ইউক্রেনে রাতভর হামলা, জেলেনস্কি বললেন পুতিনের জন্মদিনে রুশ বাহিনীর ‘উপহার’

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
রাশিয়ার হামলায় বিধ্বস্ত ইউক্রেনের আবাসিক ভবন। ছবি: সংগৃহীত
রাশিয়ার হামলায় বিধ্বস্ত ইউক্রেনের আবাসিক ভবন। ছবি: সংগৃহীত

ইউক্রেন জুড়ে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী। রাতভর চালানো এসব হামলায় অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় চেরনিহিভ অঞ্চলের প্রিলুকি শহরে পাঁচতলা একটি আবাসিক ভবনে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে তিন শিশুসহ নিহত হয়েছেন অন্তত ৯ জন। আহত হয়েছেন ৩৮ জন।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই হামলাকে ‘ঘৃণ্য’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। অভিযোগ করেছেন, রুশ বাহিনী পরিকল্পিতভাবে বেসামরিক মানুষকে হত্যা ও আবাসিক ভবন ধ্বংস করেছে। ব্যাঙ্গ করে তিনি আরও বলেছেন, এই হামলার মাধ্যমে যেন রুশ বাহিনী দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে জন্মদিনের ‘উপহার’ দিয়েছেন।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও এএফপির খবরে বলা হয়েছে, বুধবার (৭ অক্টোবর) ছিল পুতিনের জন্মদিন। এ দিনটির প্রথম প্রহর তথা মঙ্গলবার দিবাগত মধ্যরাত থেকেই ইউক্রেনের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাতে শুরু করে রুশ বাহিনী।

এ হামলার প্রতিক্রিয়া জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জেলেনস্কি লিখেছেন, ‘আজ পুতিনের জন্মদিনে রুশ সেনাবাহিনী তাকে প্রিলুকির একটি আবাসিক ভবনের ধ্বংসযজ্ঞ উপহার দিয়েছে। অথচ এটি ছিল সাধারণ একটি পাঁচতলা আবাসিক ভবন।’

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, রাশিয়া এমনভাবে হামলা চালাতে চেয়েছে, যেন ইউক্রেন সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং হামলার ব্যাপকতা সবার কাছে দৃশ্যমান থাকে।

ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষের প্রকাশ করা ভিডিওতে দেখা যায়, একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রিলুকির পাঁচতলা ভবনটিতে আঘাত হানছে। এতে ভবনটি ধসে পড়ে এবং ভেতরে থাকা বাসিন্দারা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েন। পরে উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে জীবিতদের সন্ধানে অভিযান চালান।

ইউক্রেনের বিমানবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, রাতভর হামলায় রাশিয়া ৭০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও জেটচালিত ৪৬টি ড্রোন ব্যবহার করেছে। দেশটির ১১টি অঞ্চলে হামলা চালানো হয়।

রাতভর এ হামলায় যে ১৫ জন নিহত হয়েছেন তাদের মধ্যে রাজধানী কিয়েভে প্রাণ হারিয়েছেন দুজন। মধ্যাঞ্চলীয় ক্রেমেনচুক ও ওলেক্সান্দ্রিয়ার হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন আরও চার বেসামরিক নাগরিক। দিনিপ্রো শহরেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানিয়েছে, দ্রুতগতির ড্রোনগুলোর ৮০ শতাংশের কিছু বেশি ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে তারা। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ড্রোন প্রতিহত করার হার যেখানে সাধারণত ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ ছিল, সেখানে এটি কিছুটা উন্নতি। তবে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার ক্ষেত্রে ইউক্রেন এখনো বড় চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে।

জেলেনস্কি বলেছেন, রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে ইউক্রেনের সক্ষমতা সীমিত। এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার জন্য প্রয়োজনীয় ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করতে মিত্রদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। বলেছেন, ‘এই মুহূর্তে আকাশ প্রতিরক্ষার সরঞ্জাম ও ক্ষেপণাস্ত্রের প্যাকেজ আমাদের জন্য অত্যন্ত জরুরি।’

ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা অভিযোগ করেছেন, রুশ সামরিক কর্মকর্তারা পুতিনকে তার পছন্দের জন্মদিনের উপহার দিয়েছেন— ‘যুদ্ধাপরাধ’। তিনি বলেন, ইউক্রেনের জনগণকে ব্যাপক বোমা হামলার মাধ্যমে আত্মসমর্পণে বাধ্য করার রুশ কৌশল সফল হবে না।

সিবিহার ভাষায়, ‘ইউক্রেনের জনগণ হাল ছাড়বে না। কারণ, এটি একটি জাতি ও রাষ্ট্র হিসেবে ইউক্রেনের টিকে থাকার প্রশ্ন।’ তিনি আরও বলেন, পুতিনের জন্য চূড়ান্ত উপহার হবে নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে তার বিচার হওয়া।

রাশিয়ায় ইউক্রেনের পালটা হামলা

রাশিয়ার হামলার জবাবে দেশটির ভেতরে অর্থনৈতিক ও সামরিক স্থাপনায় দূরপাল্লার হামলা চালানোর কথা জানিয়েছেন জেলেনস্কি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, পার্ম, সামারা ও আস্ত্রাখান অঞ্চলের দুটি তেল স্থাপনা এবং একটি প্রশিক্ষণকেন্দ্র এসব হামলার লক্ষ্য ছিল।

জেলেনস্কি বলেন, ‘আমাদের জনগণের ওপর রাশিয়ার প্রতিটি হামলার জবাবে ইউক্রেনের এসব পালটা হামলা ন্যায্য।’

এদিকে রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় অবকাশযাপনকেন্দ্র সোচির কাছাকাছি কৃষ্ণসাগরে একটি তেলবাহী জাহাজে আগুন লাগার ভিডিও প্রকাশ করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট। রুশ কর্মকর্তাদের দাবি, নৌ-ড্রোনের আঘাতে লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী জাহাজটিতে আগুন ধরে যায়। জাহাজটিতে থাকা অপরিশোধিত তেল খোলামেলাভাবে জ্বলছিল বলেও তারা জানান। জাহাজটির ভারতীয় ২৩ নাবিককে উদ্ধার করা হয়েছে বলে রুশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement