পোস্টে তিনি আরও লিখেছেন, এই সংকটময় সময়ে আমি আবারও স্মরণ করিয়ে দিতে চাই- আমাদের সংগ্রাম কারও বিরুদ্ধে নয়, আমাদের সংগ্রাম ন্যায়, অধিকার, গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার পক্ষে। আমরা চাই এমন একটি বাংলাদেশ, যেখানে সব নাগরিক নিরাপদে মত প্রকাশ করতে পারে, যেখানে বিচার হবে নিরপেক্ষ এবং যেখানে পরিবর্তন আসবে শান্তিপূর্ণ
দলীয় সূত্রের তথ্যানুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন ঘিরে দলীয় মনোনয়নকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হওয়া অস্থিরতা, বিভিন্ন জেলায় বিক্ষোভ–অসন্তোষের পরিস্থিতি এবং সাংগঠনিক দুর্বলতা, এসব ইস্যু আজকের আলোচনায় গুরুত্ব পাবে।
বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের নির্দেশে দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আবু সাঈদ, মুগ্ধ, ওয়াসিম আকরামকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। শিশুদের নির্বিচারে হত্যা করে বিভীষিকাময় পরিস্থিতি তৈরি করেছিল, সেগুলো এখনও মনে পড়ে।
নূরুল হক নূর আরও বলেন, আওয়ামী লীগ আজ গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে জনগণের কাছে প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। তারপরও আওয়ামী লীগের দেশে এখনো একটি সমর্থক গোষ্ঠী আছে। যারা শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী শাসন আমল সমর্থন করেননি, পরিস্থিতির কারণে হয়তো দল করেছেন। তারা এলাকায় কারও ওপর নির্যাতন বা জুলুম করেননি। আমি বিএনপি, জামায়াত,
তিনি আরও বলেন, 'বাংলাদেশের রাজনীতি আইনের শাসন ও বিচারের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। এদেশের ১৮ কোটি মানুষের আকাঙ্খা ছিলো ঘৃণ্য মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার দৃশ্যমান করার। আংশিক হলেও ট্রাইব্যুনালের রায়ে জাতির আশা কিছুটা পূর্ণ হয়েছে।'
সালাহউদ্দিন বলেন, ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হয়েছে, এ রায় মাইলফলক। অপরাধ বিবেচনায় এ সাজা যথেষ্ট না হলেও আগামীতে কোনো সরকার বা কোনো ব্যক্তি যেন ফ্যাসিস্ট হয়ে উঠতে না পারে তার জন্য উদাহরণ হবে এ রায়।’
রায়ে ট্রাইব্যুনাল বলেন, আসামিদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের যেসব অভিযোগ এ মামলায় করা হয়েছে সেগুলো সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। তারা মানবতাবিরোধী অপরাধে সরাসরি জড়িত ছিলেন।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আনা মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার প্রসঙ্গে বলেন, এই মামলার যথাযথ বিচার হলে তা দেশে একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।
শেখ হাসিনা প্রথম ক্ষমতায় যান ১৯৯৬ সালে। দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর তিনি বিতর্কিত হন। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, জোরপূর্বক গুম ও ভিন্নমত দমনের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে, যা একসময় বহুদলীয় গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করার নেতার ক্ষেত্রে ছিল একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন।
প্রসিকিউশন এ মামলায় শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে পাঁচটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উত্থাপন করেছে। উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া থেকে শুরু করে হত্যার নির্দেশ, রংপুরে আবু সাঈদ হত্যা, চানখাঁরপুলে ছয়জনকে হত্যা, আশুলিয়ায় গুলি করে হত্যার পর আগুন লাশ পোড়ানোর মতো অভিযোগগুলো এসেছে প্রসিকিউশনের বক্তব্যে।
কাদের সিদ্দিকী বলেন, আল্লাহ যতটা অসন্তুষ্ট হলে কোনো শাসককে গদি থেকে সরিয়ে দেন, তা পরিপূর্ণভাবে শেখ হাসিনা করেছেন। আল্লাহর তরফ থেকে গজবের কারণেই তিনি তার ক্ষমতা হারিয়েছেন।
গণভোটের প্রশ্ন সহজ করার দাবি জানান গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, মৌলিক সংস্কারের পক্ষে আট দল। এগুলো ভোটারদের কাছে সহজ ভাষায় তুলে ধরতে হবে সরকার এবং নির্বাচন কমিশনকে।
তারেক রহমান বলেন, ‘মওলানা ভাসানীর অগাধ দেশপ্রেম, দেশ ও জাতির স্বার্থ রক্ষা এবং গণতন্ত্র ও মানবতার শত্রুদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হতে যুগ যুগ ধরে আমাদের অনুপ্রাণিত করবে। তার আদর্শকে সঠিকভাবে অনুসরণ করতে পারলেই আমরা আমাদের অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছতে সক্ষম হবো।’
তিনি বলেন, “আমাকে বলা হয় আমি নাকি দলের প্রতি লoyal নই, কেননা নাকি আমি জামাত–শিবিরকে আন্দোলনের ক্রেডিট দিয়েছি। কেন দেব না? সেই সময়ে ছাত্রশিবিরের সভাপতি মঞ্জুরুল ইসলাম, সাদ্দাম ভাই, সিফরাতুল্লাহ ভাই—তাদের সঙ্গে বসেই আমরা আন্দোলন-সংগ্রামের পরিকল্পনা করেছি।”
বিএনপি মহাসচিব বলেন, দেশের রাজনীতি এখন বিভ্রান্তির মধ্যে আছে। বর্তমান সময়টি জটিল সংকটে পড়ছে। একটি গোষ্ঠী, একটি দল দেশের রাজনীতিতে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করতে চাচ্ছে।
সভায় আগামী নির্বাচনে সারা দেশে এককভাবে ট্রাক প্রতীকে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।