শুক্রবার রাত সোয়া ১১টার দিকে স্বাধীন ও ফাহিম শহর থেকে বাসায় ফিরছিল। হঠাৎ তাদের মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিবেকানন্দ স্কুল অ্যান্ড কলেজ এলাকায় একটি দেয়ালে ধাক্কা লাগে। আশেপাশের লোকজন তাদের টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
বর্তমানে চরবাগডাঙ্গায় অতিরিক্ত পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন রয়েছে এবং এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ও স্বাভাবিক আছে।
নিহতের বড় ভাই মো. মশিউর রহমান জানান, ডা. নাসিরের ছেলে সাকিবের নেতৃত্বে প্রায় দুই শতাধিক ধানের শীষের সমর্থক তাদের বাড়িতে গিয়ে তার ভাইকে গালিগালাজ করেন। এক পর্যায়ে তারা আমার ভাইকে বেধড়ক মারধর করেন। ওই হামলার পর তার অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত ঢাকায় নেওয়া হয়, তবে শেষ পর্যন্ত তাকে আর বাঁচানো যায়নি।
তিনি বলেন, আমি জানতাম না এখানে কোন আওয়ামী লীগের অফিস আছে। সেখানে কোনো সাইনবোর্ড নেই। আমি উত্তেজনা সামাল দেয়ার জন্য চাবি বুঝিয়ে দিতে বলি, ওইখানে আওয়ামী লীগের কর্মী ছিল। তারপর তারা ধন্যবাদ জানালো। আমি বিষয়টাকে সেভাবে নেইনি।
বিএনপির নেতাকর্মীদের বিক্ষোভ ঘিরে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। প্রধান গেট বন্ধ করে কার্যালয়ের সামনে পুলিশ, বিজিবির পাশাপাশি অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করা হয়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ময়মনসিংহের দুটি আসন— ৮ (ঈশ্বরগঞ্জ) ও ৯ (নান্দাইল)— এবার ছিল ব্যতিক্রমী ও ঘটনাবহুল। প্রথমবার নির্বাচনে অংশ নিয়েই বিজয়ী হয়েছেন দুই প্রার্থী। একই সঙ্গে দীর্ঘ ৪৩ বছরের রাজনৈতিক জীবনের পর দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে দল পরিবর্তন করেও জয় পাননি এক সাবেক সংসদ সদস্য।
খুলনা-১ (দাকোপ ও বটিয়াঘাটা) আসনে বিএনপি প্রার্থী আমীর এজাজ খানের কাছে বিপুল ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের কৃষ্ণ নন্দী। এবারের নির্বাচনে জামায়াত মনোনীত একমাত্র হিন্দু প্রার্থী ছিলেন তিনি।
ঘোষিত ফল অনুযায়ী, ধানের শীষ প্রতীকে রেজা কিবরিয়া পেয়েছেন এক লাখ ১১ হাজার ৯৯৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১-দলীয় জোটের প্রার্থী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মাওলানা মো. সিরাজুল ইসলাম পেয়েছেন ৫৬ হাজার ১৩২ ভোট। এ আসনে স্বতন্ত্র ও বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী শেখ সুজাত মিয়া পেয়েছেন ৩৪ হাজার ৬৩৭ ভোট।
জামালপুরের পাঁচটি আসনেই দাপুটে জয় পেয়েছেন বিএনপির প্রার্থীরা। জামালপুর-১ (দেওয়ানগঞ্জ-বকশীগঞ্জ) আসনে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটি কোষাধ্যক্ষ এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত প্রার্থীর চেয়ে তিনি ৭৮ হাজার ৪৫৪ ভোট বেশি পেয়েছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-১ (গৌরনদী–আগৈলঝাড়া) আসনে বেসরকারি ফলাফলে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য জহির উদ্দিন স্বপন জয় পেয়েছেন। বেসরকারি ফল অনুযায়ী, তিনি ৮১ হাজার ৮৩৮ ভোট পেয়েছেন।
বেসরকারি ফলাফলে দেখা যায়, এক লাখ ২৭ হাজার ৪৪৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন বাবুল। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা সরোয়ার হোসেন পেয়েছেন ৭৫ হাজার ৮০৫ ভোট।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে মোট ৭২ হাজার ৫৪৭ ভোট পেয়েছেন।
মুন্সীগঞ্জ জেলার তিনটি সংসদীয় আসনেই জয় পেয়েছেন বিএনপির প্রার্থীরা। এর মধ্যে একটি আসনে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলের জামায়াত প্রার্থী, একটিতে এনসিপি প্রার্থী। বাকি একটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন নিজ দলেরই ‘বিদ্রোহী প্রার্থী’।
ফরিদপুর-২ (সালথা-নগরকান্দা) আসনে নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শ্যামা ওবায়েদ ইসলাম। বেসরকারি ফলাফলে তিনি বড় ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। ৩২ হাজার ৯৫৩ ভোটের ব্যবধানে জয় পেয়েছেন শ্যামা।
আন্দালিব রহমান পার্থ দাম্পত্য সূত্রে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পারিবারিক আত্মীয়। তার স্ত্রী শেখ সায়রা রহমানের বাবা শেখ হেলাল উদ্দীন সম্পর্কে শেখ মুজিবুর রহমানের চাচাতো ভাই। অর্থাৎ শেখ মুজিবুর রহমান সম্পর্কে আন্দালিব পার্থর চাচাশ্বশুর।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগর আংশিক) আসনে হাঁস প্রতীক নিয়ে বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানা। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি জোটের প্রার্থী মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিবের চেয়ে ৩৭ হাজার ৫৬৮ ভোট বেশি পেয়েছেন তিনি।