মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) ভোররাতে ইস্পাহানের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র গুদামে এ হামলা চালানো হয়। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল দেশটির এক ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে।
ইরানের মাশহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় একটি বেসামরিক বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। ইরানি বিমান পরিষেবা সংস্থা ‘মাহান এয়ারে’র বিমানটি ভারতের নয়াদিল্লি থেকে মানবিক সহায়তা (ত্রাণ) সংগ্রহে যাওয়ার আগে হামলার শিকার হয় বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই বন্দরের বহির্নোঙরে কুয়েতের একটি তেলবোঝাই জাহাজে গতকাল সোমবার (৩০ মার্চ) ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। হামলায় জাহাজটিতে আগুন লেগে এর মূল কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সাগরে তেল ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
শনিবার দ্য ওয়াশিংটন পোস্টকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুজন মার্কিন কর্মকর্তা জানান, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর ইরানের খার্গ দ্বীপে অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ দ্বীপ থেকেই ইরানের প্রায় ৯০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল রপ্তানি প্রক্রিয়াজাত হয়। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালির নিকটবর্তী উপকূলীয় এলাকাগুলোকেও সম্ভাব্
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন এমন কথা। তিনি বলেন, ইরানের তেল নেওয়াই তার প্রধান লক্ষ্য। তবে এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও কিছু মানুষ প্রশ্ন তুলছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি ‘ই-৩ সেন্ট্রি’ রাডার বিমান ধ্বংস হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নজরদারি ও আকাশযুদ্ধ সমন্বয় সক্ষমতায় বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ইরান যুদ্ধ ‘সম্ভবত অন্তত জুন মাস পর্যন্ত’ স্থায়ী হবে বলে সতর্ক করেছেন কমনওয়েলথ ব্যাংক অব অস্ট্রেলিয়ার প্রধান ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষক ম্যাডিসন কার্টরাইট। দ্য গার্ডিয়ানের খবরে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ধারাবাহিক সামরিক চাপ, চলমান যুদ্ধ এবং ইরানের ভেতরে বদলে যাওয়া জনমত নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে— তাহলে কি শেষ পর্যন্ত পরমাণু অস্ত্রের পথেই হাঁটছে কোণঠাসা ইরান? দেশটি এরই মধ্যে পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি) থেকে বেরিয়ে যাওয়ার বিষয়েও তৎপরতা শুরু করেছে।
কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র কর্নেল সৌদ আবদুল আজিজ আল-আতওয়ান বিবৃতিতে বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় কুয়েতের আকাশসীমায় ১৪টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ১২টি ড্রোন শনাক্ত করা হয়েছে।
যুদ্ধ শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য পরিবর্তন হচ্ছে। শুরুতে ইরানের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন ও মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার কথা বলা হলেও এখন লক্ষ্য হয়ে উঠেছে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা এবং ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করা। ইরান যাতে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে, সেটিও অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
আন্তর্জাতিক পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি) থেকে বেরিয়ে যাওয়ার বিষয়ে তেহরানের রাজনীতিবিদদের মধ্যে তৎপরতা শুরু হয়েছে। কর্মকর্তারা বলছেন, দেশের বেসামরিক পারমাণবিক স্থাপনা, ইস্পাত কারখানা এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে হামলার কারণে এনপিটি চুক্তিতে থাকা ‘অর্থহীন’ হয়ে পড়েছে।
বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি ‘বন্ধ’ ঘোষণা করেছে ইরান। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) সতর্ক করে জানিয়েছে, এ প্রণালি দিয়ে যাতায়াতের চেষ্টা করলে জাহাজগুলোকে ‘কঠোর ব্যবস্থা’র মুখে পড়তে হবে।
ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানের অংশ হিসেবে চালকবিহীন ‘ড্রোন স্পিডবোট’ বা নৌ ড্রোন মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগন এ তথ্য নিশ্চিত করেছে বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধে আন্তর্জাতিক চুক্তি (এনপিটি) থেকে বেরিয়ে যাওয়ার কথা ভাবছে ইরান। তেহরানের অভিযোগ, এই চুক্তির সদস্যপদ ইরানের জন্য কোনো সুবিধা বয়ে আনেনি; বরং এটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ‘গোয়েন্দাগিরির হাতিয়ারে’ পরিণত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও তীব্র হলে ইরানের পক্ষে মাঠে নামতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছে ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতি। তারা জানিয়েছে, যুদ্ধ করার মতো পূর্ণ সামরিক প্রস্তুতি তাদের রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায়। আলিরেজা তাংসিরি হরমুজ প্রণালি বন্ধের জন্য দায়ী ছিলেন বলেও উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ‘অস্বীকার করলেও ইরান বাস্তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করছে এবং দেশটির নেতারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান শান্তি-আলোচনা স্বীকার করতে ভয় পাচ্ছেন।’