৬৩ কোটি টাকা ‘আত্মসাৎ’: সাবেক ভূমিমন্ত্রীসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ। ছবি: সংগৃহীত
সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ। ছবি: সংগৃহীত

নামসর্বস্ব একটি প্রতিষ্ঠানকে সরবরাহকারী দেখিয়ে আরামিট সিমেন্টের নামে ২৭টি ভুয়া চুক্তির মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংকের ৬৩ কোটি ৭৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, তার স্ত্রীসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মঙ্গলবার দুদকের চট্টগ্রাম-১ সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে মামলাটি করা হয়।

দুদকের উপপরিচালক মশিউর রহমান বলেন, “চট্টগ্রামের ইসলামী ব্যাংক জুবলী রোড শাখা থেকে আরামিটের এজিএম জাহাঙ্গীর আলমকে সরবরাহকারী ও ব্যবসায়ী দেখিয়ে ৬৩ কোটি টাকা আত্মসাতের দায়ে দুদক টিমের পক্ষে উপসহকারি পরিচালক (ডিএডি) রুবেল হোসেন বাদী হয়ে সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও অন্যান্যরাদের আসামি করে মামলাটি করেন।”

মামলার আসামিদের মধ্যে সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ ছাড়াও রয়েছেন আরামিট সিমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবি) সাবেক চেয়ারম্যান রুকমীলা জামান, আরামিট সিমেন্টের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা ও ইউসিবির সাবেক পরিচালক মোহাম্মদ শাহ আলম এবং আরামিট সিমেন্টের এজিএম একেএম মারুফ।

অন্য আসামিরা হলেন— ক্লাসিক ট্রেডিংয়ের মালিক ও আরামিট পিএলসির এজিএম মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, ইসলামী ব্যাংকের জুবলী রোড শাখার প্রিন্সিপাল অফিসার মো. মহিউদ্দিন, প্রিন্সিপাল অফিসার (বিনিয়োগ) মোহাম্মদ আখতার হোসেন, প্রিন্সিপাল অফিসার ও জেনারেল ব্যাংকিং ইনচার্জ মোহাম্মদ আব্দুল হক, ইনভেস্টমেন্ট ইনচার্জ মো. আবদুল কাদের, শাখাটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপক মুহাম্মদ আবদুল করিম, সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার মো. শহিদুল্লাহ, এফএভিপি মুহাম্মদ নিজাম উদ্দীন, এসভিপি আবুল কালাম আজাদ, এসভিপি মোহাম্মদ মহসীন আলী এবং এসপিও রিদওয়ানুল হক।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, পরষ্পর যোগসাজোশে প্রতারণা, জালিয়াতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে সাইফুজ্জামান চৌধুরীর মালিকানাধীন আরামিট গ্রুপভুক্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী এজিএম (হিসাব) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমকে মালিক সাজিয়ে নামসর্বস্ব ক্লাসিক ট্রেডিংকে সরবরাহকারী এবং আরামিট সিমেন্টকে মালামাল গ্রহণকারী দেখানো হয়।

এজাহারে আরও বলা হয়, কোনো মালামাল সরবরাহ না করেই ভুয়া ও মিথ্যা তথ্য সম্বলিত কাগজপত্র তৈরি ও ব্যাংকে দাখিল করে বাই মুরাবাহা ডিল (ঋণ) অনুমোদন করে সাইফুজ্জামান চৌধুরীর মালিকানাধীন আরামিট গ্রুপভুক্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীর নামে ব্যাংক হিসেবে স্থানান্তর করা হয়।

এজাহার অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ২৪ অক্টোবর থেকে ২০২০ সালের ৯ নভেম্বর পর্যন্ত স্থানীয় বাজার থেকে সিমেন্ট কারখানার কাঁচামাল সরবরাহের কথা উল্লেখ করে ভুয়া ও জাল ইনভয়েস জমা দেওয়া হয়। ক্লিংকার, জিপসাম, চুনাপাথর ও স্ল্যাগসহ বিভিন্ন কাঁচামাল সরবরাহের দাবি করা হলেও বাস্তবে কোনো পণ্য সরবরাহ করা হয়নি বলে অভিযোগ করেছে দুদক।

দুদকের অনুসন্ধানে ক্লাসিক ট্রেডিংয়ের ঠিকানায় কোনো কার্যালয় বা গুদামের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। প্রতিষ্ঠানটির আমদানি-রপ্তানিরও কোনো প্রমাণ মেলেনি। তা সত্ত্বেও ব্যাংক কর্মকর্তারা যথাযথ যাচাই ছাড়াই এসব লেনদেন প্রক্রিয়া করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এজাহারে বলা হয়, ২০১৭ সালে আরামিট সিমেন্টের জন্য ৩৫০ কোটি টাকার কার্যকরী মূলধন ঋণ অনুমোদন করা হয়। পরে ৫৪টি বাই-মুরাবাহা চুক্তির মাধ্যমে ২০৫ কোটি ৭ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে ২৭টি চুক্তির মাধ্যমে ৬৩ কোটি ৭৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে এ মামলা করা হয়েছে।

দুদক জানিয়েছে, এসব অভিযোগে দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ৪০৯, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ১০৯ ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় মামলাটি করা হয়েছে। দুদকের প্রধান কার্যালয় গত ১৯ অক্টোবর মামলাটির অনুমোদন দেয়।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad