নাহিদ ইসলামের ডাকে এখন ১০০ লোকও জড়ো হবে না: রাশেদ

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
রাশেদ খাঁন ও নাহিদ ইসলামকে নিয়ে তার ফেসবুক পোস্ট। গ্রাফিক্স: রাজনীতি ডটকম
রাশেদ খাঁন ও নাহিদ ইসলামকে নিয়ে তার ফেসবুক পোস্ট। গ্রাফিক্স: রাজনীতি ডটকম

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন বলে মনে করছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খাঁন। তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেছেন, নাহিদ ইসলাম ডাক দিলে এখন ১০০ মানুষও কোথাও জড়ো হবে না।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইলে এক পোস্টে তিনি এমন মন্তব্য করেন। একই পোস্টে এনসিপি একটি নামসর্বস্ব দলে পরিণত হয়েছে বলেও এর জন্য নাহিদ ইসলামকেই দায়ী করেন তিনি।

রাশেদ খাঁনের ফেসবুক পোস্ট এসেছে তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের আন্দোলনের সূত্র ধরে। গত কয়েক দিন ধরেই শ্রমিকরা ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা মাসিক মজুরির দাবিতে রাজধানী ঢাকাসহ আশপাশের সাভার-গাজীপুর এলাকায় বিক্ষোভ করছিলেন। শ্রমিকদের দাবির মুখে গত রোববার সরকার নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করে দিলেও শ্রমিকদের বিক্ষোভ থামেনি। বরং বিভিন্ন এলাকায় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষও হয়েছে।

সরকারের পক্ষ থেকে বারবারই বলা হচ্ছে, শ্রমিকদের এই আন্দোলনের পেছনে ‘ষড়যন্ত্র’ রয়েছে। বিশেষ করে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে উসকানি এবং এমনকি শেখ হাসিনাকে ইঙ্গিত করে ভারত থেকে টাকা পাঠিয়ে আন্দোলনকে উসকে দেওয়ার কথাও বলেছেন মন্ত্রীরা।

টানা কয়েকদিনের আন্দোলনের পর বৃহস্পতিবার পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হয়েছে। এ দিন সকালে সাভার এলাকায় কিছু শ্রমিক বিক্ষোভের চেষ্টা করলেও ঢাকা ও গাজীপুরে শ্রমিকরা বিক্ষোভ করেননি। সরকারও বলছে, শ্রমিকরা কাজে ফিরে গেছেন।

এ প্রসঙ্গ টেনেই রাশেদ খাঁন ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘নাহিদ ইসলাম আন্দোলন চালিয়ে যেতে বললেন, কিন্তু গার্মেন্টস কর্মীরা কাজে ফিরে গেলেন! নাহিদ ইসলাম ডাক দিলে এখন ১০০ লোকও আর জড়ো হবে না। আশা করি তিনি এর প্রমাণ পেয়ে গেছেন।’

এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ছিলেন জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম নেতা। ওই সময় অপহরণের শিকার হয়েছিলেন তিনি। অভ্যুত্থানের সময় যে ছয় সমন্বয়ককে গোয়েন্দা পুলিশ তুলে নিয়ে গিয়েছিল, তাদেরও একজন ছিলেন তিনি। পরে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এনসিপির গঠনকালীন সময়ে উপদেষ্টা পদ থেকে পদত্যাগ করে দলের আহ্বায়কের দায়িত্ব নেন।

নাহিদ ইসলাম ও এনসিপির জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার দাবি করে রাশেদ খাঁন লিখেছেন, ‘গণঅভ্যুত্থানের মহানায়কের কেন এই মহাঅধঃপতন? কেন এনসিপি একটি নামসর্বস্ব দলে পরিণত হলো? এর দায় কি নাহিদ ইসলাম এড়াতে পারেন?’

প্রধানমন্ত্রীর এই রাজনৈতিক সহকারী আরও লিখেছেন, ‘নাহিদ ইসলামরা মনে করেছিলেন, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে তারাই সব করেছিলেন! তারাই যে সব করেননি, সেটা তিনি যত বেশি অহংকারী হবেন, তত বেশি টের পাবেন।’

এদিকে বৃহস্পতিবারই ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে এনসিপি থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন দলের যুগ্ম আহ্বায়ক (গঠনকালীন সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক) সামান্তা শারমিন। জামায়াতের সঙ্গে এনসিপির জোটবদ্ধ হওয়া, জুলাই অভ্যুত্থানে নারীদের অবদানকে মূল্যায়ন না করা, এনসিপির কাউন্সিল করতে ব্যর্থ হওয়ার মতো কারণ দেখিয়েছেন তিনি দল থেকে সরে দাঁড়ানোর জন্য।

সামান্তার পদত্যাগের প্রসঙ্গও ফেসবুক পোস্টে টেনেছেন রাশেদ। লিখেছেন, ‘নাহিদ ইসলামের সঙ্গে কারা থাকছে, আর কারা তাকে বর্জন করছে, তিনি কি উপলব্ধি করতে সক্ষম হচ্ছেন? যেখানে সামান্তা শারমিনের মতো নেত্রীদের ধরে রাখার যোগ্যতা তিনি হারিয়েছেন, সেখানে জনগণ কেন তার ডাকে মাঠে নামবে?’

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad