আল-কুদস দিবস বা আন্তর্জাতিক আল-কুদস দিবস (ফার্সি ভাষায়—روز جهانی قدس) প্রতি বছর রমজান মাসের শেষ শুক্রবার পালিত হয়ে থাকে, যা ১৯৭৯ সালে ইরানে শুরু হয়েছিল। এই দিবস পালনের উদ্দেশ্য ফিলিস্তিনি জনগণের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ, জায়নবাদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ ও ইসরায়েল কর্তৃক জেরুজালেম দখলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ
প্রতিদিনই বিভিন্ন সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠন রাজপথের আন্দোলনে যুক্ত হচ্ছে। অভিনেতা গোলাম মোস্তফা ও চলচ্চিত্রকার খান আতাউর রহমানের নেতৃত্বে ‘বিক্ষুদ্ধ শিল্পী সমাজ’ ব্যানারে কবি, অভিনেতা ও শিল্পীরা রাজপথে বিক্ষোভ করেন। পাকিস্তান সিভিল সার্ভিসের দ্বিতীয় শ্রেণির বাঙালি অফিসাররা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে প্রতি
সকালে পিআইএ’র বাঙালি কর্মচারীরা তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে মিছিল করে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে এলে বঙ্গবন্ধু তাদের সাক্ষাৎ দেন। ওদিকে চট্টগ্রামে দুপুরে অবাঙালিরা রেলওয়ে কলোনি এবং এ কে খান রোডে সংঘর্ষে জড়ায়। বিকালে হালিশহর থেকে দেওয়ানহাট হয়ে আগ্রাবাদ পর্যন্ত সশস্ত্র অবাঙালিরা মিছিল করে।
গতকালের ভাষণে বঙ্গবন্ধু অধিবেশনে যোগ দিতে যে পূর্বশর্ত দিয়েছেন, পাকিস্তান সরকারের পক্ষে তা মানা সম্ভব হবে না। বঙ্গবন্ধু তার ভাষণে সামরিক প্রেসিডেন্টকে মূলত উপেক্ষা করেছেন। এ কারণেই হয়তো মার্কিন গোপন দলিলে বলা হয়েছে, ৭ মার্চের শেখ মুজিবের ভাষণ স্বাধীনতা ঘোষণার তুল্য।
একটি বিষয় এখানে গুরুত্ব পেতে পারে। বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের আলোকচিত্র এবং অডিও-ভিডিও ধারণ করে দুটি সরকারি প্রতিষ্ঠান— চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর (ডিএফপি) ও বাংলাদেশ বেতার। দুটি প্রতিষ্ঠানই এ কাজ করেছে সরকারের কোনো অনুমতি ছাড়াই। সেটি না করলে পরবর্তী কোনো প্রজন্ই আর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভ
১ মার্চ প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান জাতীয় পরিষদের অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ঘোষণা করেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এ ঘোষণাকে প্রত্যাখ্যান করে প্রতিবাদে ঢাকায় ২ ও ৩ মার্চ দুই দিনের সর্বাত্মক হরতালের ডাক দেন। তিনি ঘোষণা দেন, ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) আন্দোলনের পরবর্
ক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক যৌথ সামরিক তৎপরতার পর ইরান শুরু করেছে প্রতিশোধমূলক অভিযান ‘ট্রু প্রমিস ৪’। এ অভিযানে কোটি কোটি টাকার ব্যয়বহুল ক্ষেপণাস্ত্র নয়, বরং আতঙ্ক ছড়াচ্ছে স্বল্পমূল্যের কিন্তু দূরপাল্লার শাহেদ-১৩৬ ড্রোন। প্রতিটি ড্রোনের আনুমানিক মূল্য প্রায় ২৫ লাখ টাকা হলেও এর কৌশলগত প্রভাব অ
বিদায় নিয়েছে ২০২৫ সাল। নানা ঘটনা আর অঘটনের মধ্যে বিদায়ী এ বছরটিতেও আমরা হারিয়েছি এমন অনেককে, যারা তাদের জীবন ও কাজের মাধ্যমে দেশ ও রাষ্ট্রের জন্য নিজেদের মহীরূহতে পরিণত করেছিলেন। তারা এমন সব ব্যক্তিত্ব, যাদের প্রয়াণ দেশ ও জাতির জন্য সত্যিকার অর্থেই অপূরণীয় ক্ষতি।
১৬ ডিসেম্বর ছিল সেই দিন, যেদিন প্রমাণিত হয়েছিল— একটি নিরস্ত্র জাতি যখন স্বাধীনতার মন্ত্রে দীক্ষিত হয়, তখন পৃথিবীর কোনো পরাশক্তি বা আধুনিক সমরাস্ত্র তাদের দাবিয়ে রাখতে পারে না। মার্কিন সপ্তম নৌ বহর বঙ্গোপসাগরের নীল জলেই থমকে দাঁড়িয়েছিল। আর জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সব কূটচাল ব্যর্থ হয়ে গিয়েছিল বাঙা
একাত্তরের ১৫ ডিসেম্বর দিনটি ছিল বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এক বিচিত্র ও শ্বাসরুদ্ধকর অধ্যায়, যেখানে বিজয়ের চূড়ান্ত আনন্দ আর ভূ-রাজনীতির জটিল সমীকরণ একই সমান্তরালে চলছিল। ক্যালেন্ডারের পাতায় এটি ছিল বিজয়ের ঠিক আগের দিন। কিন্তু রণাঙ্গনের বাস্তবতায় এটি ছিল পাকিস্তানি বাহিনীর মানসিক মৃত্যু ও যৌথ ব
এই ভয়াল ট্র্যাজেডির পাশাপাশি এ দিনই শুরু হয় আত্মসমর্পণের আনুষ্ঠানিক নাটকীয়তাও। ভারতীয় সেনাপ্রধান জেনারেল মানেকশের চরমপত্রের পর ১৩ ডিসেম্বর রাতে জেনারেল নিয়াজি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। ১৪ ডিসেম্বর ছিল সেই দিন, যেদিন নিয়াজির আত্মসমর্পণের সেই ঐতিহাসিক সিগন্যালটি দিল্লি থেকে ঢাকায় পৌঁছায়।
একাত্তরের ডিসেম্বরের শুরু থেকেই যখন রণাঙ্গনে পাকিস্তানি বাহিনীর পরাজয় নিশ্চিত হয়ে আসছিল, তখনই গভর্নর হাউসের অন্দরমহলে মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী এক ভয়ংকর নীলনকশা চূড়ান্ত করেন। তাঁর ডায়েরিতেই পাওয়া যায় সেই মৃত্যু-তালিকা, যেখানে লেখা ছিল দেশের প্রথিতযশা শিক্ষক, চিকিৎসক, সাংবাদিক ও সাহিত্যিকদের নাম।
১৩ ডিসেম্বর ঢাকার আকাশ, বাতাস এবং মাটি সব কিছুই যেন পাকিস্তানি জেনারেলদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছিল। জেনারেল নিয়াজি তার ক্যান্টনমেন্টের সুরক্ষিত ভূগর্ভস্থ বাঙ্কারে বসে ম্যাপের দিকে তাকিয়ে দেখছিলেন যে, পালানোর আর কোনো রাস্তা খোলা নেই।
পরাশক্তিদের দ্বন্দ্বে বাংলাদেশের মুক্তিকামী মানুষ ও প্রবাসী সরকার ছিল অটল। প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ ১২ ডিসেম্বর এক বেতার ভাষণে বলেন, ‘সপ্তম নৌ বহর আমাদের স্বাধীনতা আটকাতে পারবে না। প্রয়োজনে আমরা ১০০ বছর যুদ্ধ করব, তবু বিদেশিদের কাছে মাথা নত করব না।’
কাদেরিয়া বাহিনীর সদস্যরা প্যারাট্রুপারদের পথ দেখিয়ে পুংলি ব্রিজের দিকে নিয়ে যায় এবং ব্রিজটি দখল করে নেয়। এর ফলে ময়মনসিংহ ও জামালপুর থেকে পিছু হটা পাকিস্তানি ৯৩ ব্রিগেডের সৈন্যরা ঢাকার দিকে যাওয়ার পথে আটকা পড়ে।
ঢাকার চারপাশের বৃত্ত বা ‘লুপ’ ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে পুরোপুরি সম্পন্ন হয়ে যায়। উত্তরে ময়মনসিংহ মুক্ত হওয়ার পর মিত্রবাহিনী ও মুক্তিযোদ্ধারা ঢাকার দিকে ছুটছে, পূর্বে মেঘনা পাড় হয়ে নরসিংদীর দিকে অগ্রসর হচ্ছে বিশাল বহর, আর পশ্চিমে পদ্মার পাড়ে চলছে তুমুল প্রস্তুতি।