হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, এই নির্বাচন ছিল আমার বিরুদ্ধে একটি বৃহৎ রাজনৈতিক ও প্রভাবশালী গোষ্ঠীর লড়াই। কিন্তু আমার পাশে ছিল সাধারণ মানুষ। তাদের সমর্থন ও আস্থার কারণেই আমি বিজয়ী হয়েছি।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঘোষিত ফলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও তাদের জোটের প্রার্থীরা ২১৩টি আসনে জয় পেয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট পেয়েছে ৭৭টি আসন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জনগণের দেওয়া প্রত্যাশিত ভোটে দেশে শক্তিশালী গণতন্ত্রের ভিত্তি রচনা শুরু হয়েছে। স্বাধীনতার পর এই সংসদই হবে সবচেয়ে বেশি আইন প্রণয়নকারী এবং জন-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলক। নতুন সরকারের তিনটি মূল অগ্রাধিকার হবে— আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও দুর্নীতি নির্মূল করা।
শেরপুর-৩ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর মৃত্যুজনিত কারণে এবার ২৯৯টি সংসদীয় আসনে নির্বাচন হয়েছে। ইসি সচিব জানান, অর্থ ঋণবিষয়ক মামলা উচ্চ আদালতে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকায় চট্টগ্রামের দুটি আসনের ফলাফল ঘোষণা করা হয়নি। ফলে ২৯৭টি আসনের ফলাফলই আপাতত এ নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল।
তারেক রহমানকে উষ্ণ শুভেচ্ছা জানিয়ে মোহাম্মদ মুইজ্জু তার বার্তায় মালদ্বীপ ও বাংলাদেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে একসঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
যুক্তরাজ্যে ফিরে যাচ্ছেন না জানিয়ে তাসনিম জারা লিখেছেন, অনেকে ভাবছেন নির্বাচন শেষ হলেই হয়তো আমি যুক্তরাজ্যে ফিরে যাব। আমি কোথাও যাচ্ছি না। আমার শেকড় এই মাটিতে, আমার কাজও এখানে।
সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠাতা-সভানেত্রী মমতা তার পোস্টের শুরুটা করেন বাংলাদেশের জনগণকে অভিনন্দন জানিয়ে। তিনি লেখেন, ‘বাংলাদেশের সকল ভাইবোনকে, জনগণকে জানাই আমার শুভনন্দন, আমার আগাম রমজান মোবারক।’
যে সাত নারী এবারের জাতীয় নির্বাচনে জয় পেলেন তারা হলেন— মানিকগঞ্জ-৩ আসনে আফরোজা খান রিতা, ঝালকাঠি-২ আসনে ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো, সিলেট-২ আসনে তাহসিনা রুশদীর লুনা, ফরিদপুর-২ আসনে শামা ওবায়েদ, ফরিদপুর-৩ আসনে নায়াব ইউসুফ কামাল, নাটোর-১ আসনে ফারজানা শারমিন পুতুল ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে রুমিন ফারহানা।
তিনি নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় বলেন, নির্বাচন ছিল নানা চ্যালেঞ্জ ও প্রতিবন্ধকতায় পূর্ণ। তবুও সাধারণ ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ, দলীয় নেতাকর্মীদের নিরলস পরিশ্রম এবং তরুণ স্বেচ্ছাসেবকদের আন্তরিক প্রচেষ্টা তার রাজনৈতিক অঙ্গীকারকে আরও দৃঢ় করেছে। নির্বাচনী প্রচারণার সময় গণসংযোগ, পথসভা, উঠান বৈঠক ও নাগরিক
সাইফুল আলম পেয়েছেন ৫৩ হাজার ৭৭৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক (কোদাল প্রতীক) পেয়েছেন ৩০ হাজার ৯৬৩ ভোট। অপরদিকে, ফুটবল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম নীরব পেয়েছেন ২৯ হাজার ৮৬৯ ভোট।
তিনি তার প্রিয় বন্ধু ড. মুহাম্মদ ইউনুসকে ধন্যবাদ জানান, যিনি এই গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সময় প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং নিশ্চিত করেছেন যে নির্বাচনী প্রক্রিয়াটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
সারাদেশে ২৯৯টি আসনে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ছাড়া বড় কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির খবর পাওয়া যায়নি। প্রাথমিক গণনা শেষে তারা নিশ্চিত হয়েছেন যে, এবারের নির্বাচনে প্রদত্ত ভোটের হার ৫৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ।
সারজিস আলম বলেন, ‘জনগণ যদি একজন প্রার্থীকে এক ভোটেও এগিয়ে রাখে, তাকে সম্মান জানানো নৈতিক দায়িত্ব। সেই জায়গা থেকেই অভিনন্দন জানাতে এসেছি।’
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ও দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ১ লাখ ৪৪ হাজার ৯৫৬ ভোট।
১৭৭টি কেন্দ্রের সবকটির ফলাফলে দেখা যায়, আবদুল্লাহ আল ফারুখকে বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করে বেসরকারিভাবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ পেয়েছেন ২ লাখ ২০ হাজার ৫৬৬ ভোট।
প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত ১১–দলীয় ঐক্যের প্রার্থী মামুনুল হকের চেয়ে ২ হাজার ৩২০ ভোট বেশি পেয়েছেন তিনি।
জামায়াতের আমির মোট ভোট পেয়েছেন ৮৫ হাজার ১৩১টি। তার প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী মো. শফিকুল ইসলাম খান পেয়েছেন ৬৩ হাজার ৫১৭ ভোট। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর চেয়ে জামায়াতের আমির ২১ হাজার ৬১৪ ভোট বেশি পেয়েছেন।