সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠাতা-সভানেত্রী মমতা তার পোস্টের শুরুটা করেন বাংলাদেশের জনগণকে অভিনন্দন জানিয়ে। তিনি লেখেন, ‘বাংলাদেশের সকল ভাইবোনকে, জনগণকে জানাই আমার শুভনন্দন, আমার আগাম রমজান মোবারক।’
যে সাত নারী এবারের জাতীয় নির্বাচনে জয় পেলেন তারা হলেন— মানিকগঞ্জ-৩ আসনে আফরোজা খান রিতা, ঝালকাঠি-২ আসনে ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো, সিলেট-২ আসনে তাহসিনা রুশদীর লুনা, ফরিদপুর-২ আসনে শামা ওবায়েদ, ফরিদপুর-৩ আসনে নায়াব ইউসুফ কামাল, নাটোর-১ আসনে ফারজানা শারমিন পুতুল ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে রুমিন ফারহানা।
তিনি নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় বলেন, নির্বাচন ছিল নানা চ্যালেঞ্জ ও প্রতিবন্ধকতায় পূর্ণ। তবুও সাধারণ ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ, দলীয় নেতাকর্মীদের নিরলস পরিশ্রম এবং তরুণ স্বেচ্ছাসেবকদের আন্তরিক প্রচেষ্টা তার রাজনৈতিক অঙ্গীকারকে আরও দৃঢ় করেছে। নির্বাচনী প্রচারণার সময় গণসংযোগ, পথসভা, উঠান বৈঠক ও নাগরিক
সাইফুল আলম পেয়েছেন ৫৩ হাজার ৭৭৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক (কোদাল প্রতীক) পেয়েছেন ৩০ হাজার ৯৬৩ ভোট। অপরদিকে, ফুটবল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম নীরব পেয়েছেন ২৯ হাজার ৮৬৯ ভোট।
তিনি তার প্রিয় বন্ধু ড. মুহাম্মদ ইউনুসকে ধন্যবাদ জানান, যিনি এই গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সময় প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং নিশ্চিত করেছেন যে নির্বাচনী প্রক্রিয়াটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
সারাদেশে ২৯৯টি আসনে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ছাড়া বড় কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির খবর পাওয়া যায়নি। প্রাথমিক গণনা শেষে তারা নিশ্চিত হয়েছেন যে, এবারের নির্বাচনে প্রদত্ত ভোটের হার ৫৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ।
সারজিস আলম বলেন, ‘জনগণ যদি একজন প্রার্থীকে এক ভোটেও এগিয়ে রাখে, তাকে সম্মান জানানো নৈতিক দায়িত্ব। সেই জায়গা থেকেই অভিনন্দন জানাতে এসেছি।’
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ও দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ১ লাখ ৪৪ হাজার ৯৫৬ ভোট।
১৭৭টি কেন্দ্রের সবকটির ফলাফলে দেখা যায়, আবদুল্লাহ আল ফারুখকে বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করে বেসরকারিভাবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ পেয়েছেন ২ লাখ ২০ হাজার ৫৬৬ ভোট।
প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত ১১–দলীয় ঐক্যের প্রার্থী মামুনুল হকের চেয়ে ২ হাজার ৩২০ ভোট বেশি পেয়েছেন তিনি।
জামায়াতের আমির মোট ভোট পেয়েছেন ৮৫ হাজার ১৩১টি। তার প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী মো. শফিকুল ইসলাম খান পেয়েছেন ৬৩ হাজার ৫১৭ ভোট। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর চেয়ে জামায়াতের আমির ২১ হাজার ৬১৪ ভোট বেশি পেয়েছেন।
দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের দাবি করেছেন, একাধিক আসনে প্রকৃত ফলাফল বদলে দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটছে।
আসিফ আলী জারদারি বিএনপির পাশাপাশি বাংলাদেশের জনগণকে সফল ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনের জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন। জারদারি গণতান্ত্রিক অংশীদারিত্ব এবং দুই দেশের ভবিষ্যৎ যৌথ অগ্রগতির প্রতি শক্ত সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
কর্মসূচির বিষয়ে বলা হয়, বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান আজ শুক্রবার বাদ জুমা মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করে সারাদেশে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করার জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন। তবে কোথাও কোনো বিজয় মিছিল ও সভাুসমাবেশ না করার জন্যও নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পরপরই বিশ্বের প্রভাবশালী দেশগুলোর এমন ইতিবাচক সাড়া নতুন সরকারের জন্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এক বড় কূটনৈতিক সমর্থন হিসেবে কাজ করবে।
বিধি অনুযায়ী কোনো দল সংসদের মোট আসনের অর্ধেকের বেশি তথা ন্যূনতম ১৫১টি আসন পেলেই সরকার গঠন করতে পারে। ভোটের ফলাফলের তথ্য বলছে, বিএনপি ন্যূনতম এই সংখ্যার গণ্ডি পেরিয়ে দুই শতাধিক আসন পর্যন্ত পেয়ে যেতে পারে। সে হিসাবে বিএনপির সরকার গঠন এখন কেবল সময়ের ব্যাপার।