মানিক পশারীর দাফনে বাধা: পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের নিন্দা-প্রতিবাদ

বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ। একই সঙ্গে পিরোজপুরে তার মরদেহ দাফনে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের বাধা দেওয়ার অভিযোগে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে সংগঠনটি।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) দেওয়া এক বিবৃতিতে সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক ড. এম অহিদুজ্জামান ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান এ নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
বিবৃতিতে বলা হয়, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য জীবন বাজি রেখে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছেন। তার প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন এবং মৃত্যুর পর মর্যাদার সঙ্গে শেষ বিদায় নিশ্চিত করা নৈতিক, মানবিক ও জাতীয় দায়িত্ব। তার মরদেহ দাফনে বাধা দেওয়া মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মানবিক মূল্যবোধের পরিপন্থি।
ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, মানবিক মর্যাদা, আইনের শাসন ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে।
পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামের বাসিন্দা মানিক পশারী ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় মেয়ের বাড়িতে ছিলেন। দুই মাস অসুস্থ থাকার পর শনিবার সকাল ১০টার দিকে সেখানে তার মৃত্যু হয়। পরে দুপুর ১২টার দিকে স্বজনরা মরদেহ নিয়ে পিরোজপুর সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে গেলে জেলা জামায়াতের নেতাকর্মীদের বাধার মুখে পড়েন বলে অভিযোগ ওঠে।
মানিক পশারী আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জামায়াতে ইসলামীর সাবেক নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী ছিলেন। এ কারণে তার মরদেহে রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদর্শন ও পিরোজপুরে দাফনের ক্ষেত্রে জামায়াতের নেতাকর্মীরা বাধা দেন বলে অভিযোগ করেছেন স্বজনরা।
পরে জেলা পুলিশের সহায়তায় মরদেহটি পুলিশ লাইনসে নেওয়া হয়। সেখানে বিকেল পাঁচটার দিকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। এরপর নিরাপত্তার জন্য মরদেহ ঘিরে রাখা হয়। তবে স্থানীয় কিছু লোক পিরোজপুরে তাকে দাফন না করার দাবি তোলেন। শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানেও জামায়াতের নেতাকর্মীদের অবস্থান করতে দেখা যায়।
পরিস্থিতির কারণে শেষ পর্যন্ত রাত একটার দিকে সদর থানা-পুলিশের সহায়তায় মরদেহ চিতলিয়া গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যান স্বজনরা। রাত দুইটার দিকে পুলিশি পাহারায় সেখানে তাকে দাফন করা হয়। মরদেহ পিরোজপুরে পৌঁছানোর প্রায় ১৪ ঘণ্টা পর দাফন সম্পন্ন হয়।
















-c173ff-256x144.webp)
