পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালিতে অজ্ঞাত প্রজেক্টাইলের আঘাতে পরপর তিনটি কার্গো জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে একটি জাহাজে অগ্নিকাণ্ড ঘটায় বেশিরভাগ নাবিককে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) জেরুজালেম পোস্ট এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়েছে, বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মৃত্যু বা গুরুতর আহত হওয়া নিয়ে ইরানি গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ ভিত্তিহীন। এর পক্ষে কোনো প্রমাণ বা সরকারি নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
ইরানের মিত্র হিসেবে পরিচিত রাশিয়া ও চীনের পক্ষ থেকে সমর্থন এসেছে নতুন এই সর্বোচ্চ নেতার পক্ষে। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সরাসরি বার্তা দিয়ে মোজতবাকে আকুণ্ঠ সমর্থন দেওয়ার কথা জানান। অন্যদিকে বিপরীত প্রতিক্রিয়া এসেছে ট্রাম্পের কাছ থেকে। তিনি বলেছেন, মার্কিন সমর্থন না থাকলে ইরানের নেতৃত্ব দীর্ঘস্
আলি খামেনির মৃত্যুর পর তার ছেলে মোজতবার নামই ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে আলোচনায় ছিল। বিভিন্ন সূত্রের বরাতে তার নির্বাচিত হওয়ার তথ্য এর আগে ইরানের গণমাধ্যমেও এসেছে। পরে রোববার (৮ মার্চ) রাতে ইরানের ৮৮ সদস্যের বিশেষজ্ঞ পরিষদ ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে তার নাম ঘোষণা করে।
আজ রোববার (৮ মার্চ) দেশটির সিভিল ডিফেন্স এজেন্সি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা। ইরানের এ হামলায় আরও ১২ জন আহত হওয়ার তথ্য দিয়েছে সৌদি সিভিল ডিফেন্স। তবে হতাহতদের পরিচয় এখনও প্রকাশ করা হয়নি।
চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বিশ্ববাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি বন্ধের কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন ইরানের সামরিক বাহিনীর একজন মুখপাত্র। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ওই মুখপাত্রের এমন বক্তব্য প্রচার করেছে।
সার্বিক চিত্র বলছে, এক সপ্তাহ পেরিয়ে গিয়ে ইরান যুদ্ধের সূত্র ধরে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে উঠেছে। ফলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও একের পর এক নতুন ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, এ অবস্থায় শেষ পর্যন্ত ইরানে সামরিক সাফল্য অর্জন করা গেলেও তাকে স্পষ্ট কোনো ভূরাজনৈ
শুক্রবার আইআরজিসি এ হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে। ইরানের এ বাহিনী বলছে, হরমুজ প্রণালির কিশ দ্বীপে পানি শোধনাগারে মার্কিন হামলার প্রতিক্রিয়ায় তারা এই আক্রমণ চালিয়েছে।
ইরান-ইসরায়েলের সংঘাতের প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছে গোটা বিশ্বে। এমন পরিস্থিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের’ দাবির পর ইরান কখনোই আত্মসমর্পণ করবে না বলে জানান প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।
গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (সিএসআইএস) জানিয়েছে, অভিযানের প্রথম ১০০ ঘণ্টায় যুক্তরাষ্ট্রের খরচ হয়েছে প্রায় ৩৭০ কোটি মার্কিন ডলার, যার মধ্যে ৩৫০ কোটি ডলারই আগে বাজেটে ধরা ছিল না। এ হিসাব বলছে, এ যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদিন খরচ হচ্ছে প্রায় ৯০ কোটি ডলার।
ট্রাম্প বলেন, “তারা এখন ডাকছে। বলছে— ‘একটি চুক্তি করলে কেমন হয়?’ কিন্তু আমি বলেছি, তোমরা খানিকটা দেরি করে ফেলেছ।”
মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে উত্তেজনা বাড়তে থাকা পরিস্থিতির মধ্যে ইরাক ও আশপাশের অঞ্চলে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ২৭টি হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরাকভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক (আইআরআই)।
শুধু অস্ত্রের ভাণ্ডার আর সরবরাহের ওপরে ইরান যুদ্ধের ফলাফল নির্ধারিত হবে না, সেটি ঠিক। তবে নিশ্চিতভাবেই অস্ত্রের সংখ্যা একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্ণায়ক। যেমন— অস্ত্র আর গোলাবারুদের সংখ্যার দিক থেকে রাশিয়া ইউক্রেনকে অনেক আগেই পিছনে ফেলে দিয়েছে। কিন্তু তবু যুদ্ধ চলছে সেখানে।
ইসরায়েলের বাণিজ্যিক কেন্দ্র তেল আবিব লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের সমন্বিত বড় ধরনের হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হামলা শুরু করে ইরানে, তার একদিন আগেই ওমানের মধ্যস্থতায় জেনেভায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওই বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না এলেও আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছিল দুপক্ষ থেকেই।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলায় তারা ইরানের স্বাস্থ্য অবকাঠামো বা হাসপাতালে ১৩টি হামলার সত্যতা পেয়েছে। এসব হামলায় চারজন স্বাস্থ্যকর্মী নিহত ও ২৫ জন আহত হয়েছেন।
এ যুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে হামলা অব্যাহত রেখেছে ইরান। এসব দেশেও ঘটছে প্রাণহানি। তবে এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৭৭ জন নিহত হয়েছেন বাহরাইনে, যেখানে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিতে হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল।