে চায়।’
ইরানের সাম্প্রতিক বিক্ষোভে নিহতদের একটি তালিকা প্রকাশ করেছে দেশটির প্রেসিডেন্ট কার্যালয়। এ তালিকায় দুই হাজার ৯৮৬ জনের নাম-পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে।
রাষ্ট্রপতি সিরিল রামাফোসাকে অপমান করাসহ বারবার কূটনৈতিক নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগে ইসরায়েলের কূটনীতিকের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে আফ্রিকার দেশটির কর্তৃপক্ষ।
ইরানজুড়ে চলমান গণবিক্ষোভ ও সাম্প্রতিক আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশটির বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। বাহিনীর প্রধান কমান্ডার জেনারেল মোহাম্মদ পাকপুর বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো ‘ভুল’ পদক্ষেপের জবাব দিতে তারা সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং তাদের আঙুল ‘ট্রিগারে’ রয়
এ সময় ট্রাম্প জানিয়েছেন, কারা কারা থাকছে তার এই শান্তি উদ্যোগে। আরও জানিয়েছেন, ফিলিস্তিনের যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা ঘিরে এই বোর্ডের কার্যক্রম শুরু হলেও ভবিষ্যতে তা আরও ব্যাপক আকারে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে।