কালিনিনগ্রাদ অবরুদ্ধ হলে পারমাণবিক হামলার হুমকি রাশিয়ার

পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটো বাল্টিক সাগরের তীরে অবস্থিত রুশ ভূখণ্ড কালিনিনগ্রাদকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করলে রাশিয়া পারমাণবিক অস্ত্রসহ পুরো অস্ত্রভান্ডার ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত বলে সতর্ক করেছে। ন্যাটোর সদস্য দেশগুলোর কাছে পাঠানো একটি কূটনৈতিক নথিতে এ হুমকি দেওয়া হয়েছে।
আল জাজিরার খবরে বলা হয়, বুধবার পাঠানো ওই নথিতে রাশিয়া দাবি করেছে, ‘ন্যাটো কালিনিনগ্রাদে আকাশ ও নৌ অবরোধের প্রস্তুতি নিচ্ছে’— এমন তথ্য মস্কোর কাছে রয়েছে। কালিনিনগ্রাদকে ঘিরে ন্যাটো কোনো পদক্ষেপ নিলে তার জবাব দেওয়া হবে বলেও নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
রাশিয়ার এই অবস্থানের প্রতিক্রিয়ায় ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে বলেছেন, ন্যাটো একটি প্রতিরক্ষামূলক জোট। তিনি রাশিয়াকে ‘পারমাণবিক হুমকি বন্ধ করার’ আহ্বান জানিয়েছেন। মস্কোর পাঠানো কূটনৈতিক নথিকে তিনি সহায়ক নয় বলেও মন্তব্য করেছেন।
রুটে বলেন, ন্যাটোর সঙ্গে সরাসরি সংঘাত বাড়লে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ‘কখনোই জিততে পারবেন না’— এটা পুতিন জানেন।
পোল্যান্ড ও লিথুয়ানিয়ার মাঝখানে বাল্টিক সাগরের তীরে কালিনিনগ্রাদের অবস্থান। দুই দেশই ন্যাটোর সদস্য। রাশিয়ার এই ভূখণ্ডটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। সেখানে দেশটির বাল্টিক নৌবহর এবং পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম ইস্কান্দার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা রয়েছে।
ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরুর সাড়ে চার বছরেরও বেশি সময় পর কালিনিনগ্রাদকে ঘিরে মস্কো ও ন্যাটোর মধ্যে এমন পাল্টাপাল্টি অবস্থান সামনে এল। ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব আশপাশের দেশগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ায় ইউরোপের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে এই উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহে নিজেদের আকাশসীমায় কথিত অনুপ্রবেশের ঘটনার পর পোল্যান্ড আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা আরও জোরদার করেছে। এ ছাড়া ডেনমার্কের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুই সপ্তাহ আগে বাল্টিক সাগরের ওপর একটি ডেনিশ সামরিক হেলিকপ্টারের কাছাকাছি রাশিয়ার একটি যুদ্ধজাহাজ থেকে দুটি ফ্লেয়ার (আলোকসংকেত) ছোড়া হয়েছিল।
















-38a187.jpg)


