অনলাইন জুয়ায় জড়িয়ে ঋণগ্রস্ত, সরকারি কর্মচারীর আত্মহত্যা

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি
আপডেট : ০৮ মে ২০২৬, ১৩: ৫৬
আত্মহত্যার প্রতীকী ছবি
আত্মহত্যার প্রতীকী ছবি

অনলাইন জুয়ায় জড়িয়ে দেড় কোটি টাকার দেনা-পাওনা নিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ার পর গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন রাজস্ব বিভাগের আমিনুল ইসলাম নামে এক কর্মচারী। মৃত্যুর আগে দেওয়া ওই স্ট্যাটাসে তিনি এক ব্যাংক কর্মকর্তাকে দায়ী করে গেছেন।

গত বুধবার (৬ মে) রাতে বাড়ির রান্নাঘরের ধরনার সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন আমিনুল। তিনি গোপালপুর উপজেলার সৈয়দপুর তহসিল অফিসের অফিস সহকারী ছিলেন।

নিহত আমিনুলের বাড়ি গোপালপুর উপজেলার চাতুটিয়া গ্রামে। তার তিন বছরের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। স্ত্রী বর্তমানে তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা।

আত্মহত্যার আগে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক আবেগঘন স্ট্যাটাসে আমিনুল ইসলাম উল্লেখ করেন, গোপালপুর অগ্রণী ব্যাংকের প্রিন্সিপাল অফিসার সাদেক আরমান তাকে অনলাইন জুয়ার সঙ্গে যুক্ত করেন।

একপর্যায়ে ওই ব্যাংক কর্মকর্তা তার কাছ থেকে প্রায় দেড় কোটি টাকা ধার নেন। তবে দীর্ঘদিনেও সেই টাকা ফেরত দেননি। উলটো ব্যাংকের চেকে স্বাক্ষর নিয়ে তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল বলেও স্ট্যাটাসে দাবি করেন তিনি।

নিহতের বাবা ভোলা মিয়া জানান, অনলাইনে বাজি খেলতে গিয়ে তার ছেলে ঋণের জালে জড়িয়ে পড়েন। পাশাপাশি ব্যাংক কর্মকর্তার কাছে পাওনা বিপুল অঙ্কের টাকাও ফেরত পাচ্ছিলেন না। পাওনাদারদের চাপ ও মানসিক দুশ্চিন্তায় আমিনুল ভেঙে পড়েছিলেন।

তিনি আরও জানান, পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন আমিনুল। ভোলা মিয়ার অভিযোগ, পাওনা টাকা নিয়ে হতাশা ও মানসিক চাপে তার ছেলে আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন তিনি।

এদিকে ব্যাংক অফিসার আরমানকে বারবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। তার পরিবারের সদস্যরা দাবি করেন, আমিনুলের কাছ থেকে নেওয়া টাকা সময়মতো পরিশোধ করা হয়েছে। ফেসবুকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা অভিযোগ তুলে তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

অগ্রণী ব্যাংক গোপালপুর শাখার ভারপ্রাপ্ত প্রধান সোলায়মান কবীর জানান, সাদেক আরমান বৃহস্পতিবার ব্যাংকে উপস্থিত হননি। তিনি হয়তো ছুটিতে রয়েছেন।

গোপালপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. নবাব আলী জানান, নিহতের পরিবারকে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

গোপালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ার হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement