
ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম

এক মাস পেরিয়ে দ্বিতীয় মাসে প্রবেশ করেছে ইরান যুদ্ধ। এর মধ্যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিভিন্ন পদক্ষেপ ও বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য স্থল হামলা নিয়ে জল্পনা বাড়ছে। মার্কিন গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, পেন্টাগন ইরানে সীমিত পরিসরের স্থল অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং এরই মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন শুরু হয়েছে।
শনিবার দ্য ওয়াশিংটন পোস্টকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুজন মার্কিন কর্মকর্তা জানান, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর ইরানের খার্গ দ্বীপে অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ দ্বীপ থেকেই ইরানের প্রায় ৯০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল রপ্তানি প্রক্রিয়াজাত হয়। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালির নিকটবর্তী উপকূলীয় এলাকাগুলোকেও সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
হরমুজ প্রণালি বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের একটি গুরুত্বপূর্ণ রুট। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এই রুটেই পরিবাহিত হয়। যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই এই নৌ রুট কার্যত বন্ধ করে দেয় ইরান। সেখানে কিছু জাহাজে হামলাও হয়েছে। এরপর থেকে চীন, বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তানের মতো অল্প কিছু দেশের জাহাজকেই এই রুটে চলাচল করতে দেওয়া হচ্ছে।
হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকার বড় ধাক্কা লাগে বৈশ্বিক জ্বালানি খাতে। যুদ্ধ শুরুর আগে যেখানে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৬৫ ডলার, তা বেড়ে সোমবার প্রায় ১১৬ ডলারে পৌঁছেছে।
ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, মার্কিন সামরিক পরিকল্পনায় পূর্ণাঙ্গ আগ্রাসনের বদলে বিশেষ বাহিনী ও প্রচলিত পদাতিক সেনাদের মাধ্যমে সীমিত অভিযান অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
এর মধ্যে রোববার ব্রিটিশ গণমাধ্যম ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরানের তেলের দখলই তার হামলার প্রধান লক্ষ্য। খার্গ দ্বীপ দখল করার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি তিনি।
এর মধ্যে রোববার ব্রিটিশ গণমাধ্যম ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরানের তেলের দখলই তার হামলার প্রধান লক্ষ্য। খার্গ দ্বীপ দখল করার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি তিনি।
অন্যদিকে ইরান সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি স্থল হামলা চালায়, তাহলে তা প্রতিরোধ করা হবে। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএকে তিনি বলেন, আমাদের লোকেরা মাটিতে মার্কিন সেনাদের আগমনের অপেক্ষায় আছে, যেন তাদের ধ্বংস করে আঞ্চলিক মিত্রদেরও শাস্তি দেওয়া যায়।
মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য। ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময় থেকেই এ অঞ্চলে ৪০ থেকে ৫০ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন ছিল, যারা বড় স্থায়ী ঘাঁটি ও ছোট ফরওয়ার্ড ঘাঁটিগুলোতে অবস্থান করছিল।
এ বছরের বছরের শুরু থেকেই ট্রাম্প প্রশাসন অঞ্চলটিতে সামরিক উপস্থিতি আরও জোরদার করতে শুরু করে। আরব সাগরে পাঠানো হয় আব্রাহাম লিংকন বিমানবাহী রণতরিসহ একাধিক যুদ্ধজাহাজ।
ওপেন সোর্স গোয়েন্দা বিশ্লেষণের তথ্য ও সামরিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং ডেটা বলছে, ফেব্রুয়ারির শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্র ১২০টির বেশি সামরিক বিমান মোতায়েন করেছে, যা ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধের পর মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বিমান শক্তির সবচেয়ে বড় সমাবেশ।

এর মধ্যে রয়েছে— ই-৩ সেন্ট্রি নজরদারি বিমান (এয়ারবর্ন ওয়ার্নিং অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেম), এফ-৩৫ স্টেলথ স্ট্রাইক ফাইটার, এফ-২২ এয়ার সুপিরিয়রিটি জেট এবং এফ-১৫ ও এফ-১৬ যুদ্ধবিমান।
এসব বিমান যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের ঘাঁটি থেকে উড্ডয়ন করেছে এবং কার্গো বিমান ও আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী ট্যাংকারের সহায়তায় পরিচালনা করা হয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এসব সামরিক সমাবেশ নিয়মিত রোটেশন নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি সামরিক প্রস্তুতির ইঙ্গিত দেয়।
এর মধ্যে মঙ্গলবার উপসাগরীয় অঞ্চলে আরও সেনা পাঠানোর নির্দেশ দেয় পেন্টাগন। এই অতিরিক্ত বাহিনীর মধ্যে রয়েছে তিনটি পৃথক ইউনিট—
সব মিলিয়ে ইরান যুদ্ধ শুরুর পর প্রায় সাত হাজার অতিরিক্ত মার্কিন সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।
ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সামরিক মোতায়েন বাড়ানো হলেও এ বাহিনী পূর্ণাঙ্গ আগ্রাসনের জন্য যথেষ্ট নয় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। যুক্তরাষ্ট্র এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ইরানে স্থল হামলার ঘোষণা দেয়নি। তবে মার্কিন গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, পেন্টাগন অতিরিক্ত ১০ হাজার স্থল সেনা পাঠানোর বিষয়টি বিবেচনা করছে বলে জানিয়েছে।
মার্কিন গণমাধ্যমের খবর সত্যি হলে ইরান যুদ্ধ ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা মার্কিন সেনার সংখ্যা দাঁড়াবে ১৭ হাজারে। এই সংখ্যা শূন্য দশকে ইরাকে হামলার সময়কার তুলনায় নগণ্য। ২০০৩ সালের ২০ মার্চ শুরু হওয়া ওই হামলার প্রথম ধাপেই দেড় লাখ সেনা মোতায়েন করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। এর সঙ্গে মিত্রদেশগুলো থেকে যুক্ত ছিল আরও ২৩ হাজার সেনা।
২০১১ সালে ইরাক থেকে চূড়ান্তভাবে সেনা প্রত্যাহারের ছয় মাস আগেও প্রায় ৪৫ হাজার সেনা সেখানে মোতায়েন রেখেছিল যুক্তরাষ্ট্র, যাদের দায়িত্ব ছিল ইরাকি বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও দিকনির্দেশনা দেওয়া। এমনকি ২০২৫ সালেও দেশটিতে প্রায় আড়াই হাজার মার্কিন সেনা অবস্থান করছিলেন। ফলে এ অবস্থায় ইরানে পূর্ণ মাত্রায় স্থল অভিযান চালানোর প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্রের নেই বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ব্রিটিশ নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও সাবেক সামরিক প্রশিক্ষক জন ফিলিপস আল জাজিরাকে বলেন, বর্তমান মার্কিন প্রস্তুতি ‘সীমিত’ হলেও ‘উচ্চমাত্রার অভিযানে’র ইঙ্গিত দেয়। এ অভিযানে খার্গ দ্বীপ বা হরমুজ প্রণালির ছোট দ্বীপগুলো দখল করে নৌ রুট স্থিতিশীল করার মাধ্যমে জাহাজ চলাচল শুরু এবং এরপর দ্রুত সেখান থেকে সরে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকতে পারে।
ফিলিপস বলেন, এ ধরনের অভিযান শুরু হতে পারে বিমানবাহী রণতরি থেকে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা, ক্ষেপণাস্ত্র ও মাইন লক্ষ্য করে হামলার মাধ্যমে। এরপর হেলিকপ্টার ও ল্যান্ডিং ক্রাফট ব্যবহার করে মার্কিন মেরিনরা অভিযান চালাতে পারে, যেখানে বিমানবাহিনীর সহায়তায় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা দখল বা ধ্বংস করা হবে।
প্রাথমিক অভিযানে খার্গের মতো দ্বীপ দখলের পরিকল্পনা থাকতে পারে, যেখানে সামরিক স্থাপনা ও জ্বালানি অবকাঠামো ধ্বংস করে দেওয়ার নির্দেশ থাকতে পারে। তবে মেরিনরা অবতরণ করার সময় ল্যান্ডমাইনের মতো প্রতিরোধের মুখে পড়তে পারেন সেখানে। ফিলিপস বলেন, ‘এতে প্রচুর হতাহত হতে পারে এবং ইরানের অর্থনীতিতেও বড় আঘাত আসতে পারে।’
এ ছাড়া ৮২তম এয়ারবর্ন ইউনিট প্যারাশুট বা হেলিকপ্টারের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালির উপকূল জুড়ে দ্রুত হামলা চালিয়ে ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি, দ্রুতগতির নৌ যান বা কমান্ড সেন্টারকে লক্ষ্য করতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের জার্মান মার্শাল ফান্ডের বিশ্লেষক ইয়ান লেসার বলেন, বর্তমানে মোতায়েন করা মার্কিন বাহিনী মূলত ‘হুমকি’ হিসেবে কাজ করছে, যা প্রতিরোধ ও কূটনৈতিক চাপ তৈরিতে বেশি কার্যকর। তার মতে, মার্কিন বাহিনীর বর্তমান উপস্থিতিতে ইরানে ইরাকের মতো পূর্ণাঙ্গ আগ্রাসনের প্রশ্নই ওঠে না। কারণ সে ধরনের অভিযানের জন্য অনেক বড় ও ভিন্ন ধরনের বাহিনী প্রয়োজন, যা এখন দেখা যাচ্ছে না।
লেসার বলেন, ‘বৃহৎ পরিসরের প্রচলিত সামরিক অভিযান, এমনকি দখলের জন্যও এ ধরনের বাহিনীকে ভিন্নভাবে সাজাতে হয়। রাজনৈতিক ও বাস্তব প্রেক্ষাপটে এর কোনো সম্ভাবনাই নেই।’
বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানে সম্ভাব্য মার্কিন স্থল অভিযানের ধরন নিয়েও আলোচনা চলছে। এর মধ্যে রয়েছে উপসাগরীয় অঞ্চল বা হরমুজ প্রণালি এলাকায় কৌশলগত দ্বীপ দখল বা ইরানের ইউরেনিয়াম মজুত সরিয়ে নেওয়ার মতো পদক্ষেপ।
ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষক ক্রিস্টোফার ফেদারস্টোন মনে করছেন, পূর্ণাঙ্গ আগ্রাসনের বদলে মার্কিনিরা সীমিত ও লক্ষ্যভিত্তিক অভিযান পরিচালনা করতে পারে। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় তারা খার্গ বা এ ধরনের কৌশলগত দ্বীপ দখলের দিকে যেতে পারে। ওই এলাকায় যে সামরিক বাহিনী পাঠানো হয়েছে (মেরিন ও সেনাবাহিনীর ৮২তম এয়ারবর্ন ইউনিট), তারা অত্যন্ত কার্যকর। তবে তা খুব সহজে বড় এলাকা দখলে নেওয়ার মতো যথেষ্ট নয়।’
‘এ অভিযানকে অত্যন্ত দ্রুত ও তীব্র হিসেবেই দেখতে পাচ্ছি। ট্রাম্প নিজেও ক্ষণস্থায়ী ও মনোযোগ আকর্ষণের মতো পদক্ষেপ পছন্দ করেন। তাই সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যভিত্তিক অভিযানের সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি। তারপরও যদি মার্কিনিরা আগ্রাসন চালায়, সেটি আমাকে বিস্মিত করবে,’— বলেন ফেদারস্টোন।

যুক্তরাষ্ট্র যদি খার্গ দ্বীপ দখল করে নেয়, তাহলে সেটি ধরে রাখার দায়িত্ব মার্কিন সেনাবাহিনীর ১০ম মাউন্টেন ডিভিশনকে দেওয়া হতে পারে বলে মনে করেন জন ফিলিপস। মার্কিন সেনাবাহিনীর এই ইউনিটটি তাদের সবচেয়ে দক্ষ পদাতিক ইউনিটগুলোর একটি।
ফিলিপস বলেন, ‘দখল ধরে রাখার ক্ষেত্রে এ ইউনিটটির কার্যকারিতা পরীক্ষিত। সোমালিয়ায় তাদের ব্যবহার করা হয়েছে। ২০০৪-০৫ সালে আফগানিস্তানেও তারা প্রথম বড় ইউনিটগুলোর একটি ছিল। তবে ইরানের আরও ভেতরে ব্যাপকভিত্তিক অভিযান চালাতে হলে সাঁজোয়া বাহিনীর সমর্থন প্রয়োজন হবে, যা এখনো কোথাও দেখা যাচ্ছে না। তাছাড়া এতে ঝুঁকি ও ব্যয় দুটোই অনেক বেশি।’
মার্কিন বাহিনীর গতিবিধি বিবেচনায় বিশ্লেষকরা তাদের সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্য কী হতে পারে, তা নিয়ে কিছু অনুমানের কথা জানিয়েছেন। এর মধ্যে খার্গ দ্বীপ ছাড়াও রয়েছে ইরানের ইউরেনিয়ামের মজুতও।
ইরান যুদ্ধে অন্যতম আলোচিত লক্ষ্যগুলোর একটি খার্গ দ্বীপ। ট্রাম্প নিজেও বলেছেন, ‘হয়তো আমরা খার্গ দ্বীপ নেব, হয়তো নেব না— আমাদের অনেক বিকল্প আছে।’ তিনি আরও বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপ নিলে সেখানে কিছু সময় অবস্থান করতে হতে পারে।
গত ১৪ মার্চ ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্র খার্গ দ্বীপে সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখা অব্যাহত রাখলে তেল স্থাপনাগুলোও লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।
ইরানের স্পিকার গালিবাফ অবশ্য হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন, এ ধরনের কোনো অভিযানে সহযোগিতা করলে সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা চালানো হবে।

হরমুজ প্রণালি এলাকার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থান কেশম দ্বীপ। বিশ্লেষকরা মনে করেন, ওই এলাকায় যে মার্কিন বাহিনী মোতায়েন রয়েছে, কৌশলগত দিক থেকে তাদের জন্য সবচেয়ে কার্যকর হতে পারে এ দ্বীপের দখল।
লেবাননের অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হাসান জৌনি এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, কেশম দ্বীপ ইরানের ভূগর্ভস্থ ‘মিসাইল সিটি’ হিসেবে পরিচিত। ফলে এই দ্বীপটিই ইরানের হামলার সক্ষমতার আধার। এখানকার বিস্তৃত নেটওয়ার্কের উদ্দেশ্য একটিই— হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও একে বন্ধ করে রাখার সক্ষমতা।
এ দ্বীপটি এরই মধ্যে মার্কিন বাহিনীর হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। গত ৭ মার্চ ওই দ্বীপে বিমান হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। ওই হামলায় একটি পানিশোধনাগার ধ্বংস করে দেওয়া হয়। এতে আশপাশের ৩০টি গ্রামের পানির সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। তেহরান এ হামলাকে ‘ঘোরতর অপরাধ’ বলে অভিহিত করে।
মার্কিন বাহিনীর আরেকটি সম্ভাব্য লক্ষ্য হতে পারে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত। মার্কিন গণমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান থেকে প্রায় ৪৫০ কেজি (প্রায় এক হাজার পাউন্ড) ইউরেনিয়াম সরিয়ে নেওয়ার উপযোগী সামরিক অভিযানের কথা বিবেচনা করছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। সেটি করতে চাইলে অভিযানের জটিলতা বাড়বে, যেখানে ইরানের ভেতরে আরও বেশি সেনা মোতায়েন প্রয়োজন হবে।
আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইইএ) তথ্য বলছে, জুন পর্যন্ত ইরানের কাছে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ ৪৪০ দশমিক ৯ কেজি ইউরেনিয়াম রয়েছে, যা অস্ত্রমানের কাছাকাছি।
সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র পূর্ণাঙ্গ আগ্রাসনের চেয়ে সীমিত, দ্রুত ও কৌশলগত সামরিক অভিযানের দিকেই এগোচ্ছে। তবে এ ধরনের পদক্ষেপও বড় আকারের সংঘাতে রূপ নিতে পারে, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য দীর্ঘমেয়াদে বড় ঝুঁকি তৈরি করবে।
[আল জাজিরার প্রতিবেদন অবলম্বনে]

এক মাস পেরিয়ে দ্বিতীয় মাসে প্রবেশ করেছে ইরান যুদ্ধ। এর মধ্যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিভিন্ন পদক্ষেপ ও বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য স্থল হামলা নিয়ে জল্পনা বাড়ছে। মার্কিন গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, পেন্টাগন ইরানে সীমিত পরিসরের স্থল অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং এরই মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন শুরু হয়েছে।
শনিবার দ্য ওয়াশিংটন পোস্টকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুজন মার্কিন কর্মকর্তা জানান, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর ইরানের খার্গ দ্বীপে অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ দ্বীপ থেকেই ইরানের প্রায় ৯০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল রপ্তানি প্রক্রিয়াজাত হয়। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালির নিকটবর্তী উপকূলীয় এলাকাগুলোকেও সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
হরমুজ প্রণালি বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের একটি গুরুত্বপূর্ণ রুট। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এই রুটেই পরিবাহিত হয়। যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই এই নৌ রুট কার্যত বন্ধ করে দেয় ইরান। সেখানে কিছু জাহাজে হামলাও হয়েছে। এরপর থেকে চীন, বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তানের মতো অল্প কিছু দেশের জাহাজকেই এই রুটে চলাচল করতে দেওয়া হচ্ছে।
হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকার বড় ধাক্কা লাগে বৈশ্বিক জ্বালানি খাতে। যুদ্ধ শুরুর আগে যেখানে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৬৫ ডলার, তা বেড়ে সোমবার প্রায় ১১৬ ডলারে পৌঁছেছে।
ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, মার্কিন সামরিক পরিকল্পনায় পূর্ণাঙ্গ আগ্রাসনের বদলে বিশেষ বাহিনী ও প্রচলিত পদাতিক সেনাদের মাধ্যমে সীমিত অভিযান অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
এর মধ্যে রোববার ব্রিটিশ গণমাধ্যম ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরানের তেলের দখলই তার হামলার প্রধান লক্ষ্য। খার্গ দ্বীপ দখল করার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি তিনি।
এর মধ্যে রোববার ব্রিটিশ গণমাধ্যম ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরানের তেলের দখলই তার হামলার প্রধান লক্ষ্য। খার্গ দ্বীপ দখল করার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি তিনি।
অন্যদিকে ইরান সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি স্থল হামলা চালায়, তাহলে তা প্রতিরোধ করা হবে। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএকে তিনি বলেন, আমাদের লোকেরা মাটিতে মার্কিন সেনাদের আগমনের অপেক্ষায় আছে, যেন তাদের ধ্বংস করে আঞ্চলিক মিত্রদেরও শাস্তি দেওয়া যায়।
মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য। ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময় থেকেই এ অঞ্চলে ৪০ থেকে ৫০ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন ছিল, যারা বড় স্থায়ী ঘাঁটি ও ছোট ফরওয়ার্ড ঘাঁটিগুলোতে অবস্থান করছিল।
এ বছরের বছরের শুরু থেকেই ট্রাম্প প্রশাসন অঞ্চলটিতে সামরিক উপস্থিতি আরও জোরদার করতে শুরু করে। আরব সাগরে পাঠানো হয় আব্রাহাম লিংকন বিমানবাহী রণতরিসহ একাধিক যুদ্ধজাহাজ।
ওপেন সোর্স গোয়েন্দা বিশ্লেষণের তথ্য ও সামরিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং ডেটা বলছে, ফেব্রুয়ারির শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্র ১২০টির বেশি সামরিক বিমান মোতায়েন করেছে, যা ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধের পর মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বিমান শক্তির সবচেয়ে বড় সমাবেশ।

এর মধ্যে রয়েছে— ই-৩ সেন্ট্রি নজরদারি বিমান (এয়ারবর্ন ওয়ার্নিং অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেম), এফ-৩৫ স্টেলথ স্ট্রাইক ফাইটার, এফ-২২ এয়ার সুপিরিয়রিটি জেট এবং এফ-১৫ ও এফ-১৬ যুদ্ধবিমান।
এসব বিমান যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের ঘাঁটি থেকে উড্ডয়ন করেছে এবং কার্গো বিমান ও আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী ট্যাংকারের সহায়তায় পরিচালনা করা হয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এসব সামরিক সমাবেশ নিয়মিত রোটেশন নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি সামরিক প্রস্তুতির ইঙ্গিত দেয়।
এর মধ্যে মঙ্গলবার উপসাগরীয় অঞ্চলে আরও সেনা পাঠানোর নির্দেশ দেয় পেন্টাগন। এই অতিরিক্ত বাহিনীর মধ্যে রয়েছে তিনটি পৃথক ইউনিট—
সব মিলিয়ে ইরান যুদ্ধ শুরুর পর প্রায় সাত হাজার অতিরিক্ত মার্কিন সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।
ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সামরিক মোতায়েন বাড়ানো হলেও এ বাহিনী পূর্ণাঙ্গ আগ্রাসনের জন্য যথেষ্ট নয় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। যুক্তরাষ্ট্র এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ইরানে স্থল হামলার ঘোষণা দেয়নি। তবে মার্কিন গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, পেন্টাগন অতিরিক্ত ১০ হাজার স্থল সেনা পাঠানোর বিষয়টি বিবেচনা করছে বলে জানিয়েছে।
মার্কিন গণমাধ্যমের খবর সত্যি হলে ইরান যুদ্ধ ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা মার্কিন সেনার সংখ্যা দাঁড়াবে ১৭ হাজারে। এই সংখ্যা শূন্য দশকে ইরাকে হামলার সময়কার তুলনায় নগণ্য। ২০০৩ সালের ২০ মার্চ শুরু হওয়া ওই হামলার প্রথম ধাপেই দেড় লাখ সেনা মোতায়েন করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। এর সঙ্গে মিত্রদেশগুলো থেকে যুক্ত ছিল আরও ২৩ হাজার সেনা।
২০১১ সালে ইরাক থেকে চূড়ান্তভাবে সেনা প্রত্যাহারের ছয় মাস আগেও প্রায় ৪৫ হাজার সেনা সেখানে মোতায়েন রেখেছিল যুক্তরাষ্ট্র, যাদের দায়িত্ব ছিল ইরাকি বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও দিকনির্দেশনা দেওয়া। এমনকি ২০২৫ সালেও দেশটিতে প্রায় আড়াই হাজার মার্কিন সেনা অবস্থান করছিলেন। ফলে এ অবস্থায় ইরানে পূর্ণ মাত্রায় স্থল অভিযান চালানোর প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্রের নেই বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ব্রিটিশ নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও সাবেক সামরিক প্রশিক্ষক জন ফিলিপস আল জাজিরাকে বলেন, বর্তমান মার্কিন প্রস্তুতি ‘সীমিত’ হলেও ‘উচ্চমাত্রার অভিযানে’র ইঙ্গিত দেয়। এ অভিযানে খার্গ দ্বীপ বা হরমুজ প্রণালির ছোট দ্বীপগুলো দখল করে নৌ রুট স্থিতিশীল করার মাধ্যমে জাহাজ চলাচল শুরু এবং এরপর দ্রুত সেখান থেকে সরে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকতে পারে।
ফিলিপস বলেন, এ ধরনের অভিযান শুরু হতে পারে বিমানবাহী রণতরি থেকে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা, ক্ষেপণাস্ত্র ও মাইন লক্ষ্য করে হামলার মাধ্যমে। এরপর হেলিকপ্টার ও ল্যান্ডিং ক্রাফট ব্যবহার করে মার্কিন মেরিনরা অভিযান চালাতে পারে, যেখানে বিমানবাহিনীর সহায়তায় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা দখল বা ধ্বংস করা হবে।
প্রাথমিক অভিযানে খার্গের মতো দ্বীপ দখলের পরিকল্পনা থাকতে পারে, যেখানে সামরিক স্থাপনা ও জ্বালানি অবকাঠামো ধ্বংস করে দেওয়ার নির্দেশ থাকতে পারে। তবে মেরিনরা অবতরণ করার সময় ল্যান্ডমাইনের মতো প্রতিরোধের মুখে পড়তে পারেন সেখানে। ফিলিপস বলেন, ‘এতে প্রচুর হতাহত হতে পারে এবং ইরানের অর্থনীতিতেও বড় আঘাত আসতে পারে।’
এ ছাড়া ৮২তম এয়ারবর্ন ইউনিট প্যারাশুট বা হেলিকপ্টারের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালির উপকূল জুড়ে দ্রুত হামলা চালিয়ে ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি, দ্রুতগতির নৌ যান বা কমান্ড সেন্টারকে লক্ষ্য করতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের জার্মান মার্শাল ফান্ডের বিশ্লেষক ইয়ান লেসার বলেন, বর্তমানে মোতায়েন করা মার্কিন বাহিনী মূলত ‘হুমকি’ হিসেবে কাজ করছে, যা প্রতিরোধ ও কূটনৈতিক চাপ তৈরিতে বেশি কার্যকর। তার মতে, মার্কিন বাহিনীর বর্তমান উপস্থিতিতে ইরানে ইরাকের মতো পূর্ণাঙ্গ আগ্রাসনের প্রশ্নই ওঠে না। কারণ সে ধরনের অভিযানের জন্য অনেক বড় ও ভিন্ন ধরনের বাহিনী প্রয়োজন, যা এখন দেখা যাচ্ছে না।
লেসার বলেন, ‘বৃহৎ পরিসরের প্রচলিত সামরিক অভিযান, এমনকি দখলের জন্যও এ ধরনের বাহিনীকে ভিন্নভাবে সাজাতে হয়। রাজনৈতিক ও বাস্তব প্রেক্ষাপটে এর কোনো সম্ভাবনাই নেই।’
বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানে সম্ভাব্য মার্কিন স্থল অভিযানের ধরন নিয়েও আলোচনা চলছে। এর মধ্যে রয়েছে উপসাগরীয় অঞ্চল বা হরমুজ প্রণালি এলাকায় কৌশলগত দ্বীপ দখল বা ইরানের ইউরেনিয়াম মজুত সরিয়ে নেওয়ার মতো পদক্ষেপ।
ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষক ক্রিস্টোফার ফেদারস্টোন মনে করছেন, পূর্ণাঙ্গ আগ্রাসনের বদলে মার্কিনিরা সীমিত ও লক্ষ্যভিত্তিক অভিযান পরিচালনা করতে পারে। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় তারা খার্গ বা এ ধরনের কৌশলগত দ্বীপ দখলের দিকে যেতে পারে। ওই এলাকায় যে সামরিক বাহিনী পাঠানো হয়েছে (মেরিন ও সেনাবাহিনীর ৮২তম এয়ারবর্ন ইউনিট), তারা অত্যন্ত কার্যকর। তবে তা খুব সহজে বড় এলাকা দখলে নেওয়ার মতো যথেষ্ট নয়।’
‘এ অভিযানকে অত্যন্ত দ্রুত ও তীব্র হিসেবেই দেখতে পাচ্ছি। ট্রাম্প নিজেও ক্ষণস্থায়ী ও মনোযোগ আকর্ষণের মতো পদক্ষেপ পছন্দ করেন। তাই সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যভিত্তিক অভিযানের সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি। তারপরও যদি মার্কিনিরা আগ্রাসন চালায়, সেটি আমাকে বিস্মিত করবে,’— বলেন ফেদারস্টোন।

যুক্তরাষ্ট্র যদি খার্গ দ্বীপ দখল করে নেয়, তাহলে সেটি ধরে রাখার দায়িত্ব মার্কিন সেনাবাহিনীর ১০ম মাউন্টেন ডিভিশনকে দেওয়া হতে পারে বলে মনে করেন জন ফিলিপস। মার্কিন সেনাবাহিনীর এই ইউনিটটি তাদের সবচেয়ে দক্ষ পদাতিক ইউনিটগুলোর একটি।
ফিলিপস বলেন, ‘দখল ধরে রাখার ক্ষেত্রে এ ইউনিটটির কার্যকারিতা পরীক্ষিত। সোমালিয়ায় তাদের ব্যবহার করা হয়েছে। ২০০৪-০৫ সালে আফগানিস্তানেও তারা প্রথম বড় ইউনিটগুলোর একটি ছিল। তবে ইরানের আরও ভেতরে ব্যাপকভিত্তিক অভিযান চালাতে হলে সাঁজোয়া বাহিনীর সমর্থন প্রয়োজন হবে, যা এখনো কোথাও দেখা যাচ্ছে না। তাছাড়া এতে ঝুঁকি ও ব্যয় দুটোই অনেক বেশি।’
মার্কিন বাহিনীর গতিবিধি বিবেচনায় বিশ্লেষকরা তাদের সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্য কী হতে পারে, তা নিয়ে কিছু অনুমানের কথা জানিয়েছেন। এর মধ্যে খার্গ দ্বীপ ছাড়াও রয়েছে ইরানের ইউরেনিয়ামের মজুতও।
ইরান যুদ্ধে অন্যতম আলোচিত লক্ষ্যগুলোর একটি খার্গ দ্বীপ। ট্রাম্প নিজেও বলেছেন, ‘হয়তো আমরা খার্গ দ্বীপ নেব, হয়তো নেব না— আমাদের অনেক বিকল্প আছে।’ তিনি আরও বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপ নিলে সেখানে কিছু সময় অবস্থান করতে হতে পারে।
গত ১৪ মার্চ ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্র খার্গ দ্বীপে সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখা অব্যাহত রাখলে তেল স্থাপনাগুলোও লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।
ইরানের স্পিকার গালিবাফ অবশ্য হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন, এ ধরনের কোনো অভিযানে সহযোগিতা করলে সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা চালানো হবে।

হরমুজ প্রণালি এলাকার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থান কেশম দ্বীপ। বিশ্লেষকরা মনে করেন, ওই এলাকায় যে মার্কিন বাহিনী মোতায়েন রয়েছে, কৌশলগত দিক থেকে তাদের জন্য সবচেয়ে কার্যকর হতে পারে এ দ্বীপের দখল।
লেবাননের অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হাসান জৌনি এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, কেশম দ্বীপ ইরানের ভূগর্ভস্থ ‘মিসাইল সিটি’ হিসেবে পরিচিত। ফলে এই দ্বীপটিই ইরানের হামলার সক্ষমতার আধার। এখানকার বিস্তৃত নেটওয়ার্কের উদ্দেশ্য একটিই— হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও একে বন্ধ করে রাখার সক্ষমতা।
এ দ্বীপটি এরই মধ্যে মার্কিন বাহিনীর হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। গত ৭ মার্চ ওই দ্বীপে বিমান হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। ওই হামলায় একটি পানিশোধনাগার ধ্বংস করে দেওয়া হয়। এতে আশপাশের ৩০টি গ্রামের পানির সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। তেহরান এ হামলাকে ‘ঘোরতর অপরাধ’ বলে অভিহিত করে।
মার্কিন বাহিনীর আরেকটি সম্ভাব্য লক্ষ্য হতে পারে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত। মার্কিন গণমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান থেকে প্রায় ৪৫০ কেজি (প্রায় এক হাজার পাউন্ড) ইউরেনিয়াম সরিয়ে নেওয়ার উপযোগী সামরিক অভিযানের কথা বিবেচনা করছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। সেটি করতে চাইলে অভিযানের জটিলতা বাড়বে, যেখানে ইরানের ভেতরে আরও বেশি সেনা মোতায়েন প্রয়োজন হবে।
আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইইএ) তথ্য বলছে, জুন পর্যন্ত ইরানের কাছে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ ৪৪০ দশমিক ৯ কেজি ইউরেনিয়াম রয়েছে, যা অস্ত্রমানের কাছাকাছি।
সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র পূর্ণাঙ্গ আগ্রাসনের চেয়ে সীমিত, দ্রুত ও কৌশলগত সামরিক অভিযানের দিকেই এগোচ্ছে। তবে এ ধরনের পদক্ষেপও বড় আকারের সংঘাতে রূপ নিতে পারে, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য দীর্ঘমেয়াদে বড় ঝুঁকি তৈরি করবে।
[আল জাজিরার প্রতিবেদন অবলম্বনে]

মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন করে পাঠানো সেনাদের নির্দিষ্ট অবস্থান প্রকাশ করা হয়নি। তবে এ মোতায়েন প্রত্যাশিত ছিল। অতিরিক্ত সেনাদের মধ্যে রয়েছে ৮২তম ডিভিশনের সদর দপ্তরের সদস্য, লজিস্টিক ও সহায়তা ইউনিট ও একটি ব্রিগেড কমব্যাট টিম।
৪ ঘণ্টা আগে
রুবিও আরও জানান, এখন তাদের মূল মনোযোগ ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্রের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা এবং ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কারখানাগুলো পুরোপুরি ধ্বংস করা।
৫ ঘণ্টা আগে
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন এমন কথা। তিনি বলেন, ইরানের তেল নেওয়াই তার প্রধান লক্ষ্য। তবে এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও কিছু মানুষ প্রশ্ন তুলছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
১৫ ঘণ্টা আগে
সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি ‘ই-৩ সেন্ট্রি’ রাডার বিমান ধ্বংস হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নজরদারি ও আকাশযুদ্ধ সমন্বয় সক্ষমতায় বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
২০ ঘণ্টা আগে