
আকতারুল ইসলাম

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের ইরান আক্রমণের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে শুরু হয়েছে এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ। এর মধ্যে হরমুজ প্রণালি বন্ধ, তেল শোধনাগারগুলার ওপর হামলা, তেলের ট্যাংকার বিস্ফোরণের মতো ঘটনাবলি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারকে অস্থির করে তুলেছে।
বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানির দামে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশেও। তেলের ডিপোগুলোতে দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে। চাহিদার অতিরিক্ত তেল সংগ্রহের ফলে ডিপোগুলো সাময়িক বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছে কর্তৃপক্ষ।
যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে এ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে। সেই সুযোগ গ্রহণ করতে পারে ক্ষমতাসীন বিএনপির বিরোধী পক্ষ। তারা বিএনপিকে ঘায়েল করার জন্য কথায় কথায় যেমন ২০০১-০৬ শাসনামলের তীব্র সার-বিদ্যুৎ সংকটকে টেনে আনে, এবারেও তার ব্যতিক্রম হবে না হয়তো।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রায়ই দেখা যায় এমন অবস্থা। আন্তর্জাতিক কোনো বড় ঘটনা দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিতর্ককে নতুন মাত্রা দেয়। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ বা অস্থিরতা বাংলাদেশের অর্থনীতি, কৃষি ও জ্বালানি খাতের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে।
ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, বিএনপি ক্ষমতায় আসার সময়গুলোর সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের বড় যুদ্ধের সময়কাল মিলে গেছে, যার প্রভাব দেশের কৃষি ও বিদ্যুৎ খাতে অনুভূত হয়েছে। ফলে এসব সংকটকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কও তীব্র হয়েছে।
১৯৯১ সালে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার আগেই শুরু হয় মধ্যপ্রাচ্যের বড় সংঘাত— প্রথম উপসাগরীয় যুদ্ধ। এ যুদ্ধের ফলে আন্তর্জাতিক তেল বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয় এবং জ্বালানির দাম বেড়ে যায়। বাংলাদেশ তখনো জ্বালানি ও সারের ক্ষেত্রে আমদানিনির্ভর ছিল। ফলে যুদ্ধের প্রভাব কৃষি উৎপাদন ও বিদ্যুৎ খাতে চাপ তৈরি করে। অনেক জায়গায় সারের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয় এবং বিদ্যুৎ খাতেও নানা ধরনের সংকট দেখা দেয়।
এরপর আবার ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা শুরু হয় ২০০৩ সালের দ্বিতীয় উপসাগরীয় যুদ্ধের মধ্য দিয়ে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে আফগানিস্তান ও মধ্যপ্রাচ্য ঘিরে যে যুদ্ধ হয়, তার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব বিশ্ব জ্বালানি বাজারে পড়ে।
এ সময়েও বাংলাদেশের কৃষি খাতে সারের সরবরাহ ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যয় নিয়ে নানা ধরনের সমস্যা তৈরি হয়। ফলে রাজনৈতিক অঙ্গনে তখনো ‘সার ও বিদ্যুৎ সংকট’ একটি বড় বিতর্কের বিষয় হয়ে ওঠে।
বর্তমান পরিস্থিতিও অনেকের কাছে সেই পুরোনো অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা তৈরি করছে। কারণ এ বছর বিএনপি আবার ক্ষমতায় আসার পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধ শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সমন্বিত হামলার পর ইরানের পালটা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আক্রমণে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এ সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে ও আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিতে পারে, বিশেষ করে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল এ সংকীর্ণ সমুদ্রপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ইরানের বিপ্লবী গার্ড হুমকি দিয়ে রেখেছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে কোনো জাহাজ যেন না চলাচল করে।
যুদ্ধ পরিস্থিতি আর ইরানের হুমকির কারণে এরই মধ্যে এ রুট দিয়ে জ্বালানি সরবরাহের শৃঙ্খল ব্যাহত হয়েছে, যার প্রভাবে তেলের দামও বেড়ে গেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে গত ১৭ ফেব্রুয়ারিতেও প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের দাম ছিল ৬১ ডলার। এর বিপরীতে বৃহস্পতিবারের তথ্য বলছে, মার্কিন বেঞ্চমার্ক ক্রুড অয়েলের দাম আগের দিনের চেয়ে প্রতি ব্যারেলে ২ দশমিক ৫৯ ডলার বেড়ে ৭৭ দশমিক ২৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা গত এক বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড হিসেবে পরিচিত ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৮২ দশমিক ৮৭ ডলারে পৌঁছে গেছে।
মূলত ইরান-যুক্তরাষ্ট্র বৈঠক ফলহীন হওয়ার পর থেকেই বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বাড়ছিল। সাম্প্রতিক সামরিক পদক্ষেপের পর দাম আরও ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার নতুন আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা সরাসরি হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরশীল। দেশের প্রায় ৯০ শতাংশ প্রাথমিক জ্বালানি এই রুট দিয়েই আমদানি হয়। এর মধ্যে রয়েছে অপরিশোধিত তেল, পরিশোধিত জ্বালানি ও এলএনজি।
সৌদি আরব, ইরাক ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো প্রধান সরবরাহকারীদের কাছ থেকে জ্বালানি আনার ক্ষেত্রে বাস্তবে কোনো বিকল্প সমুদ্রপথ নেই। ফলে তার প্রভাব আবারও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে পড়বে, যা বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশের জন্য নতুন চাপ তৈরি করতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে কৃষি খাতে সারের সরবরাহ ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যয় বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
কিন্তু প্রশ্ন হলো— এই সংকটের জন্য দায়ী কে? বৈশ্বিক যুদ্ধ ও জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা কি কোনো একক সরকারের নিয়ন্ত্রণে? নাকি এটি আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির অনিবার্য প্রভাব?
বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় দেখা যায়, অর্থনৈতিক বা সরবরাহজনিত সংকট তৈরি হলেই তা দ্রুত রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হয়। অতীতের মতো এবারও যদি সারের সরবরাহ বা বিদ্যুৎ খাতে চাপ তৈরি হয়, তাহলে বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি স্বাভাবিকভাবেই তার দায় সরকারের ওপর চাপানোর চেষ্টা করবে। কিন্তু ইতিহাসের দিকে তাকালে বোঝা যায়— এ ধরনের সংকট অনেক সময় আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির ফলাফল, যা কেবল অভ্যন্তরীণ নীতির মাধ্যমে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়।
অতএব আজকের বাস্তবতায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো— সংকটকে রাজনৈতিক হাতিয়ার না বানিয়ে বাস্তবসম্মত সমাধানের দিকে মনোযোগ দেওয়া। কৃষি খাতে সারের স্থিতিশীল সরবরাহ নিশ্চিত করা, বিদ্যুৎ খাতে বিকল্প জ্বালানি উৎস বাড়ানো, জনগণকে মিতব্যয়ী হতে উৎসাহিত করা এবং আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার জন্য আগাম প্রস্তুতি নেওয়া— এসব বিষয়েই গুরুত্ব দিতে হবে।
ইতিহাস প্রায়ই নিজেকে পুনরাবৃত্তি করে বলে একটি কথা প্রচলিত আছে। তবে সেই পুনরাবৃত্তি যেন কেবল রাজনৈতিক দোষারোপের চক্রে সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে জাতীয় স্বার্থ রক্ষার পথ খুঁজে পাওয়াই যেন প্রধান লক্ষ্য হয়ে ওঠে— সেটিই হওয়া উচিত আমাদের প্রধান লক্ষ্য।
লেখক: শিক্ষার্থী, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের ইরান আক্রমণের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে শুরু হয়েছে এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ। এর মধ্যে হরমুজ প্রণালি বন্ধ, তেল শোধনাগারগুলার ওপর হামলা, তেলের ট্যাংকার বিস্ফোরণের মতো ঘটনাবলি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারকে অস্থির করে তুলেছে।
বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানির দামে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশেও। তেলের ডিপোগুলোতে দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে। চাহিদার অতিরিক্ত তেল সংগ্রহের ফলে ডিপোগুলো সাময়িক বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছে কর্তৃপক্ষ।
যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে এ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে। সেই সুযোগ গ্রহণ করতে পারে ক্ষমতাসীন বিএনপির বিরোধী পক্ষ। তারা বিএনপিকে ঘায়েল করার জন্য কথায় কথায় যেমন ২০০১-০৬ শাসনামলের তীব্র সার-বিদ্যুৎ সংকটকে টেনে আনে, এবারেও তার ব্যতিক্রম হবে না হয়তো।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রায়ই দেখা যায় এমন অবস্থা। আন্তর্জাতিক কোনো বড় ঘটনা দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিতর্ককে নতুন মাত্রা দেয়। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ বা অস্থিরতা বাংলাদেশের অর্থনীতি, কৃষি ও জ্বালানি খাতের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে।
ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, বিএনপি ক্ষমতায় আসার সময়গুলোর সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের বড় যুদ্ধের সময়কাল মিলে গেছে, যার প্রভাব দেশের কৃষি ও বিদ্যুৎ খাতে অনুভূত হয়েছে। ফলে এসব সংকটকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কও তীব্র হয়েছে।
১৯৯১ সালে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার আগেই শুরু হয় মধ্যপ্রাচ্যের বড় সংঘাত— প্রথম উপসাগরীয় যুদ্ধ। এ যুদ্ধের ফলে আন্তর্জাতিক তেল বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয় এবং জ্বালানির দাম বেড়ে যায়। বাংলাদেশ তখনো জ্বালানি ও সারের ক্ষেত্রে আমদানিনির্ভর ছিল। ফলে যুদ্ধের প্রভাব কৃষি উৎপাদন ও বিদ্যুৎ খাতে চাপ তৈরি করে। অনেক জায়গায় সারের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয় এবং বিদ্যুৎ খাতেও নানা ধরনের সংকট দেখা দেয়।
এরপর আবার ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা শুরু হয় ২০০৩ সালের দ্বিতীয় উপসাগরীয় যুদ্ধের মধ্য দিয়ে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে আফগানিস্তান ও মধ্যপ্রাচ্য ঘিরে যে যুদ্ধ হয়, তার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব বিশ্ব জ্বালানি বাজারে পড়ে।
এ সময়েও বাংলাদেশের কৃষি খাতে সারের সরবরাহ ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যয় নিয়ে নানা ধরনের সমস্যা তৈরি হয়। ফলে রাজনৈতিক অঙ্গনে তখনো ‘সার ও বিদ্যুৎ সংকট’ একটি বড় বিতর্কের বিষয় হয়ে ওঠে।
বর্তমান পরিস্থিতিও অনেকের কাছে সেই পুরোনো অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা তৈরি করছে। কারণ এ বছর বিএনপি আবার ক্ষমতায় আসার পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধ শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সমন্বিত হামলার পর ইরানের পালটা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আক্রমণে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এ সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে ও আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিতে পারে, বিশেষ করে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল এ সংকীর্ণ সমুদ্রপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ইরানের বিপ্লবী গার্ড হুমকি দিয়ে রেখেছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে কোনো জাহাজ যেন না চলাচল করে।
যুদ্ধ পরিস্থিতি আর ইরানের হুমকির কারণে এরই মধ্যে এ রুট দিয়ে জ্বালানি সরবরাহের শৃঙ্খল ব্যাহত হয়েছে, যার প্রভাবে তেলের দামও বেড়ে গেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে গত ১৭ ফেব্রুয়ারিতেও প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের দাম ছিল ৬১ ডলার। এর বিপরীতে বৃহস্পতিবারের তথ্য বলছে, মার্কিন বেঞ্চমার্ক ক্রুড অয়েলের দাম আগের দিনের চেয়ে প্রতি ব্যারেলে ২ দশমিক ৫৯ ডলার বেড়ে ৭৭ দশমিক ২৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা গত এক বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড হিসেবে পরিচিত ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৮২ দশমিক ৮৭ ডলারে পৌঁছে গেছে।
মূলত ইরান-যুক্তরাষ্ট্র বৈঠক ফলহীন হওয়ার পর থেকেই বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বাড়ছিল। সাম্প্রতিক সামরিক পদক্ষেপের পর দাম আরও ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার নতুন আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা সরাসরি হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরশীল। দেশের প্রায় ৯০ শতাংশ প্রাথমিক জ্বালানি এই রুট দিয়েই আমদানি হয়। এর মধ্যে রয়েছে অপরিশোধিত তেল, পরিশোধিত জ্বালানি ও এলএনজি।
সৌদি আরব, ইরাক ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো প্রধান সরবরাহকারীদের কাছ থেকে জ্বালানি আনার ক্ষেত্রে বাস্তবে কোনো বিকল্প সমুদ্রপথ নেই। ফলে তার প্রভাব আবারও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে পড়বে, যা বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশের জন্য নতুন চাপ তৈরি করতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে কৃষি খাতে সারের সরবরাহ ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যয় বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
কিন্তু প্রশ্ন হলো— এই সংকটের জন্য দায়ী কে? বৈশ্বিক যুদ্ধ ও জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা কি কোনো একক সরকারের নিয়ন্ত্রণে? নাকি এটি আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির অনিবার্য প্রভাব?
বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় দেখা যায়, অর্থনৈতিক বা সরবরাহজনিত সংকট তৈরি হলেই তা দ্রুত রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হয়। অতীতের মতো এবারও যদি সারের সরবরাহ বা বিদ্যুৎ খাতে চাপ তৈরি হয়, তাহলে বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি স্বাভাবিকভাবেই তার দায় সরকারের ওপর চাপানোর চেষ্টা করবে। কিন্তু ইতিহাসের দিকে তাকালে বোঝা যায়— এ ধরনের সংকট অনেক সময় আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির ফলাফল, যা কেবল অভ্যন্তরীণ নীতির মাধ্যমে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়।
অতএব আজকের বাস্তবতায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো— সংকটকে রাজনৈতিক হাতিয়ার না বানিয়ে বাস্তবসম্মত সমাধানের দিকে মনোযোগ দেওয়া। কৃষি খাতে সারের স্থিতিশীল সরবরাহ নিশ্চিত করা, বিদ্যুৎ খাতে বিকল্প জ্বালানি উৎস বাড়ানো, জনগণকে মিতব্যয়ী হতে উৎসাহিত করা এবং আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার জন্য আগাম প্রস্তুতি নেওয়া— এসব বিষয়েই গুরুত্ব দিতে হবে।
ইতিহাস প্রায়ই নিজেকে পুনরাবৃত্তি করে বলে একটি কথা প্রচলিত আছে। তবে সেই পুনরাবৃত্তি যেন কেবল রাজনৈতিক দোষারোপের চক্রে সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে জাতীয় স্বার্থ রক্ষার পথ খুঁজে পাওয়াই যেন প্রধান লক্ষ্য হয়ে ওঠে— সেটিই হওয়া উচিত আমাদের প্রধান লক্ষ্য।
লেখক: শিক্ষার্থী, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

বাংলাদেশ এই দুই সংকটের অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক অভিঘাতের পরিধির ভেতরেই অবস্থান করছে। সর্বোত্তম পরিস্থিতিতে যদি সংঘাতগুলো সীমাবদ্ধ থাকে এবং বৃহত্তর আঞ্চলিক বিস্তারে না গড়ায়, তবে ঢাকা তার দীর্ঘদিনের ভারসাম্যপূর্ণ কূটনৈতিক কৌশল বজায় রাখতে পারবে— কঠোর কোনো পক্ষ না নিয়ে পশ্চিমা অংশীদার, উপসাগরীয় রাষ্ট
৫ দিন আগে
প্রশাসন, আইন ও প্রতিষ্ঠানগুলো মানুষের সেবা করার বদলে অনেক সময় ক্ষমতার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। উপনিবেশবাদ, সামন্তবাদ কিংবা আধুনিক আমলাতান্ত্রিক কাঠামো— সব জায়গায় একই প্রশ্ন ফিরে এসেছে: রাষ্ট্র কি মানুষের জন্য, নাকি মানুষ রাষ্ট্রের জন্য?
৬ দিন আগে
বন্ধুত্বের ক্ষেত্রেও একই বাস্তবতা। বন্ধুর কোনো কথায় কষ্ট পাওয়া, ভুল বোঝা বা ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়া— এসব মানবিক। প্রকৃত বন্ধুত্বের সৌন্দর্য এখানেই যে সেখানে ক্ষমা আছে, সংশোধনের সুযোগ আছে। যে সমাজে ক্ষমা নেই, সেখানে সম্পর্ক দীর্ঘস্থায়ী হয় না।
৭ দিন আগে
এই সাহসিকতার মূল্য তাকে দিতে হয় জীবনের বিনিময়ে। হত্যাকারীরা তার কাছ থেকে মাইক কেড়ে নেয়, লোহার স্ট্যান্ড দিয়ে নির্মমভাবে আঘাত করে, শরীর ক্ষতবিক্ষত করে এবং পরে গুলি চালায়। এরপর তাকে গণকবরে নিক্ষেপ করা হয়।
১০ দিন আগে