জামায়াত ছাড়তে এনসিপির ভেতরে চাপ, বাইরে প্রত্যাশা

নাজমুল ইসলাম হৃদয়
জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির লোগো।
জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির লোগো।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এককভাবে লড়ার ঘোষণা, জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের কর্মসূচিতে শীর্ষ নেতাদের অনুপস্থিতি এবং আসন সমঝোতা নিয়ে মতপার্থক্য— সাম্প্রতিক এসব ঘটনায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সঙ্গে জামায়াতের রাজনৈতিক দূরত্ব নিয়ে আলোচনা জোরালো হয়েছে। এর মধ্যে জামায়াতের সঙ্গে জোট গঠনের বিরোধিতা করে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিনের পদত্যাগ সেই আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

গত বছরের ডিসেম্বরে একই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে দল ছেড়েছিলেন তাসনিম জারা ও তাজনূভা জাবীন। পদত্যাগ করা নেতারা দল ছাড়ার পেছনে বিভিন্ন কারণের কথা বললেও জামায়াতের সঙ্গে এনসিপির জোটবদ্ধ হওয়ার বিষয়টি প্রায় সবার বক্তব্যেই এসেছে। ফলে দলের ভেতরে জোট নিয়ে অসন্তোষ যেমন সামনে এসেছে, তেমনি রাজনৈতিক অঙ্গনেও এনসিপির জোট ছাড়ার প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছে, গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা কয়েকজন নারী নেতার দল ছাড়ার বিষয়ে এনসিপির শীর্ষ নেতৃত্ব কী বলছে? জামায়াতের সঙ্গে জোটবদ্ধ রাজনীতি করতে গিয়ে এনসিপি তার স্বতন্ত্র রাজনৈতিক পরিচয় হারাচ্ছে কি না, সেই প্রশ্নও সামনে এসেছে। নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে, শেষ পর্যন্ত ১১ দলীয় ঐক্য থেকে বেরিয়ে যাবে কি এনসিপি?

তবে এখন পর্যন্ত জোট ছাড়ার কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেয়নি দলটি। সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে এনসিপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বক্তব্যও আসেনি। শীর্ষ নেতাদের কেউ কেউ অবশ্য বলছেন, রাজনৈতিক দলে নতুন কর্মী যুক্ত হওয়া কিংবা কারও পদত্যাগ করা অস্বাভাবিক নয়।

এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এককভাবে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিলেও নির্বাচন কমিশনে যৌথ প্রস্তাব দেওয়ার ক্ষেত্রে ১১ দলের ঐক্যবদ্ধ থাকার কথা জানিয়েছেন। জামায়াতের নেতারাও জোটে ভাঙনের কোনো ইঙ্গিত দেননি। ফলে স্থানীয় নির্বাচনে আলাদা অবস্থান নিলেও জাতীয় রাজনীতিতে দুই দলের যৌথ অবস্থান আপাতত বহাল থাকতে পারে।

জামায়াত ছাড়ার আহ্বান নুর ও রাশেদের

এনসিপির সঙ্গে জামায়াতের সম্পর্ক নিয়ে দলটির বাইরে থেকেও সমালোচনা ও জোট ছাড়ার আহ্বান আসছে। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বিকেলে গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি ও প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সমাবেশে এনসিপিকে জামায়াতের ‘কোল থেকে নেমে’ প্রগতিশীল রাজনীতি করার আহ্বান জানান।

এনসিপির নেতাদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আজকে আমাদের তরুণ বন্ধুরা যারা একসাথে রাজনীতি করেছে আমাদের সহকর্মী ছিল। তারা একটি দল গঠন করেছে, আমরা তাদের সাফল্য কামনা করি। কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি সেই দলের মধ্যে প্রগতিশীল চিন্তার তরুণরা— সামন্তা থেকে শুরু করে তাসনিম জারা, তাসনূভা জাবীনের মতো নেতারা এই জামায়াতের উগ্রবাদী ধর্মীয় ফ্যাসিবাদের সাথে এনসিপি মিশে যাওয়ায় তারা সরে যাচ্ছে।’

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী ও বিএনপি নেতা রাশেদ খাঁনও এনসিপিকে জামায়াত জোট ছাড়ার আহ্বান জানিয়েছেন। শুক্রবার দুপুরে জুমার নামাজ শেষে ঝিনাইদহ শহরের পাগলাকানাই মোড়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কুশল বিনিময় শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় নাহিদ ইসলামকে তিনি এ আহ্বান জানান।

জামায়াত ও এনসিপির আদর্শের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে উল্লেখ করে রাশেদ বলেন, ‘জামায়াত এবং এনসিপির মধ্যে আসলে টানাপোড়েন। আমরা মনে করি, জামায়াতের যে আদর্শ আর এনসিপির যে আদর্শ, একটা সাথে আরেকটার মিল নাই। তেল এবং জলের মতো। তেল এবং জল যেমনিভাবে একসাথে থাকতে পারে না, এনসিপি এবং জামায়াত কোনভাবেই একসাথে রাজনীতি করতে পারে না।’

তিনি বলেন, ‘এনসিপি যদি জামায়াত থেকে বের হয়ে না আসে, তাহলে সামান্তা শারমিনদের মতো যারা এরকম গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব রয়েছেন এনসিপিতে, তারা এভাবেই বের হতে থাকবেন। সুতরাং, নাহিদ ইসলামকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে তিনি কি আসলে জামায়াতের সাথে থেকে এমপি হবেন? নাকি আসলে তিনি এই দলকে আগামীতে ক্ষমতায় কিংবা তিনি বিরোধী দলের আসনে বসাবেন?’

রাশেদ খাঁন মনে করেন, নাহিদ ইসলামের উচিত হবে ‘অবশ্যই’ জামায়াত জোট বের হয়ে আসা। এনসিপির আহ্বায়কের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘জামায়াতের পকেটে থেকে আপনি নতুন বন্দোবস্তের রাজনীতি করতে পারবেন না। জামায়াত নতুন বন্দোবস্ত কী, এটাই বোঝে না।’

সাম্প্রতিক ঘটনাক্রমে জোট ছাড়ার আলোচনা

এনসিপি ও জামায়াতের মধ্যে দূরত্বের আলোচনা দৃশ্যমান হতে শুরু করে চলতি বছরের অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে। ২৩ অক্টোবর থেকে রাজধানীর শাহবাগে দলীয় গণবিক্ষোভের প্রচার শুরু করেন এনসিপির জ্যেষ্ঠ নেতারা। একই সময়ে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের পূর্বঘোষিত লংমার্চের প্রচারে তাদের সক্রিয়তা দেখা যায়নি।

২৮ অক্টোবর রাজবাড়ীতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে দলের অবস্থান স্পষ্ট করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি জানান, ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনে যৌথ প্রস্তাব দেওয়া হবে। তবে স্থানীয় নির্বাচনে কোনো জোটের হয়ে নয়, এককভাবে অংশ নেবে এনসিপি। একই দিন ১১ দলীয় নেতাদের বৈঠকেও উপস্থিত ছিলেন তিনি। এনসিপির একটি সূত্রের দাবি, জামায়াতের শীর্ষ নেতৃত্ব তাকে লংমার্চে অংশ নেওয়ার অনুরোধও জানিয়েছিল।

এর পরদিন ২৯ অক্টোবর রাতে ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে রাশেদ খাঁন লেখেন, এনসিপির কয়েকজন নেতা তাকে জানিয়েছেন, আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না এলেও দলটি শিগগিরই জামায়াতের জোট থেকে বেরিয়ে আসতে পারে। তিনি সম্ভাব্য এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান। তবে তার বক্তব্য ছিল নাম প্রকাশ না করা কয়েকজন নেতার বরাত দিয়ে। এনসিপির পক্ষ থেকেও তখন বিষয়টি সরাসরি সমর্থন বা প্রত্যাখ্যান করা হয়নি।

৩০ অক্টোবর শাহবাগে এনসিপির গণবিক্ষোভে নাহিদ ইসলাম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও জ্বালানিমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন। দাবি পূরণ না হলে প্রধানমন্ত্রীকে ঘেরাও করার কর্মসূচি দেওয়ার কথাও বলেন তিনি। একই সমাবেশে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে আসিফ মাহমুদের মেয়র প্রার্থিতার ঘোষণা দেওয়া হয়। এতে স্থানীয় নির্বাচনে নিজস্ব রাজনৈতিক শক্তি নিয়ে এগোনোর প্রস্তুতিও স্পষ্ট হয়।

পরদিন ৩১ অক্টোবর শুরু হয় ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা থেকে খুলনা, ঝিনাইদহ ও কুষ্টিয়ামুখী লংমার্চ। তবে উদ্বোধনী সমাবেশে এনসিপির শীর্ষ নেতাদের দেখা যায়নি। দলীয় সূত্রের বরাতে জানা যায়, আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেন এতে অংশ নেননি। প্রতিনিধি হিসেবে যোগ দেন হাসনাত আবদুল্লাহ, আরিফুল ইসলাম আদীব, আবদুল হান্নান মাসউদ ও এস এম সাইফ মুস্তাফিজ।

এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী সংবাদমাধ্যমকে জানান, দল হিসেবে এনসিপি লংমার্চে অংশ নিচ্ছে এবং কয়েকজন প্রতিনিধি সেখানে থাকছেন। অন্যদিকে ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেছিলেন, এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ বাগেরহাট থেকে লংমার্চে যোগ দেবেন। অর্থাৎ লংমার্চে এনসিপির প্রতিনিধিত্ব থাকলেও শীর্ষ নেতাদের অনুপস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা তৈরি হয়।

স্থানীয় নির্বাচনে কেন একক লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত

স্থানীয় নির্বাচনে এককভাবে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিয়েছেন এনসিপির সহযোগী সংগঠন জাতীয় স্বেচ্ছাসেবক শক্তির আহ্বায়ক ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক মো. মাহিন সরকার।

রাজনীতি ডটকমকে তিনি বলেন, ‘জামায়াত বা অন্যান্য ১১ দলীয় জোটের দলগুলোর সাথে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আমরা আসলে আল্টিমেটলি একসাথে যেতে চাচ্ছি না।’

এর কারণ হিসেবে মাহিন সরকার বলেন, এনসিপি নতুন রাজনৈতিক দল। প্রায় দুই বছরের কাছাকাছি বয়সী দলটি অন্য দলের ওপর নির্ভর না করে নিজেদের শক্তিতে নির্বাচনে লড়তে চায়। তার ভাষ্য, ‘৫ বছর পর আমরা সরকার গঠন করতে চাই।’ ইতোমধ্যে চার শতাধিক উপজেলায় এনসিপির কমিটি হয়েছে বলেও জানান তিনি।

মাহিন বলেন, ‘আমরা তো শুরুতেই বলেছিলাম— এটি কোনো আদর্শিক জোট ছিল না, এটি ছিল শুধুই একটি নির্বাচনি জোট।’ তবে ১১ দলীয় ঐক্য থেকে বেরিয়ে যাওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলেও জানান তিনি। বলেন, ‘আমরা পুরোপুরি আলাদা হয়ে যাচ্ছি কি না, সেই বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি। তবে সামনে আমরা এককভাবেই ইলেকশন করব, এই ইচ্ছা আমাদের আছে।’

এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিনও জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতির অভিযোগ নাকচ করেছেন। তিনি বলেন, ‘জামায়াতের সঙ্গে এনসিপির কোনো আদর্শিক জোট নেই। নির্বাচনি ঐক্যের ভিত্তিতে ১১ দলীয় জোট গঠিত হয়েছে। ফলে জোটের কর্মসূচির পাশাপাশি এনসিপি নিজেদের কর্মসূচিও পালন করছে। সাংগঠনিক কার্যক্রম গতিশীল করা এবং তৃণমূল পর্যায়ে দলকে শক্তিশালী করাই এর লক্ষ্য।’

সম্পর্ক খারাপ হওয়ার অভিযোগের জবাবে তিনি বলেন, ‘সম্পর্ক খারাপ যাচ্ছে, এটা কে বলল? না, সম্পর্ক খারাপ এমন কিছু না। আমাদের প্রত্যেকটা দলের কিছু কিছু এজেন্ডা আছে, যেখানে এক ধরনের ঐক্য তৈরি হয়। সেটার কারণেই মূলত একটা জোট হয়।’

দলের নিজস্ব কর্মসূচি প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘কিছু কর্মসূচি আমরা আলাদাভাবেই করছি। আর এটা তো করারই ছিল। যেহেতু এনসিপি জামায়াতের সঙ্গে আদর্শিক কোনো জোটে নেই, সুতরাং তাদের সঙ্গে যে কর্মসূচি, সেটাই আমাদের কর্মসূচির বিষয়— বিষয়টা এমন নয়। কারণ, আমাদের কিছু নিজস্ব পরিকল্পনা আছে।’

এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষারও জোট ছাড়ার গুঞ্জনকে ভিত্তিহীন বলেছেন। তার দাবি, জামায়াতের সঙ্গে এনসিপির সম্পর্কে কোনো ফাটল বা দূরত্ব তৈরি হয়নি। লংমার্চে এনসিপির দুই সংসদ সদস্য ও রাজনৈতিক পর্ষদের একাধিক সদস্য অংশ নিয়েছেন। ঢাকায় তারা না থাকলেও বিভিন্ন স্থানে কর্মসূচিতে যুক্ত ছিলেন।

স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে সারোয়ার তুষার বলেন, ‘না, আমরা জোটে যাচ্ছি না। আমরা এককভাবে নির্বাচন করছি। এটা আমরা ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছি।’

তার ভাষ্য, প্রায় ১০০ উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থীর মধ্যে একজনকে সমর্থন দিয়েছে এনসিপি। অন্যদের বিষয়ে পরে ঘোষণা দেওয়া হবে। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণসহ কয়েকটি সিটি করপোরেশনেও প্রার্থী ঘোষণা করেছে দলটি। স্থানীয় নির্বাচনকে শুধু নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ হিসেবে নয়, সাংগঠনিক কাঠামো শক্তিশালী করা, নতুন মানুষকে দলে যুক্ত করা এবং তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছানোর সুযোগ হিসেবেও দেখছে এনসিপি।

লংমার্চে দলের শীর্ষ নেতাদের অনুপস্থিতির কারণ হিসেবে সারোয়ার তুষার দলীয় কর্মসূচি, কয়েকজন নেতার বিদেশ সফর ও সাংগঠনিক ব্যস্ততার কথা উল্লেখ করেন। শাহবাগের গণবিক্ষোভের সঙ্গে লংমার্চের কোনো বিরোধ ছিল না বলেও জানান তিনি। তার দাবি, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটির মেয়র প্রার্থী ঘোষণা এবং মহানগর কমিটি পুনর্গঠনের প্রেক্ষাপটেই ওই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল।

জামায়াতের বলছে ‘ঐক্য আছে, স্থানীয় নির্বাচন আলাদা’

জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জোটগতভাবে অংশ নেওয়ার বাধ্যবাধকতা নেই বলে জানানো হয়েছে।

১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেছেন, স্থানীয় নির্বাচনে কেন্দ্রীয়ভাবে জোটের প্রার্থী দেওয়ার কোনো সিদ্ধান্ত নেই। তবে কোনো এলাকায় শরিক দলগুলো আলোচনা করে একক প্রার্থী ঠিক করলে কেন্দ্র থেকে বাধা দেওয়া হবে না।

তার ভাষ্য, অতীতে বিএনপির সঙ্গে জোটে থাকার সময়ও জাতীয় নির্বাচনে জোটগতভাবে অংশ নিলেও স্থানীয় নির্বাচনে দলগুলো আলাদাভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে।

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারও ১ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক শেষে জানিয়েছিলেন, ১১ দলীয় ঐক্য জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গঠিত হয়েছে। তবে স্থানীয় নির্বাচনে শরিক দলগুলো নিজস্ব প্রার্থী দেবে।

জামায়াতের আমির শফিকুর রহমানও এনসিপির জোট ছাড়ার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে বলেছিলেন, তারা সেই অর্থে কোনো ‘ফরমাল জোট’ গঠন করেননি; এটি ছিল একটি ‘নির্বাচনি ঐক্য’। তবে জাতীয় ও রাজনৈতিক বিভিন্ন ইস্যুতে তারা একসঙ্গে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।

অন্যদিকে, ঐক্য ভেঙে যাওয়ার গুঞ্জন নাকচ করে হামিদুর রহমান আযাদ আগেও বলেছেন, জোট আছে এবং থাকবে। অর্থাৎ স্থানীয় নির্বাচনে আলাদা প্রার্থী দেওয়ার বিষয়টিকে জামায়াত ১১ দলীয় ঐক্যের অবসান হিসেবে দেখছে না।

জোট নিয়ে এনসিপির ভেতরে অসন্তোষ

জামায়াতের সঙ্গে নির্বাচনি সমঝোতা নিয়ে এনসিপির ভেতরে মতপার্থক্য নতুন নয়। গত বছরের মে মাসেই দলটির একটি অংশ জোটগতভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পক্ষে থাকলেও অন্য অংশ এককভাবে লড়তে চেয়েছিল। তখন এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব বলেছিলেন, ‘আমরা এককভাবে আমাদের প্রস্তুতি এগিয়ে রাখছি।’

পরে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন নির্বাচনি ঐক্যে এনসিপির অংশগ্রহণ চূড়ান্ত হওয়ার পর দল ছাড়েন জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. তাসনিম জারা ও যুগ্ম আহ্বায়ক তাজনূভা জাবীন।

২০২৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর পদত্যাগ করে ঢাকা-৯ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেন তাসনিম জারা। তিনি জানান, বাস্তব পরিস্থিতির কারণে কোনো নির্দিষ্ট দল বা জোটের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে চান না।

একই দিন জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে রাজনৈতিক জোট ও আসন সমঝোতা নিয়ে আপত্তি জানিয়ে আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের কাছে চিঠি দেন দলের কেন্দ্রীয় ৩০ নেতা। চিঠিতে বলা হয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা ও গণতান্ত্রিক নৈতিকতার সঙ্গে জামায়াতের রাজনীতি মৌলিকভাবে সাংঘর্ষিক।

পরদিন ২৮ ডিসেম্বর পদত্যাগ করেন তাজনূভা জাবীন। তিনি অভিযোগ করেন, সুকৌশলে ও অবিশ্বাসের পরিবেশ তৈরি করে একটি বিশেষ দলের সঙ্গে জোট করার পথ তৈরি করা হয়েছে, যা এনসিপির মূল লক্ষ্যের পরিপন্থী। জামায়াতের সঙ্গে আসন সমঝোতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি লিখেছিলেন, ‘এই জিনিস হজম করে মরতেও পারব না আমি।’

তখন নাহিদ ইসলাম বলেছিলেন, নির্বাহী পরিষদের সঙ্গে আলোচনা করে সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতের ভিত্তিতে জোটের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় কমিটি, সারা দেশের নেতাকর্মী ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা এ সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত বলেও দাবি করেন তিনি।

সবশেষ ৫ নভেম্বর পদত্যাগ করেন সামান্তা শারমিন। কেন্দ্রীয় কমিটিতে দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের দুই সপ্তাহের মধ্যে তার এ সিদ্ধান্ত আসে। ২৩ অক্টোবর পুনর্গঠিত কমিটিতে আগে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক থাকা সামান্তাকে যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তবে পদত্যাগের কারণ হিসেবে পদবণ্টনের চেয়ে জামায়াতের সঙ্গে জোট গঠন ও এনসিপির রাজনৈতিক অবস্থানকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

ফেসবুক পোস্টে সামান্তা জানান, প্রায় এক বছর আগে জোট গঠনের প্রশ্নে তিনি ভিন্ন অবস্থান নিয়েছিলেন। তার ভাষায়, ‘জামায়াত ইসলামী নীতিগত বা কৌশলগত কোন ক্ষেত্রেই মিত্র হওয়ার যোগ্য না এবং তাদের সাথে জোট করার জন্য এনসিপিকে কঠিন মূল্য চুকাতে হবে।’

গত ১১ মাসে দলের বিভিন্ন পর্যায়ে লিখিত অভিযোগ ও প্রস্তাব দিয়েছেন বলেও জানান তিনি। আলোচনা ও মতবিনিময়ের মাধ্যমে দলকে নিজের দৃষ্টিতে ভুল পথ থেকে ফেরানোর চেষ্টা করেছেন। পদত্যাগের সিদ্ধান্ত জানিয়ে তিনি লেখেন, ‘আজ প্রায় এক বছরের এই সংগ্রামের ইতি ঘোষণা করলাম কারণ এনসিপির পক্ষে তার দলের প্রারম্ভের মূল্যবোধের প্রতি আর আন্তরিক হওয়া সম্ভব বলে মনে করি।’

সামান্তার মতে, ভবিষ্যতে জামায়াতের সঙ্গে জোট ছাড়লেও পুরোনো রাজনৈতিক ধারা থেকে বেরিয়ে নিজস্ব পরিচয়, চিন্তা ও কর্মসূচি গড়ে তুলতে পারবে কি না, তা নিয়ে তার সংশয় রয়েছে। জামায়াতের সঙ্গে জোটের কারণে তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও অংশ নেননি বলে জানান।

জোটের বিরোধিতাকে কেন্দ্র করে এনসিপির তিন নেত্রীর পদত্যাগ দলটির অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্যকে সামনে এনেছে। তবে তাদের পদত্যাগকে বর্তমান কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের জোট ছাড়ার সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

জোটের সিদ্ধান্ত ‘কৌশলগত’ বলছে এনসিপি

জাতীয় নাগরিক পার্টি গঠনের তিন বছর না যেতেই গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা কয়েকজন নারী নেতার পদত্যাগ এবং কাউন্সিল ছাড়াই দলের কমিটি পুনর্গঠন নিয়ে সমালোচনা তৈরি হয়েছে। এ ছাড়া জোটবদ্ধ রাজনীতিতে অপেক্ষাকৃত নতুন দল এনসিপি জামায়াতের প্রভাববলয়ে আটকে পড়ছে কি না, এমন প্রশ্নও তুলেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কেউ কেউ।

তবে এসব অভিযোগের সঙ্গে একমত নন এনসিপির শীর্ষ নেতারা। তাদের দাবি, রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবে জামায়াতের সঙ্গে জোটবদ্ধ থাকলেও নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান ঠিক রেখেছে দলটি।

এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া মনে করেন, রাজনৈতিক দলে নেতাকর্মীদের যোগদান কিংবা পদত্যাগ স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বিভিন্ন সময়ে নেওয়া দলের সিদ্ধান্ত সব সদস্যের পছন্দ নাও হতে পারে।

সামান্তা শারমিনের পদত্যাগের বিষয়ে আসিফ মাহমুদ বলেন, দলটির যে নেতারা জোটবদ্ধ হওয়ার সিদ্ধান্তে একমত ছিলেন না, তারাই মূলত বিভিন্ন সময়ে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।

‘জোটের সিদ্ধান্তের পর থেকে পার্টির একটা অংশের এটা নিয়ে আপত্তি ছিল। বিভিন্ন সময় তাদের অনেকেই আসলে পদত্যাগ করেছেন। তাদের এই সিদ্ধান্তকে আমরা স্বাগত জানাই,’ বলেন তিনি।

জাতীয় নাগরিক পার্টির কমিটি পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগও নাকচ করেছেন আসিফ মাহমুদ। তার দাবি, দলের কার্যক্রমে গতি আনতেই কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আহ্বায়ক কমিটি যেকোনো সময় পুনর্গঠিত হতে পারে। এর আগেও এভাবে কমিটি হয়েছে। অনেকগুলো পদ অকার্যকর পর্যায়ে ছিল। দায়িত্বে যারা ছিলেন তারা বিভিন্ন কারণে সক্রিয় ছিলেন না।’

এ ছাড়া ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে কাউন্সিলের মাধ্যমে এনসিপির নতুন কমিটি দেওয়া হবে বলেও দাবি করেন তিনি।

দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন বলেন, জামায়াতের সঙ্গে জোট গঠনের সিদ্ধান্তে ভিন্নমত থাকায় এতদিন অনেকটা নিষ্ক্রিয় ভূমিকায় ছিলেন সামান্তা শারমিন।

তার মতে, দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতার কারণেই জামায়াতের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়েছে এনসিপি। তবে এর ফলে এনসিপিতে জামায়াতের প্রভাব বেড়েছে বা দলটির ‘জামায়াতিকরণ’ হচ্ছে— এমন ধারণা সঠিক নয়।

‘সংস্কার এবং বিচার এই দুইটি বিষয়ে আমাদের মাঠে একটি ঐক্য দরকার। সংসদে দেখবেন সংস্কার এবং বিচারের প্রসঙ্গে আমাদের ঐক্য আছে, কিন্তু বিভিন্ন বিলে কিন্তু আমরা আমাদের অবস্থান নিয়েছি,’ বলেন তিনি।

এনসিপি বিভিন্ন দলীয় কর্মসূচি দেওয়ার মাধ্যমে নিজেদের স্বাতন্ত্র বজায় রেখেছে বলেও দাবি মনিরা শারমিনের। তিনি বলেন, ‘জোটটা আমাদের একটা রিয়্যালিটি। দল এগিয়ে নিতে আসলে আমাদের একটু সময় লাগবে। এখন আমাদের নেতৃত্বের পুরো নজর পার্টির দিকে।’

জামায়াতের সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়ার পর থেকে এনসিপির নারী নেতৃত্ব নিয়ে জটিলতা তৈরির অভিযোগও নাকচ করেন মনিরা শারমিন। তার ভাষ্য, নির্বাচনের পরও অনেক নারী সদস্য এনসিপির রাজনীতিতে যুক্ত হয়েছেন। আর যারা দল থেকে বের হচ্ছেন, তাদের অনেকেই আগে থেকেই নিষ্ক্রিয় ছিলেন।

মনিরা বলেন, ‘দলে এমন অনেক নারী নেতৃত্ব আছেন একদম তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত। আমাদের যে কজনকে মানুষ চেনে তাদেরই যদি কেবল এখানে ধরা হয় তাহলে এটা ভুল হবে, তৃণমূলেও তো অনেক নারী নেতৃত্ব আছে।’

কী বলছেন বিশ্লেষকরা

এনসিপির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ও জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্ক দলটির জনপ্রিয়তা এবং জনভিত্তির ওপর নির্ভর করবে বলে মনে করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. আবদুল লতিফ মাসুম।

রাজনীতি ডটকমকে তিনি বলেন, ‘এনসিপি যদি শক্তিশালী জনভিত্তি অর্জন করতে পারে, তাহলে তাদের সামনে বিএনপির মতো আরেকটি মধ্যপন্থি বিকল্প দল হিসেবে দাঁড়ানোর সুযোগ রয়েছে। কিন্তু বিএনপি নিজেদের অবস্থান শক্ত রাখতে পারলে এনসিপির মধ্যে ভাঙন তৈরি হতে পারে এবং দলটি অস্তিত্বের সংকটে পড়তে পারে।’

রাশেদ খাঁনের মতো ব্যক্তিরা এনসিপির সম্ভাব্য বিচ্ছেদের খবরকে স্বাগত জানাবেন বলেও মন্তব্য করেন ড. মাসুম। তিনি বলেন, ‘তবে শেষ কথা বলার সময় এখনো হয়নি। কারণ রাজনীতি অত্যন্ত জটিল ও কঠিন একটি বিষয়।’

অন্যদিকে, ১১ দলীয় ঐক্যকে ‘নির্বাচনি জোট’ হিসেবে বিবেচনা করে জামায়াতের সঙ্গে এনসিপির আলাদা হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাকে স্বাভাবিক রাজনৈতিক প্রক্রিয়া হিসেবে দেখছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সাব্বির আহমেদ।

রাজনীতি ডটকমকে তিনি বলেন, ‘আমি যতদূর বুঝি, এই জোটটি মূলত একটি নির্বাচনকালীন জোট ছিল। এ জোটে এমন কোনো বাইন্ডিংস বা বাধ্যবাধকতা নেই যে একবার অ্যালায়েন্স করলে সেখান থেকে বের হওয়া যাবে না।’

দীর্ঘমেয়াদে প্রতিটি দলকে নিজস্ব শক্তিতে দাঁড়াতে হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এনসিপি যদি স্বকীয় শক্তিতে দাঁড়াতে পারে তবে ভালো। আর না পারলে তারা হারিয়ে যাবে।’

সামনে কোন পথে এনসিপি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গড়ে উঠেছিল ১১ দলীয় ঐক্য। ১৫ জানুয়ারি ২৫৩টি আসনে ঐক্যের প্রার্থী ঘোষণা করা হয়। এর মধ্যে জামায়াত পায় ১৭৯টি এবং এনসিপি ৩০টি আসন। বাকি আসনগুলোতে শরিক অন্য দলগুলোর প্রার্থী ছিলেন।

নির্বাচনে এনসিপি ছয়টি আসনে জয় পায় এবং ১৭টি আসনে দলটির প্রার্থীরা দ্বিতীয় হন। বর্তমানে জামায়াত সংসদে বিরোধী দল এবং দলটির আমির শফিকুর রহমান বিরোধীদলীয় নেতা। এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ।

নির্বাচনি সমঝোতার পর স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দুই দলের সামনে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। এনসিপি ইতোমধ্যে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। দলটির দাবি, চার শতাধিক উপজেলায় কমিটি গঠন করে তৃণমূল পর্যায়ে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা। জামায়াতও স্থানীয় নির্বাচনে নিজস্ব প্রার্থী দেওয়ার কথা জানিয়েছে। তবে কোনো এলাকায় শরিকদের মধ্যে সমঝোতার সুযোগ খোলা রাখার কথা বলেছে দলটি।

আগামী ২১ নভেম্বর সিলেট অভিমুখে ১১ দলীয় ঐক্যের আরেকটি লংমার্চের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে এনসিপির শীর্ষ নেতাদের অংশগ্রহণ, ঢাকার দুই সিটির প্রার্থী নিয়ে জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতার সম্ভাবনা এবং নির্বাচন কমিশনে যৌথ প্রস্তাব দেওয়ার বিষয়গুলো দুই দলের সম্পর্কের পরবর্তী গতিপথ বুঝতে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

এনসিপির ভেতরে জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে অসন্তোষ ও মতপার্থক্য যে রয়েছে, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোতে তা স্পষ্ট হয়েছে। স্থানীয় নির্বাচনে এককভাবে লড়ার সিদ্ধান্ত, লংমার্চে শীর্ষ নেতাদের অনুপস্থিতি এবং জোটের বিরোধিতায় তিন নেত্রীর পদত্যাগ সেই আলোচনাকে আরও জোরালো করেছে। একই সঙ্গে বাইরে থেকেও এনসিপির জোট ছাড়ার প্রত্যাশা দেখা যাচ্ছে।

তবে দলটি এখনো ১১ দলীয় ঐক্য ছাড়ার আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেয়নি। জামায়াতও ঐক্য অটুট থাকার কথা বলছে। আপাতত স্থানীয় নির্বাচনে আলাদা পথে হাঁটছে দুই দল। জাতীয় রাজনীতিতে তাদের যৌথ অবস্থান কত দিন বহাল থাকে, তা নির্ভর করবে আগামী দিনের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, জোটের ভেতরের সমঝোতা এবং এনসিপির নিজস্ব রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তোলার সক্ষমতার ওপর।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad