ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিসে’র আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ, কারা থাকছে?

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ২২ জানুয়ারি ২০২৬, ২০: ৩০
সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করেছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রস্তাবিত বোর্ড অব পিস। ছবি: সংগৃহীত

সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম (ডব্লিইএফ) সম্মেলনে সনদে সইয়ের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রস্তাবিত ‘বোর্ড অব পিস’ বা শান্তি পরিষদ।

এ সময় ট্রাম্প জানিয়েছেন, কারা কারা থাকছে তার এই শান্তি উদ্যোগে। আরও জানিয়েছেন, ফিলিস্তিনের যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা ঘিরে এই বোর্ডের কার্যক্রম শুরু হলেও ভবিষ্যতে তা আরও ব্যাপক আকারে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে।

বিবিসি ও বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে ‘বোর্ড অব পিস’ বা শান্তি পরিষদ সনদে সইয়ের মূল পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় ট্রাম্পের পাশে ছিলেন হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান ও আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই, যারা ট্রাম্পের কট্টর মিত্র হিসেবে পরিচিত। শান্তি পরিষদের সনদে সইয়ের পর কর্মরদন করেন তারা, ক্যামেরার সামনে হাসিমুখে পোজ দেন। সনদ সইয়ের পরপরই ডব্লিইএফ একে একটি পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক সংস্থা হিসেবে ঘোষণা করেছে।

গত কয়েক দিন ধরেই বিশ্বব্যাপী আলোচনায় থাকা ট্রাম্পের এই শান্তি পরিষদ জাতিসংঘকে পাশ কাটিয়ে নতুন কোনো সমান্তরাল বিশ্বব্যবস্থা তৈরি করবে কি না, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

আলোচিত এই শান্তি পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে থাকছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই। তিনি গাজা যুদ্ধ বিরতির বাইরেও বৈশ্বিক বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এই বোর্ডকে ব্যবহার করার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন।

ট্রাম্প বলেন, একবার এই বোর্ড পূর্ণাঙ্গভাবে গঠিত হয়ে গেলে আমরা যা চাই তাই করতে পারব। তবে আমরা জাতিসংঘের সঙ্গেই কাজ করব। জাতিসংঘেরও অনেক সম্ভাবনা রয়েছে, যা এখনো পুরোপুরি কাজে লাগানো হয়নি।

সনদে সই করার পর ট্রাম্প হাস্যোজ্জ্বল মুখে সেটি ক্যামেরার সামনে তুলে ধরেন। এর মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হলো দাবি করে তিনি বলেন, ‘আমরা যা করছি, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমি সত্যিই এখানে এসে এটি করতে চেয়েছিলাম এবং এর জন্য দাভোসের চেয়ে ভালো জায়গা আর হতে পারে না।’

এ সময় ট্রাম্প আবারও আটটি যুদ্ধ অবসান ঘটানোর কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন। বলেছেন, শিগগিরই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধেরও অবসান হতে যাচ্ছে।

ট্রাম্পের এই বোর্ডে যোগ দিতে বিশ্ব নেতাদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে শর্ত হিসেবে বলা হয়েছে, বোর্ডের স্থায়ী সদস্যদের প্রত্যেককে এক বিলিয়ন বা এক শ কোটি ডলার করে তহবিল দিতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের এ আহ্বানে অধিকাংশ প্রধান বিশ্ব শক্তি ও ঐতিহ্যগত মিত্ররা এখন পর্যন্ত কোনো সাড়া দেয়নি বা খুব সতর্ক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।

বোর্ড অব পিসে কারা আছে, কারা নেই

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে কয়েকটি দেশের প্রতিনিধি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। তবে বিশ্বের প্রধান প্রধান ক্ষমতাধর রাষ্ট্র কিংবা ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের কোনো প্রতিনিধি সেখানে উপস্থিত ছিলেন না।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মিসর, তুরস্ক, বেলারুশ ও হাঙ্গেরিসহ প্রায় ৩৫টি দেশ এই বোর্ডে যোগ দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছে। এ ছাড়া ইসরায়েল ও হাঙ্গেরি এই উদ্যোগে যুক্ত হওয়ার কথা জানিয়েছে।

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যদের মধ্যে ফ্রান্স ও ব্রিটেন সরাসরি অস্বীকৃতি জানিয়েছে এই বোর্ডে যোগ দিতে। রাশিয়া জানিয়েছে, তারা প্রস্তাবটি খতিয়ে দেখছে। চীনও এখন পর্যন্ত নীরব ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে।

ট্রাম্পের গাজা শান্তি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের এক প্রস্তাবের মাধ্যমে এই বোর্ডের প্রতি সমর্থন জানানো হয়েছিল। জাতিসংঘের মুখপাত্র রোলান্দো গোমেজ বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন, জাতিসংঘ কেবল গাজা শান্তি আলোচনার প্রেক্ষাপটেই এই বোর্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকবে। এর বাইরে বোর্ডের অন্য কোনো কার্যক্রমে জাতিসংঘের সম্পৃক্ততার বিষয়ে তিনি কিছু জানাননি।

সমালোচকরা বলছেন, ট্রাম্পের এই উদ্যোগ বিশ্ব কূটনীতি ও দ্বন্দ্ব নিরসনের প্রধান প্ল্যাটফর্ম হিসেবে জাতিসংঘের গুরুত্ব কমিয়ে দিতে পারে। তবে ট্রাম্পের দাবি, তার এই বোর্ডের সদস্যদের সঙ্গে জাতিসংঘের সমন্বয় বিশ্বের জন্য অনন্য কিছু বয়ে আনবে।

ad
ad

বিশ্ব রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

এবারও কলকাতা বইমেলায় থাকছে না বাংলাদেশ

আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলায় এ বছরও অংশ নিতে পারছেন না বাংলাদেশের প্রকাশকরা। টানা দ্বিতীয়বারের মতো এই বইমেলায় বাংলাদেশের কোনো প্যাভিলিয়ন থাকছে না বলে নিশ্চিত করেছে আয়োজকরা।

১ দিন আগে

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে আর পিছু হটার সুযোগ নেই : ট্রাম্প

সুইজারল্যান্ডে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের এক বৈঠকে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সতর্ক করে বলেন, "নিয়মবিহীন এক ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বিশ্ব।

১ দিন আগে

ট্রাম্পের অভিবাসন নীতির প্রতিবাদে উত্তাল যুক্তরাষ্ট্র

বিক্ষোভের কেন্দ্রবিন্দু ছিল মিনিয়াপলিস, যেখানে গত ৭ জানুয়ারি এক অভিবাসন অভিযানের সময় রেনি গুডকে তার গাড়ি থেকে টেনে বের করে গুলি করা হয়েছিল। এই ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভকারীরা ‘নো আইস, নো কেকেকে, নো ফ্যাসিস্ট ইউএসএ’ স্লোগান দিয়ে রাজপথ প্রকম্পিত করেন।

১ দিন আগে

নো-ফ্যামিলি পোস্টিং: বাংলাদেশ থেকে কূটনীতিকদের পরিবার সরিয়ে নিচ্ছে ভারত

‘নন-ফ্যামিলি পোস্টিং’কে ভারতীয় কূটনীতিকদের জন্য সবচেয়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থাগুলোর একটি মনে করা হয়। বর্তমানে ভারতের সঙ্গে সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্ক যে পাকিস্তানের, সেখানেও এই নীতি প্রযোজ্য নেই। এই দেশটি ভারতের কাছে ‘নো-চিলড্রেন পোস্টিং’ হিসেবে বিবেচিত।

২ দিন আগে