ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির আহত হওয়ার খবরকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে তেহরান। রাশিয়ায় নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত কাজেম জালালি এক বিবৃতিতে বলেছেন, মোজতবার মস্কোতে চিকিৎসা নেওয়ার সংবাদের কোনো সত্যতা নেই।
ইরানের নিরাপত্তা প্রধান আলি লারিজানি ও ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) আওতাধীন আধাসামরিক বাহিনী ‘বাসিজ ফোর্সের’ কমান্ডার গোলামরেজা সোলাইমানি নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইসরায়েল।
ওয়াশিংটন ও তাদের মিত্রদের জন্য আদর্শ পরিস্থিতি হতো যদি এই যুদ্ধের মাধ্যমে আয়াতুল্লাহদের শাসনের অবসান ঘটে এবং দ্রুত সেখানে একটি শান্তিপূর্ণ, গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকার আসে; যারা নিজেদের জনগণ বা প্রতিবেশীদের জন্য আর হুমকি হবে না।
ইরাকের রাজধানী বাগদাদে মার্কিন দূতাবাসে একাধিক ড্রোন ও রকেট হামলা চালানো হয়েছে। ইরাকের নিরাপত্তা সূত্রগুলো জানিয়েছে, হামলা শুরুর পর থেকে এটি ছিল সবচেয়ে তীব্র আক্রমণ। তবে এ হামলায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে এখনো কিছু জানা যায়নি। তবে বাগদাদেই ইরানপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠীর এক ঘাঁটিতেও পালটা হামলা হয়েছে, যে
ট্রাম্পের এ আহ্বানে সাড়া মেলেনি একেবারেই। যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, থেকে শুরু করে জাপান বা দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশগুলোর কেউই খুব একটা উৎসাহ দেখাননি ট্রাম্পের প্রস্তাবে। এমনকি ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত চীনের প্রতি সহযোগিতার আহ্বান জানালে তারাও মুখ ঘুরিয়ে নিয়েছে।
ট্রাম্প আরও বলেন, এখন দেখা যাক, তারা আমাদের সহায়তা করে কি না। যদি তাদের কাছ থেকে (সহায়তার বিষয়ে) কোনো সাড়া না পাওয়া যায় অথবা নেতিবাচক সাড়া আসে, তাহলে আমি মনে করি এটি ন্যাটোর ভবিষ্যতের জন্য খুব খারাপ হবে।
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ১৫ জন ইসরায়েলি নিহত হয়েছেন। ইসরায়েলের জরুরি পরিসেবা সংস্থা (এমডিএ) এই তথ্য জানিয়েছে। সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়, সংঘাতে ৯০০ জনের বেশি ইসরায়েলি আহত হয়েছেন, যার মধ্যে পাঁচজন গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেজ্জিল ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা আনুমানিক দুই হাজার থেকে আড়াই হাজার কিলোমিটার। এর গতি শব্দের চেয়ে প্রায় ১৩ গুণ বেশি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ইরান সমঝোতা করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। তবে অন্যান্যবারের মতোই এ কথা অস্বীকার করেছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা নিয়ে আলোচনা করার কোনো কারণই নেই।
ইরানের পশ্চিমাঞ্চলীয় ইলাম প্রদেশের আইভান শহরে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় ৬ মাস বয়সী এক শিশুসহ একই পরিবারের ছয় সদস্য নিহত হয়েছেন।
শনিবার (১৪ মার্চ) এক বিবৃতিতে হামাস জানায়, আন্তর্জাতিক আইন ও রীতি অনুযায়ী যেকোনো উপায়ে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাব দেওয়ার অধিকার ইরানের রয়েছে। ইরানের নেতৃত্বকে ‘ভাই’ সম্বোধন করে হামাস আহ্বান জানিয়েছে, প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে যেন প্রতিবেশী দেশগুলোকে লক্ষ্যবস্তু না করা হয়।
শনিবার (১৪ মার্চ) আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের ৩১তম মেরিন এক্সপিডিশনারি ইউনিটের সদস্যরা জাপানের ওকিনাওয়া দ্বীপে অবস্থিত নিজস্ব ঘাঁটি থেকে যাত্রা শুরু করেছেন। তাদের সঙ্গে রয়েছে উভচর যুদ্ধজাহাজ ‘ইউএসএস ত্রিপোলি’।
সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে অবস্থানকালে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনীর পাঁচটি রিফুয়েলিং (জ্বালানি সরবরাহকারী) বিমান ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শুক্রবার (১৩ মার্চ) দুই মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে শুক্রবার এ তথ্য জানিয়েছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।
ইরাকের পশ্চিমাঞ্চলে মার্কিন বিমান বাহিনীর জ্বালানি সরবরাহকারী (রিফুয়েলিং) বিমান ‘কেসি-১৩৫ স্ট্রাটোট্যাংকার’ বিধ্বস্ত হয়েছে। এতে চার সেনার মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)।
ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলীয় শহর জারজিরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত অর্ধশত মানুষ আহত হয়েছেন এবং বেশ কিছু ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে শুক্রবার (১৩ মার্চ) সিএনএনের খবরে বলা হয়, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে এ হামলা চালানো হয়।
বুধবার (১১ মার্চ) ছিল ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের দ্বাদশ দিন। আগের ১১ দিনের মতোই এ দিনই উভয় পক্ষই হামলা-পালটা হামলা অব্যাহত রেখেছে। বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, ১২ দিনে এসেও দুপক্ষের কেউই কাউকে বিন্দুমাত্র ছাড় দিতে নারাজ বলেই জানিয়েছে।