সঞ্জীবকে বাদ দিয়ে ফুটপাতের দেয়ালে রোকেয়া-জসীমউদ্দীন-জীবনানন্দের মুখ

রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দখলমুক্ত করা ফুটপাতের পাশের দেয়ালে আগের আঁকা ১১ ব্যক্তিত্বের মধ্যে গায়ক-গীতিকার-সাংবাদিক সঞ্জীব চৌধুরী প্রতিকৃতি মুছে ফেলা হয়েছে। এর বদলে দেয়ালে যুক্ত করা হয়েছে নতুন তিন মুখ— নারী জাগরণের অগ্রদূত রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন, পল্লিকবি জসীমউদ্দীন ও কবি জীবনানন্দ দাশ।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) বলছে, সঞ্জীব চৌধুরীসহ তার সমসাময়িক তারকা ব্যক্তিত্ব যারা আছেন, তরুণদের বিবেচনায় রেখে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় তাদের প্রতিকৃতি নিয়ে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) উদ্যোগে সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিসংলগ্ন ফুটপাতের সৌন্দর্যবর্ধনের অংশ হিসেবে নতুন করে এই তিন গুণী ব্যক্তির ছবি আঁকা হয়। সঞ্জীব চৌধুরী বাদ পড়লেও আগে থেকেই সেখানে আরও ১০ গুণী ব্যক্তির মুখাবয়ব রয়েছে।
তারা হলেন— বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম, শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন, বাউল সাধক ফকির লালন শাহ, চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়, চিত্রশিল্পী এস এম সুলতান, শিক্ষাবিদ ও সমাজ সংস্কারক ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, কথাসাহিত্যিক ও চলচ্চিত্র পরিচালক জহির রায়হান, বাউল সম্রাট শাহ আবদুল করিম এবং অভিনেতা হুমায়ুন ফরীদি।
সম্প্রতি ফুটপাত দখলমুক্ত করতে ডিএসসিসির উদ্যোগের অংশ হিসেবে সেগুনবাগিচা ও আশপাশের এলাকায় সড়ক ও ফুটপাত দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ দোকানপাট ও স্থাপনা উচ্ছেদে সমন্বিত অভিযান চালানো হয়। সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে ফুটপাত সংস্কার ও সৌন্দর্যবর্ধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। দেয়াল অঙ্কনের কাজ শেষে গত ৫ অক্টোবর ফুটপাতটি উদ্বোধন করেন ডিএসসিসির প্রশাসক আবদুস সালাম।
ওই ফুটপাতে নতুন তিন প্রতিকৃতি অঙ্কন নিয়ে ডিএসসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মাহবুবুর রহমান তালুকদার বলেন, ফুটপাত দখলমুক্ত করে সৌন্দর্যবর্ধনের পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই গুণী এই তিন ব্যক্তির প্রতিকৃতি আঁকা হয়েছে। আরও গুণী মানুষের প্রতিকৃতি যুক্ত হবে। আমরা ওই এলাকার আরও কিছু দেয়াল নির্বাচন করেছি, সেগুলোতেও দ্রুত কাজ শুরু হবে।
সঞ্জীব চৌধুরীর প্রতিকৃতি মুছে ফেলার বিষয়ে মাহবুবুর রহমান বলেন, এখানে জায়গা পাওয়া অন্যদের সঙ্গে সঞ্জীব চৌধুরীর সময়ের একটা বিশাল ফারাক আছে। অনেকে বলেছেন, কেন আইয়ুব বাচ্চু নেই, কেন আজম খান নেই। তরুণদের নিয়েও আমাদের ভাবনা আছে। তাদের প্রতিকৃতিগুলো আমরা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় করার পরিকল্পনা রয়েছে।
সেগুনবাগিচায় ফুটপাতের দেয়ালে প্রতিকৃতি আঁকার পাশাপাশি পথচারীদের চলাচলের সুবিধার জন্য বসানো হয়েছে ডাস্টবিন ও বেঞ্চ। সংস্কার করা হয়েছে সীমানাপ্রাচীর।

















