১১ দলের লংমার্চ

শফিকুর রহমানের ‘সরকার পতন’, গোলাম পরওয়ারের ‘লাল কার্ডে’র হুঁশিয়ারি

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০০: ১৩
সাত দফা দাবি আদায়ে ১১ দলীয় জোটের লংমার্চ কর্মসূচির পথসভায় বক্তব্য দিচ্ছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান এবং সেক্রেটারি জেনারেল গোলাম পরওয়ার। ছবি: জামায়াতের ফেসবুক পেজ
সাত দফা দাবি আদায়ে ১১ দলীয় জোটের লংমার্চ কর্মসূচির পথসভায় বক্তব্য দিচ্ছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান এবং সেক্রেটারি জেনারেল গোলাম পরওয়ার। ছবি: জামায়াতের ফেসবুক পেজ

সংসদে আলোচনার মাধ্যমে সাত দফা দাবি মেনে নেওয়া না হলে সরকার পতনের এক দফা আন্দোলনের দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। একই কর্মসূচিতে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, পরিস্থিতির পরিবর্তন না হলে জনগণ সরকারকে লাল কার্ড দেখাবে।

সাত দফা দাবি আদায়ে ১১ দলীয় জোটের লংমার্চ কর্মসূচিতে শনিবার সন্ধ্যায় যশোরের মুড়লী মোড়ে এক পথসভায় তারা এসব কথা বলেন। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ, জ্বালানি ও সারসংকট নিরসন এবং দুর্নীতি-চাঁদাবাজি বন্ধসহ বিভিন্ন দাবিতে লংমার্চ করছে জোটটি।

পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শফিকুর রহমান বলেন, ‘সংসদে সমস্যার সমাধান না হলে আজকের সাত দফা শেষ পর্যন্ত এক দফায় রূপান্তরিত হবে। সরকারকে আমরা সেইটুকু সময় দিতে চাই। আমরা সংসদে বসেই গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার কার্যক্রম সম্পন্নসহ সাত দফা দাবির সমাধান করতে চাই। কিন্তু তা না হলে আবারও দেশের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে গণবিপ্লবের ডাক দেওয়া হবে। প্রয়োজনে সরকার পতনের এক দফার আন্দোলনের ডাক দিতে আমাদের বাধ্য করবেন না।’

দুপুর থেকেই মুড়লী মোড়ে জোটের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা জড়ো হতে থাকেন। আয়োজকদের হিসাবে, পথসভায় উপস্থিতি প্রায় অর্ধলাখে পৌঁছায়। এর আগে মুন্সিগঞ্জ, ফরিদপুর, বাগেরহাট ও খুলনাতেও একই দাবিতে পথসভা করে ১১ দল।

পথসভায় গোলাম পরওয়ার বলেন, এসব কর্মসূচিতে মানুষের উপস্থিতি বিএনপির জন্য সতর্কবার্তা। তিনি বলেন, ‘আজকের জনতার এই ঢল ও পথে পথে মানুষের স্লোগান বিএনপিকে একটা বার্তা দিচ্ছে। নির্বাচনের আট মাস পর এখনো আপনাদের ভাববার সময় আছে। গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে আপনারা জাতিকে যে ওয়াদা করেছিলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নিজেও গণভোটে হ্যাঁ ভোট দিতে বলেছিলেন এবং ভোট দিয়েছেন। সারা বছর প্রচার করার পর এখন নিজের ভোটকেই অস্বীকার করছেন।’

সরকারের বিভিন্ন কার্ড কর্মসূচির সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘আপনারা কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ডসহ নানান কার্ড ছড়িয়ে দিয়ে নিজেদের শক্তিশালী মনে করছেন। কিন্তু জনগণের কাছে একটা কার্ড আছে, সেটি হলো লাল কার্ড। প্রয়োজনে সেই লাল কার্ড জনগণ আপনাদের দেখাবে।’

গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সংসদে আলোচনার আহ্বান জানিয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘এখনো সময় আছে। আগামী ৯ তারিখের সংসদ অধিবেশনে নিজের ভুল স্বীকার করে একদলীয় সংবিধান সংশোধনীর এই বক্সার স্টাইল থেকে ফিরে আসুন। সংবিধান সংস্কার ও গণভোটের প্রস্তাব কীভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, সে বিষয়ে আলোচনা করুন। রাজনৈতিক সংকট ও সংঘাত তৈরি না করে সংসদেই এর নিষ্পত্তি করুন।’

যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতের আমির গোলাম রসুলের সভাপতিত্বে পথসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ।

যশোরের কর্মসূচি শেষে ঝিনাইদহ শহরের চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন গোলচত্বরে পথসভা করেন ১১ দলীয় জোটের নেতারা। সেখানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শফিকুর রহমান বলেন, ‘সরকার গণভোটের গণরায় মেনে নিলে আর কোনো লংমার্চ হবে না। কিন্তু না মানলে সাত দফা এক দফায় পরিবর্তিত হয়ে ঢাকামুখী লংমার্চ শুরু হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘গণভোট অবৈধ হলে বিএনপির সরকারও অবৈধ, আমরা বিরোধী দলও অবৈধ। তারা গণভোটের গণরায়কে মেনে না নিয়ে দেশের মানুষের সাথে মুনাফেকি করেছে। এই মুনাফেকির ফলে তাদের চরম মূল্য দিতে হবে।’

ঝিনাইদহের পথসভায় বক্তব্য দেন লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মুস্তাফিজুর রহমান ইরান, জামায়াতের কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী সেক্রেটারি হামিদুর রহমান আজাদ, এনসিপি নেতা হান্নান মাসুদ, ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম ও জিএস ফরহাদসহ ১১ দলীয় জোটের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

রাত ১০টা ১৫ মিনিটের দিকে লংমার্চ নিয়ে কুষ্টিয়ার উদ্দেশে রওনা হন জোটের নেতাকর্মীরা।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad