সৌদি যুবরাজ যুক্তি দিয়েছেন যে উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোকে ইরান দীর্ঘমেয়াদি হুমকির মুখে রেখেছে, যা দেশটির সরকারকে নির্মূল করার মাধ্যমে দূর করা যেতে পারে। তবে সৌদি কর্মকর্তারা যুবরাজের এমন অবস্থানের কথা অস্বীকার করেছেন।
তবে যুক্তরাষ্ট্র বা ইরান— কোনো পক্ষই এখন পর্যন্ত বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ওয়াশিংটনের অনেকের কাছেই মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের নাম আসাটা অবাক হওয়ার মতো কিছু নয়।
ইসরায়েলের তেল আবিবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত চারজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম হারেৎজ। এসব হামলা এমন এক সময় চালানো হলো, যখন ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুদ্ধ বন্ধে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ‘অত্যন্ত ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ’ আলোচনা হয়েছে।
ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ানের এক অনুসন্ধানে বলা হয়েছে, ২৮ মার্চ যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৯টি ক্লাস্টার ওয়ারহেডবাহী ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করে জনবসতিতে আঘাত হেনেছে। এই পরিসংখ্যান ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একটি বড় দুর্বলতাকে সামনে নিয়ে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের কোনো আলোচনা হয়নি বলে দাবি করেছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (আগে টুইটার) এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘আর্থিক ও তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যে চোরাবালিতে আটকে গেছে, তা থেকে বাঁচতে মিথ্যা খবর ব্যবহার করা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানের সঙ্গে ‘অত্যন্ত ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ’ আলোচনার দাবি অস্বীকার করেছে ইরান। দেশটি একই সঙ্গে জানিয়েছে, ট্রাম্পের এমন মন্তব্যের উদ্দেশ্য হলো জ্বালানির দাম কমানো এবং তার সামরিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য সময় ক্ষেপণ করা।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আজ সোমবার (২৩ মার্চ) আগামী পাঁচ দিন ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছেন। তার এ ঘোষণার পর বিশ্ববাজারে তেলের দামে তেলের দাম ১৩ শতাংশের বেশি কমে গেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর দিয়েছে।
ইরানের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার সিদ্ধান্ত থেকে সরে গেলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আগামী পাঁচ দিনের জন্য ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জ্বালানি অবকাঠামোতে সব ধরনের সামরিক হামলা স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
ইরানকে হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম এবং ইসরায়েলের যুদ্ধ অব্যাহত রাখার ঘোষণার পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। আজ সোমবার দিনের শুরুতেই আন্তর্জাতিক বাজারে এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যায়।
বিভিন্ন দেশ ইরানের বিরুদ্ধে এগিয়ে আসছে উল্লেখ করে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন সময় এসেছে বাকি দেশের নেতারা একত্রিত হওয়ার। আমি খুশি যে তাদের মধ্যে কিছু দেশ সেই দিকে এগোচ্ছে। তবে আরও বেশি বেশি দেশের এগিয়ে আসা প্রয়োজন।
ইরানে চলমান যুদ্ধের মধ্যেই গত শনিবার (২১ মার্চ) ১৮ বছর বয়সী ইহুদি তরুণ ইহুদা শেরম্যানের মৃত্যুর পর এ সহিংসতার সূত্রপাত হয়। কোয়াড বাইক চালানোর সময় এক ফিলিস্তিনির গাড়ির ধাক্কায় শেরম্যানের মৃত্যু হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নাকি দুর্ঘটনা, তা তারা তদন্ত করছে।
আইআরজিসি আরও জানিয়েছে, ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র আক্রান্ত হলে ইসরায়েলের বিদ্যুৎকেন্দ্র, জ্বালানি অবকাঠামো এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি স্থাপনায় ‘ব্যাপক হামলা’ চালানো হবে। একই সঙ্গে এই অঞ্চলের যেসব কোম্পানিতে যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানা রয়েছে, সেগুলোকেও ‘ধ্বংস’ করে দেওয়া হবে।
মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধ এবং যুদ্ধ থেকে উৎসরিত মৃত্যু ও যন্ত্রণাকে পুরো ‘মানবজাতির জন্য একটি কলঙ্ক’ বলে অভিহিত করেছেন পোপ চতুর্দশ লিও। রোববার (২২ মার্চ) ভ্যাটিকান সিটির সেন্ট পিটার্স চত্বরে সাপ্তাহিক অ্যাঞ্জেলাস প্রার্থনা সভায় এ কথা বলেন তিনি।
ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলের আরাদ, দিমোনা ও তেল আবিব শহরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। এতে অন্তত ২০০ জন আহত হয়েছেন, তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এ ছাড়া লেবানন সীমান্তে সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর হামলায় এক ইসরায়েলি নিহত হয়েছেন।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে ট্রাম্প নতুন এ আলটিমেটাম দিয়েছেন। গ্রিনিচ মিন টাইম অনুযায়ী শনিবার (২১ মার্চ) রাত ১১টা ৪৪ মিনিটে পোস্টটি করেন ট্রাম্প। ফলে তার আলটিমেটাম অনুযায়ী ইরান হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে গ্রিনিচ মিন টাইমে সোমবার (২৩ মার্চ) রাত ১১টা ৪৪ মিনিট পর্যন্ত সময় পাবে।
রোববার (২২ মার্চ) দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। মন্ত্রণালয় জানায়, নিখোঁজ থাকা শেষ আরোহীকে খুঁজে বের করতে বিশেষায়িত উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে দুর্ঘটনার কারণ এবং নিহতদের পরিচয় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করনি মন্ত্রণালয়।
পরিস্থিতির জটিলতায় ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন নতুন সংকটের মুখে পড়েছেন। ‘স্বল্পমেয়াদি অভিযানে’র কথা বলে এখন নতুন করে সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, যদিও হরমুজ প্রণালি ইস্যুতে ন্যাটোর সদস্যসহ কোনো মিত্রদেশকেই সামরিক অভিযানে রাজি করাতে পারেননি তিনি। এ কারণে ন্যাটো দেশগুলোকে ‘ভীরু’ বলেও আখ্যা দেন।