জামায়াতের অনুমোদনে এনসিপির কমিটি, শীর্ষ পদে চুরি-কেলেঙ্কারিতে জড়িতরা: রাশেদ

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
মুহাম্মদ রাশেদ খাঁন। ছবি: রাশেদ খাঁনের ফেসবুক থেকে
মুহাম্মদ রাশেদ খাঁন। ছবি: রাশেদ খাঁনের ফেসবুক থেকে

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নতুন কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি ‘জামায়াতের অনুমোদনে’ গঠন করা হয়েছে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। তিনি অভিযোগ করেছেন, ‘ছাগলচোর’, ‘ল্যাপটপচোর’, নারী ও অর্থ কেলেঙ্কারিতে জড়িতসহ বিতর্কিত ব্যক্তিদের এনসিপির শীর্ষ পদে বসানো হয়েছে।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকেলে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে এমন মন্তব্য করেন রাশেদ খাঁন। তার দাবি, এনসিপির নতুন কমিটিতে জামায়াতবিরোধী ও স্বতন্ত্র রাজনীতিতে আগ্রহী নেতাদের পদাবনতি ঘটেছে।

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রনেতাদের গড়া দল এনসিপি কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদে পরিবর্তন এনেছে। জাতীয় সম্মেলন ছাড়াই শুক্রবার দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটে দলের ফেসবুক পেজে পুনর্গঠিত কমিটির তালিকা প্রকাশ করা হয়।

এনসিপির নতুন কমিটি নিয়ে দেওয়া স্ট্যাটাসে রাশেদ খাঁন লেখেন, “অনেক আশা জাগিয়ে নতুন বন্দোবস্তের স্বপ্ন দেখানো এনসিপির কোনো ধরনের কাউন্সিল ছাড়াই নতুন কমিটি হয়েছে। যারা সারাদিন গণতন্ত্রের বুলি আউড়ায় ও বিএনপির রাজনীতি নিয়ে প্রশ্ন তোলে, তারা একটি কাউন্সিল পর্যন্ত করে কমিটি দিতে পারলো না, এর থেকে বড় লজ্জা আর কি হতে পারে?”

কাউন্সিল ছাড়া নতুন কমিটি গঠনের মাধ্যমে এনসিপির সাংগঠনিক দুর্বলতার ও নেতৃত্ব কুক্ষিগত করার চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে বলে মন্তব্য করেন রাশেদ।

এ ছাড়া এনসিপির এই নতুন কমিটি জামায়াতের অনুমোদনে হয়েছে দাবি করে রাশেদ খাঁন লেখেন, “জামায়াত যাদেরকে গুরুত্বপূর্ণ পদে চায়নি, কমিটিতে তাদেরকে অগুরুত্বপূর্ণ জায়গায় রাখা হয়েছে। বিশেষ করে এনসিপির মধ্যে যারা স্বতন্ত্র রাজনীতির স্বপ্ন দেখে কিংবা জামায়াত বিরোধী, কমিটিতে তাদের পদাবনতি হয়েছে। আর ছাগলচোর, ল্যাপটপচোর, নারী ও আর্থিক কেলেঙ্কারির সাথে জড়িত এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বিতর্কিত ব্যক্তিদের শীর্ষে পদে আসীন করা হয়েছে।”

তিনি আরও লেখেন, “সবমিলিয়ে এনসিপির নতুন কমিটি জামায়াতের যুব শাখা রূপে আবির্ভূত হয়েছে বলে বঞ্চিতদের একধরনের অভিযোগ রয়েছে। এনসিপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ২ বারের বেশি কেউ সভাপতি সাধারণ সম্পাদক হতে পারবে না! দেখা যাক, নাহিদ ইসলাম ও আখতার হোসেনের এই মেয়াদই শেষ মেয়াদই হয় কি না! নাকি নতুন বন্দোবস্তের নামে নতুন ভণ্ডবস্তের পথেই এগুবে এনসিপি!”

এনসিপিকে বর্তমানে ‘প্রক্সি জামায়াত পার্টি’ বলেও আর ভুল হবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি। লেখেন, “আজকে যদি এনসিপি গণঅভ্যুত্থানের স্বপ্ন ধারণ করে নতুন ধারার রাজনীতি উপহার দিতে পারত, তাহলে আওয়ামী শূন্যতা পূরণের জন্য এনসিপিকে সবাই সাধুবাদ জানাত। দুঃখের বিষয়, নতুন কমিটির ফরমেট দেখে মনে হলো, কিছু আসন ও আসন প্রতি নির্বাচনি খরচের বিনিময়ে এনসিপি পুরোপুরি জামায়াতের কাছে বিক্রি হয়ে গেল! বাংলাদেশে এনসিপির আর কোনো স্বতন্ত্র রাজনীতি করার ন্যূনতন সুযোগ রইল না।”

কাউন্সিল ছাড়াই এনসিপির কমিটি পুনর্গঠন

জাতীয় সম্মেলন ছাড়াই শুক্রবার কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদে পরিবর্তন এনেছে এনসিপি। কমিটি থেকে মুখ্য সমন্বয়ক ও মুখ্য সংগঠকের পদ বিলুপ্ত করেছে। এসব পদে থাকা নেতাদের নতুন কমিটিতে অন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে আহ্বায়ক ও সদস্যসচিব পদে কোনো পরিবর্তন আসেনি।

এ দিন দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটে দলের ফেসবুক পেজে পুনর্গঠিত কমিটির তালিকা প্রকাশ করা হয়। পোস্টে কমিটির সদস্যদের নাম ছাড়া অন্য কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।

নতুন কমিটিতেও আহ্বায়ক পদে নাহিদ ইসলাম এবং সদস্যসচিব পদে আখতার হোসেন রয়েছেন। আগের কমিটির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহকে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছে।

অন্যদিকে, আগের কমিটির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম ও দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

আগের কমিটিতে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক পদে থাকা সামান্তা শারমিন ও আরিফুল ইসলাম আদীবকে যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছে। এ পদে আগে ১২ জন থাকলেও নতুন কমিটিতে তা বেড়ে ২৪ জন হয়েছে।

সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব পদে থাকা নাহিদা সারোয়ার নিভাকে করা হয়েছে যুগ্ম সদস্যসচিব। আগে এ পদে ২৪ জন থাকলেও নতুন কমিটিতে রয়েছেন ছয়জন।

এ ছাড়া যুগ্ম মুখ্য সংগঠক, সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ও যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়কের পদগুলোও বিলুপ্ত করা হয়েছে। এসব পদে থাকা আব্দুল হান্নান মাসউদ, দিলশানা পারুলসহ অনেককে নতুন কমিটিতে যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছে।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad