এনসিটি-ডিপি ওয়ার্ল্ড চুক্তির প্রতিবাদে আগারগাঁওয়ে বিক্ষোভ, পুলিশের লাঠিচার্জ

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৭: ৩২
সিপিবি-বাসদসহ বিভিন্ন সংগঠনের আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে লাঠিচার্জ করে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত
সিপিবি-বাসদসহ বিভিন্ন সংগঠনের আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে লাঠিচার্জ করে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার দায়িত্ব দুবাইভিত্তিক কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দেওয়ার প্রতিবাদে ঢাকার আগারগাঁওয়ে বিক্ষোভ করেছেন বামপন্থি বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের নেতাকর্মীরা। তবে বিক্ষোভকারীদের লাঠিচার্জ করে ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বেলা ২টা থেকে ইনভেস্ট বাংলাদেশের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন বিক্ষোভকারীরা। এর কিছুক্ষণ পর বেলা পৌনে ৩টার দিকে পুলিশ তাদের লাঠিপেটা করে সরিয়ে দেয়। পরে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে এনসিটি পরিচালনার জন্য ১৫ বছরের কনসেশন চুক্তি সই হয়।

প্রতিবাদ কর্মসূচিতে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টি, বাংলাদেশ জাসদ, বাসদ (মার্কসবাদী), বাংলাদেশ সাম্যবাদী আন্দোলন, সাম্রাজ্যবাদ ও যুদ্ধবিরোধী জোট, গণতান্ত্রিক ছাত্রজোট ও গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

সিপিবির ঢাকা মহানগর দক্ষিণ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুর মঈন অভিযোগ করেন, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে পুলিশ ব্যাপক লাঠিচার্জ করেছে। এতে সিপিবির সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দনসহ দলের অনেক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে তিনি জানান।

পরে নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে মঞ্জুর মঈন লেখেন, ‘সিপিবি সভাপতিকে মেরে আহত করার মধ্য দিয়ে তারেক রহমান সরকার রাজনৈতিক আন্দোলন দমনে রাষ্ট্রশক্তি ব্যবহারের যে যাত্রা শুরু করলো তার একটাই পরিণতি। মানুষের ঘৃণার সাগরে পতিত হয়ে সমাপ্তির দিকে দ্রুত অগ্রসর হওয়া।’

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া সিপিবির সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন বলেন, ‘আমরা আজ সাম্রাজ্যবাদ ও যুদ্ধবিরোধী জোট থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালের সঙ্গে ডিপি ওয়ার্ল্ডের চুক্তির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতেই বিডা ভবনের সামনে এসেছিলাম। আমরা মনে করি, এ চুক্তি বাংলাদেশকে বিক্রি করার শামিল। ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর সম্পৃক্ততা আছে, তাদের ওয়েবসাইটে গেলে বিষয়টি বোঝা যাবে।’

সাজ্জাদ জহির আরও বলেন, ‘ডিপি ওয়ার্ল্ডকে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল দেওয়ার মনে হলো, বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের ওপর আমেরিকা সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে পারবে। আমাদের নৌবন্দর, বিমানবন্দর— সব ব্যবহার করবে তারা।’

তিনি বলেন, ‘এর প্রতিবাদ করার জন্যই আজ আমরা এখানে এসেছি। আমাদের শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ছিল। শান্তিপূর্ণ সমাবেশের এক পর্যায়ে পুলিশ বিনা উসকানিতে লাঠিপেটা করে। আজ যাঁরা বাংলাদেশটাকে আমেরিকার কাছে, ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে বিক্রি করে দিচ্ছেন, তাঁরা আজীবন দেশের বিশ্বাসঘাতক, বেইমান হিসেবে চিহ্নিত হবেন। আমরা বামপন্থীরা লড়াইয়ের মাঠে থাকব। শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে হলেও আমরা দেশের বন্দর ও জাতীয় সম্পদ রক্ষা করব।’

চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ থেকে কনটেইনার ওঠানো-নামানোর চারটি প্রধান টার্মিনালের মধ্যে এনসিটি সবচেয়ে বড়। বিদেশি অপারেটরের হাতে টার্মিনালটির পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার উদ্যোগ অবশ্য আগেও নেওয়া হয়েছিল। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে পিপিপি ও সরকারি পর্যায়ে (জিটুজি) বিভিন্ন কাঠামোর আওতায় ডিপি ওয়ার্ল্ডকে এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তবে সেই উদ্যোগ চূড়ান্ত হয়নি।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার আবারও এনসিটি বিদেশি অপারেটরের হাতে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করে। এ নিয়ে চুক্তির আলোচনা জোরালো হলে বন্দরের শ্রমিক-কর্মচারীরা আন্দোলনে নামেন। পরে ৮ ফেব্রুয়ারি এনসিটি বিদেশি অপারেটরকে ইজারা দেওয়ার কার্যক্রম স্থগিত করে অন্তর্বর্তী সরকার।

পরে বিএনপির নতুন সরকার গত ৪ জুন ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যেতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেয়। সরকারের নির্দেশনার পর এ প্রক্রিয়ায় সহায়তার জন্য ১২ সদস্যের একটি সাপোর্ট টিম গঠন করে বন্দর কর্তৃপক্ষ।

এদিকে এনসিটি ইজারা দেওয়ার বিরোধিতায় কয়েক মাস ধরে কর্মসূচি পালন করছে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা কমিটি। গণঅনশন ও বিক্ষোভ মিছিলের পাশাপাশি গত সেপ্টেম্বরে একই দাবিতে আন্দোলনের ঘোষণা দেয় বন্দর শ্রমিক দল ও বন্দর রক্ষা পরিষদ। তবে নানা পক্ষের বিরোধিতা ও বিক্ষোভের মধ্যেই এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব পেল দুবাইভিত্তিক কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ড।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement