দলের পলিটব্যুরো নেতারা বলেন, একটি অগণতান্ত্রিক সাম্রাজ্যবাদী-মৌলবাদী-মবতান্ত্রিক অস্থির অন্তবর্তী সরকারের অপশাসন থেকে বেরিয়ে আসার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছে জনগণ। শত সীমাবদ্ধতায়ও একতরফা কৌশলের নির্বাচনে জনগণ যে রায় দিয়েছে তা স্বস্তিকর ও সুস্থ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ধারা তৈরির মনোভাবকেই প্রকাশ করেছে।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে ১৯৮২ থেকে ১৯৯০ সাল সময়ের ছাত্রনেতারা সেখানে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানান। ১৯৮৩ সালের এই দিনে এরশাদ সরকারের নতুন শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে রাজপথে নেমেছিল ছাত্র সংগঠনগুলো। সেদিন স্মারকলিপি দিতে সচিবালয়ের দিকে যাওয়ার সময় পুলিশ গুলি চালালে অন্তত ১০ জন নিহত হন।
নেতা-কর্মীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, ‘দুর্বলের ওপর যেন সবলের অত্যাচার না হয়। কোনো বিরোধ যেন প্রতিহিংসায় না গড়ায়। তিনি বলেন, আর কোনো ফ্যাসিবাদী শক্তি যেন মাথাচাড়া দিতে না পারে এ জন্য আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকব।’
সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের জন্য তারেক রহমান অন্তর্বর্তী সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, দেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। এ ছাড়া নেতা-কর্মীদেরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান বিএনপি চেয়ারম্যান।
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন এই নির্বাচন প্রমাণ করেছে যে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন দল যেমন ঐক্যবদ্ধ, তেমনি দেশের ১৮ কোটি মানুষও আজ ঐক্যবদ্ধ। এই নির্বাচনে উদারপন্থী গণতন্ত্রের বিজয় হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার জন্য তারেক রহমান, ডা. শফিকুর রহমান এবং নাহিদ ইসলামের প্রতি অভিনন্দন, ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
নির্বাচনে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটে থাকা এনসিপির ছয় প্রার্থী জয় পেয়েছেন। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) এক বার্তায় প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘এনসিপির এই সাফল্য কেবল নির্বাচনি পরিসংখ্যানের বিষয় নয়; এটি তরুণ প্রজন্মের আত্মপ্রত্যয়, স্বপ্ন ও গণতান্ত্রিক চেতনার শক্তিশালী প্রকাশ।’
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) এক বার্তায় প্রধান উপদেষ্টা জামায়াত আমিরের উদ্দেশে বলেন, ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আপনার নেতৃত্বে দলীয় প্রার্থীদের সক্রিয় ও ব্যাপক অংশগ্রহণ, দৃঢ় প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং পরবর্তীতে নির্বাচনের ফলাফলকে শান্ত ও মর্যাদাপূর্ণভাবে গ্রহণ করার জন্য আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’
জাতীয় পার্টির নেতারা আশা করেন, তারেক রহমানের সুযোগ্য নেতৃত্বে বিএনপির বিজয়ের মধ্য দিয়ে দেশে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত থাকবে ও সুরক্ষিত থাকবে সার্বভৌমত্ব। একইসঙ্গে দেশে গণতন্ত্রের নবযাত্রা সূচিত হবে। যেখানে সব দলমতের মানুষ নির্বিঘ্নে তাদের মতামত প্রদান করতে পারবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ফলাফল আকস্মিক নয়। বরং দীর্ঘদিনের আদর্শিক অস্পষ্টতা, সাংগঠনিক দুর্বলতা ও কৌশলগত ভুলের পরিণতি। এ ফলাফল শুধু একটি নির্বাচনি পরাজয় নয়; এটি জাতীয় পার্টির অস্তিত্ব সংকটের ইঙ্গিত।
জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান ব্রিফিংয়ে বলেন, নির্বাচনে যারা সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে, যেভাবেই পাক না কেন, এ নিয়ে আমাদের যথেষ্ট আপত্তি আছে। দায় মূলত তাদেরই নিতে হবে। আমাদের যদি বাধ্য করা হয় তাহলে রাজপথেও আমরা নামব।
কেউ আবার নিজ দলের প্রতীকে ভরসা না পেয়ে দল বিলুপ্ত করে সরাসরি বিএনপিতে যোগ দিয়ে ভোট করেছেন ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে। কেউ কেউ দল থেকে পদত্যাগ করে ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচন করেছেন। তবে নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত তাদের বেশির ভাগই জয় ঘরে তুলতে পারেননি।
নিজেকে জনগণের সেবক এবং কর্মী উল্লেখ করে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ড. মঈন খান বলেছেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্রের পথে যাত্রার মূল ভিত্তি ছিল মুক্তিযুদ্ধ। মুক্তিযুদ্ধের প্রধান উদ্দেশ্যে ছিল গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন। এই দুটি লক্ষ্য নিয়েই বাংলাদেশ স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্ব মানচিত্রে আ
সানজিদা ইসলাম তুলির অভিযোগ, জামায়াতে ইসলামীর একটা বড় অংশ ভোটের আগে বিভিন্ন কেন্দ্রে টাকার বিনিময়ে কাজ করতে শুরু করেছিলো। এমন কোনো কেন্দ্র নেই যেখানে তার ভলেন্টিয়ারদের মারধর করা হয়নি। জনগণ গিয়ে ভোট দিতে পারে এমন পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়নি।
সেখানে বলা হয়, অনেক জায়গায় আমাদের প্রার্থীরা অল্প ভোটে রহস্যজনকভাবে হেরে গেছেন। ফলাফলে বারবার গরমিল ও সাজানো দেখা যাচ্ছে এবং প্রশাসনও নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করেনি বলে মনে হচ্ছে। এসব কারণে নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক সংস্কৃতির ইতিবাচক পরিবর্তনের জন্যই আমার পথচলা শুরু। এটি কোনো একক নির্বাচনী লড়াই নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনের অংশ। জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সচেতন নাগরিকত্বের চর্চাই ভবিষ্যৎ রাজনীতির ভিত্তি হওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এখন পর্যন্ত বেসরকারিভাবে ২৯৭টি আসনের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এর মধ্যে বিএনপি এককভাবে ২০৯ আসনে এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ৬৮ আসনে বিজয়ী হয়েছে। ১১ দলীয় জোট থেকে আরো কয়েকজন প্রার্থী জয়লাভ করেছেন।