অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির পরিবর্তনে চট্টগ্রাম বন্দরই মূল ভরসা। এটি বাদ দিয়ে দেশের অর্থনীতিকে নতুন কোনো অধ্যায়ে প্রবেশ করানোর সুযোগ নেই। বন্দরের পথ উন্মুক্ত হলে দেশের অর্থনীতিরও অগ্রগতি হবে। অন্যথায় যতই চেষ্টা করা হোক, অর্থনৈতিক উন্নতি
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস এক দিনের সফরে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে পৌঁছেছেন। বুধবার (১৪ মে) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এ তথ্য জানিয়েছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বিলুপ্ত করে দুটি বিভাগ করায় রাজস্ব আদায়ে কোনো প্রভাব পড়বে না বলে জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। মঙ্গলবার (১৩ মে) দুপুরে সচিবালয়ে ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটির বৈঠক শেষে তিনি এ কথা জানান।
সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ১২ মে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনটি জারি করা হয়েছে। সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় এই প্রজ্ঞাপনটি জারি করা হয়। এই আইন ও প্রজ্ঞাপন অনুসারে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারকার্য সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগ (এবং এর সকল অঙ্গসংগঠন, সহযোগী
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং এর সব ধরনের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সব ধরনের কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯-এর ধারা-১৮(১) ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে দলটির ওপর।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, সিভিল সার্জনরা মন থেকে চাইলে সীমিত সম্পদের মধ্যেও স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা সেবার মানে ২৫ শতাংশ উন্নতি সম্ভব। স্বাস্থ্য খাতে যে নিয়ম-কানুন রয়েছে, তা প্রতিপালন করলেই এ উন্নতি সম্ভব।
কমিটি আগামী ১৫ দিনের মধ্যে রিপোর্ট পেশ করবে।
বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত করতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে দ্রুত ও সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। রোববার (১১ মে) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত এলডিসি স্নাতক কমিটির উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিনি এ আহ্বান জানান।
আন্তর্জাতিক অপরাধে জড়িত রাজনৈতিক দল, তার অঙ্গসংগঠন বা সমর্থক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রেখে আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন, ১৯৭৩ সংশোধন করে গেজেট প্রকাশ করেছে সরকার।
একাত্তরে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় সংঘটিত যুদ্ধাপরাধের সহযোগীদের ক্ষমা চাইতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। বলেছেন, ইনিয়ে বিনিয়ে গণহত্যার পক্ষে বয়ান উৎপাদন বন্ধ করতে হবে।
এই সংশোধনীর ফলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জুলাই গণহত্যায় জড়িত অভিযোগে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কিংবা এর কোনো সহযোগী সংগঠনের বিচার করা যাবে। পাশাপাশি এই বিচার কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগের সব ধরনের কর্মকাণ্ডে নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্তও নিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আব্দুর রশিদ ও প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরের এক কর্মকর্তা বৈঠক আহ্বানের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তারা জানিয়েছেন, প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন যমুনায় হবে এই বৈঠক। তবে বৈঠকের আলোচ্যসূচি তারা কেউ জানাননি।
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বিবিসি বাংলাকে বলেন, পলিটিক্যাল পার্টি অধ্যাদেশ-১৯৭৮ ও সন্ত্রাসবিরোধী আইন-২০০৯— এই দুটি আইনের মাধ্যমে রাজনৈতিক দল বরখাস্ত, সাময়িক অথবা আজীবন নিষিদ্ধের সুযোগ রয়েছে। তবে এখানে অনেকগুলো বিষয়ে বিতর্ক বা বিবেচনার সুযোগ রয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সম্প্রতি বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সংগঠন ও জনগণের পক্ষ থেকে স্বৈরশাসন ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমের অভিযোগে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করার যে দাবি উঠেছে, তা সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। এ ব্যাপারে সরকার রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে এরই মধ্যে যোগাযোগ করেছে, তাদের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত সিদ্ধান্ত
বিভিন্ন সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন নিয়ে এরই মধ্যে এক দফায় রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠক করেছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। বৈঠকে প্রথম ধাপের আলোচনায় সংস্কারের বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির প্রশংসা করেন প্রধান উপদেষ্টা।
মঙ্গলবার (৬ মে) উপদেষ্টা পরিষদের এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।