
ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম

ইরান যুদ্ধের জের ধরে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ সংঘাতের প্রেক্ষাপটে লেবাননে খাদ্যনিরাপত্তা পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটছে। জাতিসংঘ-সমর্থিত এক যৌথ প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে, আগস্টের মধ্যে দেশটিতে ১২ লাখ ৪০ হাজার মানুষ তীব্র খাদ্যসংকটে পড়তে পারে, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ। অর্থাৎ দেশটির প্রতি পাঁচজনের একজন তীব্র ক্ষুধার ঝুঁকিতে রয়েছেন। যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য অবনতি ঘটেছে।
জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা, বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি এবং লেবাননের কৃষি মন্ত্রণালয় বুধবার এক যৌথ বিবৃতিতে জানায়, বর্তমানে প্রায় ১২ লাখ ৪০ হাজার (১.২৪ মিলিয়ন) মানুষ ‘সংকট পর্যায় বা তার চেয়েও গুরুতর’ খাদ্য নিরাপত্তার ঝুঁকিতে রয়েছে।
এই পরিসংখ্যান এসেছে ইন্টিগ্রেটেড ফুড সিকিউরিটি ফেজ ক্লাসিফিকেশনের (আইপিসি) বিশ্লেষণ থেকে। সংস্থাটি বিশ্ব জুড়ে ক্ষুধা ও অপুষ্টির পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২ মার্চ যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল ছিল, কিন্তু সহিংসতার দ্রুত বিস্তার খাদ্যনিরাপত্তায় অর্জিত অগ্রগতি পুরোপুরি উলটে দিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্চের আগে প্রায় ৮ লাখ ৭৪ হাজার মানুষ (প্রায় ১৭ শতাংশ) তীব্র খাদ্য নিরাপত্তার সংকটের মধ্যে ছিল। যুদ্ধের ফলে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২ লাখ ৪০ হাজারে, যা লেবাননের মোট জনসংখ্যার আনুমানিক ২১ থেকে ২৩ শতাংশ।
বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির লেবানন কান্ট্রি ডিরেক্টর অ্যালিসন ওমান লাউয়ি বলেন, ‘যেসব পরিবার কষ্ট করে টিকে ছিল, তারাও এখন নতুন করে সংকটে পড়ছে। সংঘাত, বাস্তুচ্যুতি ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি— সব মিলিয়ে খাবার ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে।’
লেবাননের কৃষি খাতও এই সংকটের বড় শিকার। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার প্রতিনিধি নোরা কুরাবাহ হাদ্দাদ সতর্ক করে বলেন, ‘বহুমাত্রিক ধাক্কা কৃষিজীবীদের জীবিকা দুর্বল করে দিচ্ছে এবং খাদ্যনিরাপত্তায় সরাসরি প্রভাব ফেলছে। দ্রুত জরুরি কৃষি সহায়তা না পেলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।’
লেবানন কর্তৃপক্ষের তথ্য বলছে, চলমান সংঘাতে এরই মধ্যে আড়াই হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন এবং ১০ লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। দক্ষিণ লেবাননের সীমান্তবর্তী এলাকায় এখনো ইসরায়েলি বাহিনীর উপস্থিতি রয়েছে, যেখানে বাসিন্দাদের ফিরে না যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গত ১৭ এপ্রিল কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি সংঘর্ষের তীব্রতা কিছুটা কমালেও স্থিতিশীলতা আসেনি। উভয় পক্ষের মধ্যে বিচ্ছিন্নভাবে গোলাগুলি অব্যাহত রয়েছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা আরও অনিশ্চিত করে তুলছে।
প্রতিবেদনটি সতর্ক করে বলছে, যদি সময়মতো ও পর্যাপ্ত মানবিক সহায়তা ও জীবিকাভিত্তিক সহায়তা নিশ্চিত না করা হয়, তবে তীব্র খাদ্য অনিরাপত্তা আরও গভীর হবে।
লেবাননের বর্তমান পরিস্থিতি কেবল একটি যুদ্ধজনিত মানবিক সংকট নয়, এটি অর্থনৈতিক অস্থিরতা, মূল্যস্ফীতি, বাস্তুচ্যুতি ও কৃষিখাতের দুর্বলতার সম্মিলিত ফল। দীর্ঘদিন ধরেই অর্থনৈতিক সংকটে থাকা দেশটি নতুন করে এই সংঘাতে পড়ে খাদ্যনিরাপত্তার ক্ষেত্রে এক ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কেবল খাদ্য সহায়তা নয়, একইসঙ্গে কৃষি পুনরুদ্ধার, বাজার স্থিতিশীলতা ও বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর পুনর্বাসন নিশ্চিত না করা গেলে সংকট দীর্ঘস্থায়ী রূপ নিতে পারে।
যুদ্ধের সরাসরি প্রভাব যেমন প্রাণহানি ও বাস্তুচ্যুতি, তেমনি এর পরোক্ষ প্রভাব— ক্ষুধা ও দারিদ্র্য— লেবাননের মানুষের জন্য আরও বড় হুমকি হয়ে উঠছে। বর্তমানে দেশটির প্রতি পাঁচজনে অন্তত একজন তীব্র খাদ্যসংকটে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য একটি স্পষ্ট সতর্কবার্তা।

ইরান যুদ্ধের জের ধরে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ সংঘাতের প্রেক্ষাপটে লেবাননে খাদ্যনিরাপত্তা পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটছে। জাতিসংঘ-সমর্থিত এক যৌথ প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে, আগস্টের মধ্যে দেশটিতে ১২ লাখ ৪০ হাজার মানুষ তীব্র খাদ্যসংকটে পড়তে পারে, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ। অর্থাৎ দেশটির প্রতি পাঁচজনের একজন তীব্র ক্ষুধার ঝুঁকিতে রয়েছেন। যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য অবনতি ঘটেছে।
জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা, বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি এবং লেবাননের কৃষি মন্ত্রণালয় বুধবার এক যৌথ বিবৃতিতে জানায়, বর্তমানে প্রায় ১২ লাখ ৪০ হাজার (১.২৪ মিলিয়ন) মানুষ ‘সংকট পর্যায় বা তার চেয়েও গুরুতর’ খাদ্য নিরাপত্তার ঝুঁকিতে রয়েছে।
এই পরিসংখ্যান এসেছে ইন্টিগ্রেটেড ফুড সিকিউরিটি ফেজ ক্লাসিফিকেশনের (আইপিসি) বিশ্লেষণ থেকে। সংস্থাটি বিশ্ব জুড়ে ক্ষুধা ও অপুষ্টির পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২ মার্চ যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল ছিল, কিন্তু সহিংসতার দ্রুত বিস্তার খাদ্যনিরাপত্তায় অর্জিত অগ্রগতি পুরোপুরি উলটে দিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্চের আগে প্রায় ৮ লাখ ৭৪ হাজার মানুষ (প্রায় ১৭ শতাংশ) তীব্র খাদ্য নিরাপত্তার সংকটের মধ্যে ছিল। যুদ্ধের ফলে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২ লাখ ৪০ হাজারে, যা লেবাননের মোট জনসংখ্যার আনুমানিক ২১ থেকে ২৩ শতাংশ।
বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির লেবানন কান্ট্রি ডিরেক্টর অ্যালিসন ওমান লাউয়ি বলেন, ‘যেসব পরিবার কষ্ট করে টিকে ছিল, তারাও এখন নতুন করে সংকটে পড়ছে। সংঘাত, বাস্তুচ্যুতি ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি— সব মিলিয়ে খাবার ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে।’
লেবাননের কৃষি খাতও এই সংকটের বড় শিকার। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার প্রতিনিধি নোরা কুরাবাহ হাদ্দাদ সতর্ক করে বলেন, ‘বহুমাত্রিক ধাক্কা কৃষিজীবীদের জীবিকা দুর্বল করে দিচ্ছে এবং খাদ্যনিরাপত্তায় সরাসরি প্রভাব ফেলছে। দ্রুত জরুরি কৃষি সহায়তা না পেলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।’
লেবানন কর্তৃপক্ষের তথ্য বলছে, চলমান সংঘাতে এরই মধ্যে আড়াই হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন এবং ১০ লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। দক্ষিণ লেবাননের সীমান্তবর্তী এলাকায় এখনো ইসরায়েলি বাহিনীর উপস্থিতি রয়েছে, যেখানে বাসিন্দাদের ফিরে না যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গত ১৭ এপ্রিল কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি সংঘর্ষের তীব্রতা কিছুটা কমালেও স্থিতিশীলতা আসেনি। উভয় পক্ষের মধ্যে বিচ্ছিন্নভাবে গোলাগুলি অব্যাহত রয়েছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা আরও অনিশ্চিত করে তুলছে।
প্রতিবেদনটি সতর্ক করে বলছে, যদি সময়মতো ও পর্যাপ্ত মানবিক সহায়তা ও জীবিকাভিত্তিক সহায়তা নিশ্চিত না করা হয়, তবে তীব্র খাদ্য অনিরাপত্তা আরও গভীর হবে।
লেবাননের বর্তমান পরিস্থিতি কেবল একটি যুদ্ধজনিত মানবিক সংকট নয়, এটি অর্থনৈতিক অস্থিরতা, মূল্যস্ফীতি, বাস্তুচ্যুতি ও কৃষিখাতের দুর্বলতার সম্মিলিত ফল। দীর্ঘদিন ধরেই অর্থনৈতিক সংকটে থাকা দেশটি নতুন করে এই সংঘাতে পড়ে খাদ্যনিরাপত্তার ক্ষেত্রে এক ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কেবল খাদ্য সহায়তা নয়, একইসঙ্গে কৃষি পুনরুদ্ধার, বাজার স্থিতিশীলতা ও বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর পুনর্বাসন নিশ্চিত না করা গেলে সংকট দীর্ঘস্থায়ী রূপ নিতে পারে।
যুদ্ধের সরাসরি প্রভাব যেমন প্রাণহানি ও বাস্তুচ্যুতি, তেমনি এর পরোক্ষ প্রভাব— ক্ষুধা ও দারিদ্র্য— লেবাননের মানুষের জন্য আরও বড় হুমকি হয়ে উঠছে। বর্তমানে দেশটির প্রতি পাঁচজনে অন্তত একজন তীব্র খাদ্যসংকটে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য একটি স্পষ্ট সতর্কবার্তা।

ইউরোপে উদ্দেশে রওনা হওয়া অভিবাসন প্রত্যাশীদের একটি নৌকা গত সপ্তাহে লিবিয়া উপকূলে ডুবে গিয়ে অন্তত ৫১ জন নিখোঁজ হয়েছেন বলে জানিয়েছে পর্যবেক্ষণ সংস্থা ‘আবরিন’। এ দুর্ঘটনায় গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত ১০ জনকে জীবিত উদ্ধার করা এবং নিখোঁজদের মধ্যে ১১ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, বাকিদের হদিস মেলেনি।
৬ ঘণ্টা আগে
যুক্তরাষ্ট্র ও তার পশ্চিমা মিত্রদের দৃষ্টিতে যাকে একটি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে বিবেচনা করা হয়, সেই ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এই সম্ভাব্য সমঝোতার মাধ্যমে সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগীদের একটিতে পরিণত হতে পারে।
৮ ঘণ্টা আগে
৭৬ বছর বয়সী নেতানিয়াহুর জন্য পরিস্থিতি রাজনৈতিকভাবেও কঠিন হয়ে উঠেছে। দুর্নীতির মামলায় বিচারাধীন এই নেতা এখন ভোটারদের বোঝানোর চেষ্টা করছেন, দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য এখনও তিনিই সবচেয়ে উপযুক্ত ব্যক্তি।
৯ ঘণ্টা আগে
লেবাননে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর অন্তর্বর্তীকালীন ইরান যুদ্ধ চুক্তিকে একটি স্থায়ী আঞ্চলিক চুক্তিতে রূপ দেওয়ার প্রচেষ্টা আবারও জোরদার হয়েছে। এই আলোচনার অংশ হিসেবে মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি উভয়েই সুইজারল্যান্ডের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন বলে এক্সিওসের বরাতে জানিয়ে
১১ ঘণ্টা আগে