ধানখেতে স্কুলছাত্রীর লাশ: ধর্ষণের পর হত্যার দায় স্বীকার সুমনের
-c79025-480x270.webp)
কুমিল্লার লালমাইয়ে ধানখেত থেকে সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী জান্নাতুল তাজমিনের (১৫) লাশ উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেপ্তার সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক সুমন মিয়া (৩৫) ধর্ষণের পর হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। কুমিল্লার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন তিনি। পরে তাকে কুমিল্লা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
শনিবার (১০ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩টায় কুমিল্লার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ৬ নম্বর আমলি আদালতের বিচারক মমিনুল হকের কাছে সুমনকে হাজির করা হয়। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেন কুমিল্লা আদালতের পরিদর্শক সাদেকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আজ বিকালে আদালতের বিচারক মমিনুল হকের কাছে আসামি সুমন হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে। শনিবার রাত ৭টা ২০ মিনিটে তাকে কুমিল্লা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’
পুলিশের ভাষ্য, গত বুধবার রাতে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকা থেকে বাসায় পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে তাজমিনকে অটোরিকশায় তোলেন সুমন। ৩০০ টাকা ভাড়া ঠিক করে অটোরিকশায় ওঠার পর কিছু দূর গিয়ে ছাত্রীটি চালককে ১০০ টাকা দেয়। সেই টাকা দিয়ে কলা ও রুটি কিনে আনে সুমন। পরে শর্টকাট পথে বাসায় পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে তাকে কুমিল্লা-চাঁদপুর সড়ক ধরে বিজরা বাজার হয়ে লালমাইয়ের দিকে নিয়ে যান।
পুলিশ জানায়, নির্জন ও অন্ধকার একটি ধানখেতের পাশে অটোরিকশা থামায় সুমন। সেখানে তাজমিনকে ধর্ষণের চেষ্টা করলে সে চিৎকার করে। এ সময় তার গলায় গামছা পেঁচিয়ে ধরেন সুমন। পরে ধানখেতে নিয়ে ধর্ষণের পর তাকে হত্যা করেন। প্রাথমিক তদন্তে এ ঘটনায় সুমনের এককভাবে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শনিবার সকাল ১০টা ২০ মিনিটে কুমিল্লা জেলা পুলিশ কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) পঙ্কজ বড়ুয়া। এ সময় লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমানসহ জেলা পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, হত্যার পর ঘটনাস্থলে অটোরিকশাটি রেখে চলে যান সুমন। পরে একটি পুকুরে গোসল করে তাজমিনের আইফোনটি জঙ্গলে রেখে চট্টগ্রামে পালিয়ে যান তিনি। সেখানে নিজের ভাইয়ের বাসায় আত্মগোপন করেছিলেন সুমন। শুক্রবার চট্টগ্রাম থেকে তাকে আটক করে পুলিশ। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কিশোরীর ব্যবহৃত আইফোনটিও উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, সুমন ভাড়ায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালাতেন। তার বাড়ি চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায়। নিজের বাড়িতে জমিজমা ও ঘর না থাকায় সে লালমাই উপজেলায় শ্বশুরবাড়িতে থাকতেন। বেশির ভাগ সময় রাতে পদুয়ার বাজার ও আশপাশের এলাকায় যাত্রী পরিবহন করতেন।
বাবাকে লাইভ লোকেশন পাঠিয়েছিল তাজমিন
ঘটনার রাতে বাবার মোবাইল ফোনে নিজের লাইভ লোকেশন পাঠিয়ে বাঁচার আকুতি জানিয়েছিল তাজমিন। তবে সে সময় বার্তাটি দেখতে পাননি তার বাবা। ভোরে বার্তাটি দেখার পর ঘটনাস্থলে গিয়ে মেয়ের লাশ উদ্ধারের সময় পুলিশকে দেখতে পান তিনি।
গত বৃহস্পতিবার সকালে লালমাই উপজেলার পেরুল উত্তর ইউনিয়নের জগতপুর গ্রামের একটি ধানখেত থেকে ওই ছাত্রীর লাশ উদ্ধার করা হয়। তার পরিবারের বাড়ি যশোরে। পরিবারের সঙ্গে সে কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্স এলাকায় থাকত।

-c79025.jpg)










-c79025-256x144.webp)





