ডিপি ওয়ার্ল্ডকে টার্মিনাল ইজারা, প্রতিবাদে ইনভেস্ট বাংলাদেশের সামনে অবস্থান বামপন্থিদের
-dde4e8.jpg)
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার দায়িত্ব দুবাইভিত্তিক ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দেওয়ার উদ্যোগের প্রতিবাদে ঢাকার আগারগাঁওয়ে ইনভেস্ট বাংলাদেশের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়েছেন বামপন্থি বিভিন্ন দল ও সংগঠনের নেতাকর্মীরা। বৃহস্পতিবার দুপুরে এই কর্মসূচি পালন করেন তারা।
এ সময় এনসিটি বিদেশি কোম্পানির হাতে তুলে না দেওয়ার দাবিতে স্লোগান দেন আন্দোলনকারীরা। পরে তারা বক্তব্যও দেন। কর্মসূচিতে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টি, বাংলাদেশ জাসদ, বাসদ (মার্কসবাদী), বাংলাদেশ সাম্যবাদী আন্দোলন, সাম্রাজ্যবাদ ও যুদ্ধবিরোধী জোট, গণতান্ত্রিক ছাত্রজোট ও গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় ইনভেস্ট বাংলাদেশ অডিটোরিয়ামে এনসিটির কনসেশন চুক্তির আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দরের চারটি প্রধান কনটেইনার টার্মিনালের মধ্যে সবচেয়ে বড় এনসিটি। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেও এই টার্মিনাল বিদেশি অপারেটর দিয়ে পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। পিপিপি ও সরকারি পর্যায়ে (জিটুজি) বিভিন্ন কাঠামোর মাধ্যমে ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দায়িত্ব দেওয়ার সেই উদ্যোগ অবশ্য শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার আবারও এনসিটি বিদেশি অপারেটরের হাতে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করে। পরে চুক্তি নিয়ে আলোচনা এগোতে থাকলে বন্দরের শ্রমিক-কর্মচারীরা এর বিরোধিতা করে আন্দোলনে নামেন। পরিস্থিতির মধ্যে গত ৮ ফেব্রুয়ারি এনসিটি বিদেশি অপারেটরকে ইজারা দেওয়ার কার্যক্রম স্থগিত করা হয়।
সরকার পরিবর্তনের পর বিষয়টি আবার সামনে আসে। বিএনপির নতুন সরকার গত ৪ জুন ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রাখতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেয়। এরপর আলোচনায় সহায়তার জন্য ১২ সদস্যের একটি সাপোর্ট টিম গঠন করে বন্দর কর্তৃপক্ষ।
-def066.jpg)
এনসিটি বিদেশি কোম্পানির হাতে না দেওয়ার দাবিতে এরই মধ্যে কয়েক মাস ধরে আন্দোলন চালিয়ে আসছে বন্দর রক্ষা কমিটি। সংগঠনটি গণঅনশন ও বিক্ষোভ মিছিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছে। গত সেপ্টেম্বরে একই দাবিতে আন্দোলনের ঘোষণা দেয় বন্দর শ্রমিক দল ও বন্দর রক্ষা পরিষদ।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, বিদেশি অপারেটরের মাধ্যমে এনসিটি পরিচালিত হলে বন্দরের কাজের দক্ষতা বাড়বে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে কনটেইনার ওঠানো-নামানোর প্রক্রিয়াও দ্রুত হবে। পাশাপাশি লজিস্টিকস ও বন্দর অবকাঠামো খাতে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়বে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের পরিধি ও প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হবে। স্থানীয় জনবলের দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি আধুনিক বন্দর ব্যবস্থাপনার অভিজ্ঞতাও অর্জনের সুযোগ তৈরি হবে বলে সরকারের যুক্তি।
তবে আন্দোলনকারীদের অবস্থান এর বিপরীত। তাদের দাবি, বিদেশি কোম্পানির হাতে এনসিটির পরিচালনার দায়িত্ব গেলে চট্টগ্রাম বন্দর আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে এবং স্থানীয় দক্ষ কর্মশক্তি হারানোর আশঙ্কা রয়েছে। তাদের মতে, এর সঙ্গে দেশের ভূরাজনৈতিক নিরাপত্তার বিষয়টিও জড়িত।
আন্দোলনকারীরা বলছেন, বহুজাতিক কোম্পানিকে দীর্ঘমেয়াদে এনসিটির ইজারা দিলে সরকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হতে পারে, দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা চলে যেতে পারে। পাশাপাশি ‘কনসেশন’ চুক্তির আওতায় বিপজ্জনক পণ্য খালাসের সুযোগ তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও করছেন তারা।

















