টঙ্গীতে আগুন: ড্রাগ ইন্টারন্যাশনালের কারখানা বন্ধ ঘোষণা

গাজীপুরের টঙ্গীতে ড্রাগ ইন্টারন্যাশনালের কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের পর আগুন পুরোপুরি নির্বাপণ ও ডাম্পিংয়ের কাজ শেষ হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত কারখানার সব কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকালে কারখানার মূল ফটকে এ-সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি টাঙানো হয়। ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের কারখানা ইনচার্জ মোহাম্মদ আবু সাঈদের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত কারখানার কার্যক্রম বন্ধ রাখার কথা জানানো হয়েছে।
বুধবার সকাল ১০টা ১০ মিনিটে টঙ্গীর চেরাগ আলীতে অবস্থিত ওষুধ কারখানাটিতে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা মো. তালহা বিন জসিম জানান, খবর পেয়ে প্রথমে টঙ্গী ফায়ার স্টেশনের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়।
পরে বিভিন্ন ফায়ার স্টেশন থেকে আরও ১৭টি ইউনিট আগুন নেভানোর কাজে যোগ দেয়। তবে কারখানায় থাকা রাসায়নিক পদার্থ এবং ভবন নির্মাণে ব্যবহৃত অ্যালুমিনিয়াম পেপারের নিচে থাকা রাবারের কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে সেনাবাহিনী ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশও (বিজিবি) কাজ করে।
ফায়ার সার্ভিস জানায়, বুধবার বেলা ১টা ৫৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। পরে রাত ১০টা ২৫ মিনিটে আগুন পুরোপুরি নির্বাপণ করা হয়। রাত ১১টার দিকে ডাম্পিংয়ের কাজও শেষ হয়।
টঙ্গী ফায়ার স্টেশনের জ্যেষ্ঠ স্টেশন কর্মকর্তা মো. শাহিন আলম বলেন, ডাম্পিংয়ের কাজ শেষ করে রাত সাড়ে ১০টার পর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। সেখানে নতুন করে কোনো আশঙ্কা তৈরি হওয়ার সুযোগ নেই।
‘তিনতলার ছাদের শেড থেকে আগুনের সূত্রপাত’
ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, কারখানার তিনতলা ভবনের ছাদে থাকা একটি শেড থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে তা পাশের পাঁচতলা ভবনের তৃতীয় ও চতুর্থ তলায় ছড়িয়ে পড়ে।
তবে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো নির্ধারণ করা যায়নি। বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট বা যান্ত্রিক ত্রুটি থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
অগ্নিকাণ্ডে কারখানার যন্ত্রপাতি ও বিভিন্ন মালামাল পুড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ ছাড়া আগুনের ধোঁয়ায় এক শ্রমিক গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার সকালে কারখানার মূল ফটক দিয়ে নিরাপত্তাকর্মী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ভেতরে প্রবেশ করতে দেখা যায়। তবে শ্রমিকদের প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।
এদিকে কারখানার ফটকে জড়ো হওয়া গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেননি কর্তৃপক্ষের কেউ। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত কারখানার কার্যক্রম বন্ধ রাখার ঘোষণা ছাড়া অন্য কোনো তথ্যও জানানো হয়নি।



















