স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত এক দিনে হামের উপসর্গ নিয়ে সিলেট বিভাগে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে শনিবার পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও উপসর্গে মোট ৪৫৩ শিশু প্রাণ হারিয়েছে।
মুগদা মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. শাহাবুল হুদা চৌধুরী বলেন, বয়স ৫০-এর কাছাকাছি গেলে অর্ধেকের বেশি মানুষ উচ্চ রক্তচাপ বা এর ঝুঁকিতে পড়েন। উদ্বেগের বিষয় হলো, তরুণ কর্মজীবীদের মধ্যেও উচ্চ রক্তচাপ বাড়ছে।
অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত দেড় মাসে সারা দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৪৫১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে পরীক্ষায় নিশ্চিত হামে মারা গেছে ৭৪ জন এবং উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৩৭৭ জন।
দেশে হাম ও হামের উপসর্গে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ১ শিশু হামের উপসর্গে এবং ৬ শিশু নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে বলে নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
দেশজুড়ে হাম ও উপসর্গে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে ১ জন ও উপসর্গ নিয়ে ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি এই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৬১৫ শিশুরর শরীরে হাম ও এর উপসর্গ পাওয়া গেছে।
তিনি আরও জানান, বিগত সময়ে কেন হামের টিকা দেওয়া হয়নি, সে বিষয়টি তদন্ত করে দেখবে সরকার। এসময় জুন মাস থেকে দুই ধাপে ভিটামিন এ ক্যাপসুল দেয়া হবে বলেও জানান তিনি।
আটলান্টিক মহাসাগরের উত্তাল জলরাশির মাঝখানে ভাসছে একটি বিলাসবহুল ডাচ প্রমোদতরি। কিন্তু সেখানে ছিল না অবকাশযাপনের আনন্দ কিংবা সমুদ্রভ্রমণের উচ্ছ্বাস। চারপাশে গভীর সমুদ্র, জাহাজে যাত্রীদের মুখে মাস্ক, ডেকে স্বাস্থ্যকর্মীদের সতর্ক টহল, আর ভেতরে এক অদৃশ্য আতঙ্ক— হান্টাভাইরাস।
গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে ৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে হামে ৩ জন এবং হামের উপসর্গে ৬ জন মারা গেছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়ালো ৩৫২ জনে।
সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গে আরো ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এসময় নতুন করে হামে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এক হাজার ৪৯৪ জন।
সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গে ১২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছে বলে নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। বাকি ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গ নিয়ে।
দেশে হাম ও হামের উপসর্গে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও সাত শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে হামে আক্রান্ত হয়ে দুই শিশু ও উপসর্গ নিয়ে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে।
হাম ও হামের উপসর্গে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ৪৪৫ জন শিশু।
সোমবার (৪ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ১৭ শিশুর মধ্যে হামে আক্রান্ত হয়ে দুই শিশু ও উপসর্গ নিয়ে ১৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই হিসাব গতকাল রোববার সকাল ৮টা থেকে আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত।
মানুষের দৈনন্দিন জীবনে ঘাড় ও কোমরের ব্যথা এখন এক নীরব মহামারীর মতো ছড়িয়ে পড়েছে। আগে যেখানে এই ধরনের সমস্যা প্রধানত বয়স্কদের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল, এখন তা তরুণ-যুবক থেকে শুরু করে কর্মজীবী— প্রায় সবার মধ্যেই দেখা যাচ্ছে। এই ব্যথার অন্যতম প্রধান কারণ হলো স্পন্ডাইলোসিস।
‘এমভি হোন্ডিয়াস’ নামে ডাচ এই প্রমোদতরি প্রায় ১৫০ জন যাত্রী নিয়ে তিন সপ্তাহ আগে আর্জেন্টিনা থেকে যাত্রা শুরু করে। কেপ ভার্দে যাওয়ার পথে এটি অ্যান্টার্কটিকা ও আরও কিছু স্থানে এটি যাত্রা বিরতি করেছিল। পথেই মিলেছে হান্টভাইরাসের সংক্রমণের খবর।
ঢাকার মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের সিনিয়র কনসালট্যান্ট সুব্রত রায় বলেন, ‘আগে দুই ডোজ টিকা দেওয়া থাকলেও হাম ছড়িয়ে পড়ার কারণে অনেকে ঝুঁকির মধ্যে থেকে যায়, যদি তাদের অ্যান্টিবডি সেভাবে গড়ে না ওঠে। সে কারণে বুস্টার ডোজে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।’
সারা দেশে হাম ও হামের উপসর্গে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১০ শিশু মারা গেছে। এর মধ্যে এক শিশুর হাম শনাক্ত হয়েছিল। হামের উপসর্গ ছিল ৯ শিশুর।