সভায় দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণে সকলকে ধৈর্য ও সহনশীল আচরণ করার আহ্বান জানানো হয় এবং সেনাবাহিনীকে লুটতরাজ ও হিংসাত্মক কর্মকাণ্ড বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
চলমান সার্বিক পরিস্থিতিতে দেশের সর্বস্তরের জনগণকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া।
সোমবার (৫ আগস্ট) বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান সাংবাদিকদের জানান, সোমবার বিকেলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশবাসীকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান।
অসহযোগ আন্দোলনসহ চলমান আন্দোলনে ছাত্র জনতাকে হত্যাকারীদের বিচার অবশ্যই বাংলাদেশের মাটিতে হবে।
বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু বলেছেন, ‘আমি ’৬৯-এর গণঅভুত্থান দেখেছি, ’৯০-এর গণঅভুত্থানও দেখেছি। সাধারণ শিক্ষার্থীরা সেসব গণঅভুত্থানের চেয়েও বেশি জনসমর্থন নিয়ে আন্দোলন করছেন। ভেতরে ভেতরে একটা বিরাট গণঅভুত্থান ঘটে গেছে। তাই সরকারের পতন এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।'
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন,‘ ছাত্রদের আন্দোলন বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে এসে গেছে। আমরা বিশ্বাস করি, ইনশাল্লাহ জনগণের বিজয় অবশ্যই হবে। ছাত্রদের বিজয় অবশ্যই হবে।’
ফখরুল বলেন, একসময়ে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের সাথে আওয়ামী লীগের সখ্যতাও সর্বজনবিদিত। এক সময় তারা পরস্পরের সঙ্গী ছিল।
তিনি বলেন, গণবিচ্ছিন্ন সরকার ইতিহাসের নির্মম-বর্বর হামলা ও গণহত্যা চালিয়ে গণশত্রুতে পরিণত হয়েছে। আন্দোলন দমনে নির্বিচার হত্যা মানবতাবিরোধী অপরাধ ও আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে বিচারযোগ্য অপরাধ। আমরা বলতে চাই, এই নির্লজ্জ সরকার যতই মিথ্যাচার, সাজানো মামলায় নির্বিচারে গ্রেফতার অব্যাহত রাখুক না কেনো, কেনো
এখন জনগণের দায়িত্ব কার রাজনীতি গ্রহণ করবে, কার রাজনীতি গ্রহণ করবে না। এ জন্য যেটা দরকার একটা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন। আজকে এখন যে ক্রাইসিস তার মূলে রয়েছে এ দেশে প্রতিনিধিত্বমূলক কোনো সরকার নেই। প্রতিনিধিত্বমূলক সরকার না হলে তো এই সমস্যা সমাধান হবে না। আজকে এই সরকারের কোনো জনপ্রিয়তা নেই, তাদের কোনো বৈ
বিএনপি মহাসচিব ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, নৈরাজ্যের দায়-দায়িত্ব অন্যায়ভাবে অন্যের ওপর না চাপিয়ে অবিলম্বে পদত্যাগ করুন। এই সরকার রাষ্ট্রঘাতী, প্রাণঘাতী, গণশত্রুতে পরিণত হয়েছে। এই অবৈধ এবং অগণতান্ত্রিক, গণবিরোধী, ফ্যাসিস্ট সরকারের পদত্যাগই সকল সমস্যার সমাধান। তাই, সরকারের প্রতি আহ্বান জানাব, আর কোনো প
চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও দলীয় নেতাকর্মীদের গ্রেফতার এবং রিমান্ডে ‘নির্যাতন’ নিয়ে সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের প্রতিনিয়ত গ্রেফতার ও নির্যাতন চালাচ্ছে অথচ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং সারাদেশে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে যারা প্রকাশ্যে সাধারণ ছাত্রদের বুকে গুলি চালিয়ে হত্যা করলো তাদের একজনকেও গ্রেফতার করা হয়নি, বরঞ্চ তাদের নিয়ে সরকার প্রধান মায়া কান্না করছে।
তিনি বলেন, জাতির এই ক্রান্তিলগ্নে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হওয়া ব্যতীত আর কোনো উপায় নাই। বাম-ডান সব রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং ব্যক্তি ও শক্তি একত্রিত হলে লুণ্ঠিত গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার পুনরুদ্ধার, অধিকারহীন জনগণ ও জাতির মুক্তি সম্ভব। আসুন সকলে একত্রিত হই, অবৈধ, ফ্যাসিস্ট, খুনি হাসিনা সরকারের
তিনি বলেন, নুরুল হক নুরুকে রিমান্ড শেষে আদালতে নিয়ে আসার সময় গণমাধ্যমে যে চিত্র এসেছে তা যেকোনো মানুষকে আলোড়িত করবে। রিমান্ডে তাকে এমনভাবে নির্যাতন করা হয়েছে, যে তিনি দাঁড়াতেই পারছেন না।
মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী জামায়াতে ইসলামীকে সঙ্গে নিয়ে সরকার পতনের এক দফা দাবিতে ‘জাতীয় ঐক্যে’র ডাক দিয়েছে বিএনপি। শুক্রবার (২৬ জুলাই) বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই ঐক্যের ডাক দেওয়া হয়।
ফখরুল বলেন, গ্রেফতার নেতাদের গুম করে রেখে নির্যাতন চালিয়ে তিন/চার কিংবা পাঁচ দিন পর আদালতে হাজির করা হচ্ছে যা আইন ও মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। দেশের নাগরিকদের গুম করে রাখার ভয়াবহ সংস্কৃতি চালু রেখে মানুষের মনে ভীতির সঞ্চার করা হচ্ছে। সরকারকে এ ধরনের লোমহর্ষক কর্মকাণ্ড পরিহারের আহ্বান জানাচ্ছি।
এ ছাড়া আরো গ্রেপ্তার হয়েছেন বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি রফিকুল আলম মজনু, ঢাকা উত্তর বিএনপির সভাপতি সাইফুল আলম নিরব, বিএনপির নির্বাহী পরিষদের সদস্য তারিকুল আলম তেনজিং এবং বিএনপির কোষাধ্যক্ষ রাশেদু্জ্জামান মিল্লাত।